সর্বশেষ সংবাদ :

দেশে আলু-পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করেছে ভারত ,তবুও সফলতার হাতছানি

নুরুজ্জামান,বাঘা :

আমাদের দেশের প্রয়াত আলোকিত মানুষ “বই পাগল পলান সরকার’’ বলতেন, আল্লাদিলে ফুরাইনা আর মওলা দিলে কুলইনা। আমরা ইতোমধ্যে অবগত হয়েছি, বাংলাদেশে আলু-পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছে ভারত সরকার। তাদের উৎপাদিত আলু ও পেঁয়াজ বাংলাদেশে সরবরাহ করবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার।

 

এদিক থেকে দেশে প্রতি বছর আলু পেঁয়াজ সংকটে থাকলেও এবার চলতি মৌসুমে আলু বিক্রয় হচ্ছে মাত্র ১০ থেকে ১৫ টাকা এবং পেঁয়াজ বিক্রয় হচ্ছে ৩০ থেকে ৪৫ টাকার মধ্যে। এর প্রধান কারণ এবার দেশে ব্যাপক পরিমান আলু-পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, পেঁয়াজ একটি উচ্চমানের গুরুত্বপূর্ণ অর্থকরী মসলা ফসল। বর্তমানে অধিকাংশ দেশেই কম বেশি পেঁয়াজের আবাদ পরিলক্ষিত । পেঁয়াজের আকার আকৃতি স্বাদ, গন্ধ, পুষ্টিগতমান, পরিবহণ সুবিধা এবং সংরক্ষণ রাখার কারণে দ্রুত এর চাষাবাদ সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। গত দুই বছর পূর্বে দেশে পেঁয়াজের ব্যাপক সংকট গেলেও ঢ্যামনা পেঁয়াজ বিঘা প্রতি ১০০ থেকে ১২০ মণ এবং চারা পেঁয়াজ বিঘা প্রতি ৭০ থেকে ৮০ মনের অধিক উৎপাদন ছাড়িয়ে গেছে। পাশা-পাশি দেশের সকল উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের মাধ্যমে গ্রীষ্মকালীন জাতের পেঁয়াজ বীজ সরবরাহ করায় এবার পেঁয়াজের ব্যাপক উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে এবং পেঁয়াজের সংকোট কেটে গেছে।বর্তমান বাজারে সাধারণ মানুষ তাদের স্যধ্যের মধ্যে অনায়াসে পেঁয়াজ ক্রয় করতে পারছেন বলে মন্তব্য করেছেন ক্রেতাগণ।

 

পক্ষানতরে আলু চাষীরা এবার উৎপাদন বেশী হওয়ায় লোকশানের মুখ দেখছেন। তাদের চাওয়া, কোল্ড স্টোরে মালিকরা যদি আলু সংরক্ষনের মুল্য বৃদ্ধি না করতেন তাহলে তাদের লোকশান গুনতে হতো না। দেশের উৎপাদিত কিছু পরিমান আলু কোল্ডস্টোরে প্রবেশ করলে আলুর বাজার স্বাভাবিক পর্যায় চলে আসতো। বর্তমানে দেশের সকল বাজারে আলু বিক্রয় হচ্ছে ১০ থেকে ১৫ টাকার মধ্যে। এর ফলে ক্রেতাগণ লাভবান হলেও লোকশানের গুনছেন আলু চাষীরা। তবে এ সংকোট কেটে উঠবে বলে মন্তব্য করেছেন কৃষি বিভাগ।

উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এ বছর বাঘা উপজেলায় পেঁয়াজ চাষের লক্ষ মাত্রা ছিল প্রায় ৬ হাজার হেক্টর। যা অতিক্রম করে চাষাবাদ হয়েছে ৭ হাজার হেক্টর। এর মধ্যে অর্ধেক এর বেশি লক্ষ মাত্রা ধরা হয়েছিল উপজেলার দুর্গম পদ্মার চরাঞ্চলে। সে মোতাবেক চরবাসীদের অনেকেই আগাম পেঁয়াজের চাষ করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন।

চরাঞ্চলের কৃষক বাবলু দেওয়ান ও আকছেন শিকদার জানান, তারা গত বছর ইচ্ছে থাকার পরেও বন্যার পানি নামতে দেরি হওয়ায় উপযুক্ত জমি না পাওয়ায় খুব বেশি পেঁয়াজ চাষ করতে পারেননি। এ দিক থেকে এবার চরাঞ্চলের অসংখ্য কৃষক অনুকুল আবহাওয়া ও উপযুক্ত মাটি পেয়ে পেঁয়াজ এবং আলু চাষাবাদে ঝুঁকে পড়েন। এদিক থেকে বর্তমান বাজারে আলুতে লোকসান গুনলেও পেঁয়াজে পুষিয়ে যাচ্ছে বলে তারা মন্তব্য করেছেন।

 

বাঘা উপজেলা কৃষি অফিসার শফিউল্লাহ সুলতান বলেন, পেঁয়াজ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে সরকারের প্রচেষ্টা হিসেবে বাঘা উপজেলায় প্রায় সাত হাজার মেট্রিক টন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এরমধ্যে সমতল এলাকার চেয়ে চরাঞ্চলে বেশি। আমরা লক্ষমাত্রা অর্জনে নিরন্তর পরিশ্রম করে যাচ্ছি। তাঁর মতে, আমাদের এই প্রচেষ্টার ফলে পেঁয়াজের মূল্য এখনো সাধারণ জনগণের নাগালের মধ্যেই আছে। তবে আলুর দাম সামনে বাড়বে। এ ক্ষেত্রে ক্রেতা-বিত্রেতা উভয় লাভবান হবেন।

সার্বিক বিষয়ে কৃষি গবেষক হামিদুর রহমান বলেন, “ রাখে আল্লা মারে কে,মারে আল্লা রাখে কে’’। বরাবরই দেশে পেঁয়াজের ঘাটতি মেটাতে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি করা লাগতো। কিন্তু এবার অভ্যন্তরীণ সংকটে আগাম কোনো তথ্য ছাড়াই হুট করে পেঁয়াজ রপ্তারি বন্ধ করে দিয়েছে ভারত । বিগত সময়ে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে আমাদের সরকারকে বেশ হিমশিম খেতে হতো। তখন বিদেশ থেকে পেঁয়াজ এনেও ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব হতো না। তবে এ সমস্যা আগামী দিন গুলোতে আর হবেনা। এখন থেকে প্রতি বছর গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ উৎপাদন হবে। পাশা-পাশি আলুর উৎপাদন পূর্বের য়ে কোন সময়ের চেয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে। এক কথায় কৃষি খাতে বাংলাদেশ এখন অনেকটায় এগিয়ে এবং স্বয়ংসম্পন্ন বললেও ভুল হবেনা। তিনি এ জন্য দেশের সকল কৃষি অফিসার এবং কৃষকদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

সানশাইন /নুরুজ্জামান /শামি


প্রকাশিত: May 10, 2025 | সময়: 9:47 am | Daily Sunshine

আরও খবর