, , ।
রাবি প্রতিনিধি: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) রেজিস্ট্রার ইফতেখারুল আলম মাসউদের বাসায় ককটেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল মধ্যেরাতে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। তার বাসায় ৪-৫ টি ককটেল মারা হয়। এ ঘটনার পর থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। এছাড়াও প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার (১ মে) বেলা ১১টায় রাবি উপাচার্যের বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন শিক্ষার্থীরা।
এ বিষয়ে প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বলেন, রাতে ঐ ঘটনার পরপরই স্যার আমাকে কল দিয়েছিলেন আমি উনাকে বাসা থেকে বের হতে না করেছিলাম। পরে পুলিশ আসলে তারা বের। তার বাসায় অসুস্থ বাবা, ছোট ছোট বাচ্চা ছিল। তারা সবাই ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পরে। তবে তারা সবাই সুস্থ আছে। তার নিরাপত্তার জন্য পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলা হয়েছে। আর আমরা কোনো ক্লু পেলে তাদেরকে লজিস্টিক সাপোর্ট দিতে পারবো।
সাবেক সমন্বয়ক সালাউদ্দিন আম্মার লিখেছেন, আমাদের জুলাই আন্দোলনের সহযোদ্ধা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার স্যারের বাসায় ককটেল ফাটিয়ে প্রমাণ করলো এই শহর আমাদের জন্য কতোটা অনিরাপদ।
স্যার আফসোস করে বলছিলেন ছোট থেকে এখানে বেড়ে উঠলাম, আওয়ামিলীগের বিরুদ্ধে কথা বলতাম তখনও কেউ এই সাহস পায়নি আর এখন এই ঘটনা ঘটলো।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ একজন ব্যক্তির সাথে এমন হলে আমাদের শিক্ষার্থী ভাইবোনের জন্য কতোটা অনিরাপদ এই শহর। এবিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ইফতেখারুল আলম মাসউদকে একাধিকবার কল দিলেও পাওয়া যায়নি।
উপ উপাচার্য (শিক্ষা) ফরিদ উদ্দীন খান লিখেছেন, তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি! ভেবেছিলাম বাড়ির গেটে কিংবা গেটের বাইরে কিন্তু যেয়ে দেখলাম একেবারে বাড়িতে হামলা হয়েছে! গতকালই উনার অসুস্থ বাবা হাসপাতাল থেকে রিলিজ নিয়ে বাসায় এসেছেন। জানিনা শেষ কবে একজন শিক্ষকের নিজ বাড়িতে রাতের আধারে এভাবে সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে! আমরা শঙ্কিত, স্তম্ভিত।
এ বিষয়ে উপাচার্য সালেহ্ হাসান নকীব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেসবুকে লিখেছেন, এই প্রশাসন একটা টিম। এখানে কারো উপর অন্যায় আঘাত, সকলের উপর আঘাত। আমরা এই স্পিরিট ধারণ করি। প্রফেসর ইফতিখার মাসউদের বাসভবনের গেইটে ককটেল ছোড়া হয়েছে – কথাটি ঠিক নয়। সরাসরি তার বাসায় ছোড়া হয়েছে। অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি হয়ে গেছে। শাস্তি পেতে হবে।
এ ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। রাবি উপাচার্যের বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন শিক্ষার্থীরা। এসময় শিক্ষার্থীরা “হামলা কারির ঠিকানা, এই বাংলায় হবে না”, “স্যারের বাসায় হামলা কেন, প্রশাসন জবাব চাই”, “ককটেল বাজির রাজনীতি, চলবে না চলবে না”, “বিচার বিচার বিচার চাই, সন্ত্রাসীদের বিচার চাই” এমনসব স্লোগান দেন।
ককটেল বিস্ফোরণ ঘটনা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সমন্বয়ক সালাউদ্দিন আম্মার বলেন, কোনো পক্ষকে আমরা দোষারোপ করবো না যতক্ষণ পর্যন্ত তদন্ত চলমান। আমরা দেখতে চায় বিপ্লবের ৯ মাস পরে এ প্রশাসন কতোটা এ্যাকটিভ হয়েছে। আমাদের একটাই প্রশ্ন সেটা হলো, ক্যাম্পাসের তিন জায়গায় ফাঁড়ি বসিয়ে রেখেও এর ভেতর থেকে কীভাবে ককটেল নিয়ে যায়? প্রশাসনের দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে তারা কতোটুকু কাজ করেছে এটা প্রশ্ন থেকে যায়।
তিনি আরো বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন গুরুত্বপূর্ণ মানুষ, একজন শিক্ষকের যদি কোনো নিরাপত্তা না থাকে তাহলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা কোথায়? এখান থেকে বোঝা যাচ্ছে অপরাজনীতি শুরু হয়ে গেছে। আমাদের ১২ ঘন্টার যে আল্টিমেটাম আমরা চায় এ সময়ের ভেতরে প্রশাসন অনতিবিলম্বে এর তদন্ত করবে। অনতিবিলম্বে এর বিচার করতে হবে এবং অন্যান্য ইস্যুর মতো এই ইস্যুটা যেনো ধামাচাপা না পড়ে যায়।
আরেক সাবেক সমন্বয়ক মেহেদী সজীব বলেন, গতকাল যে ঘটনা ঘটেছে তা অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক ঘটনা। প্রশাসনের মধ্যে থেকে আমাদের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার যিনি আমাদের সাথে জুলাই আন্দোলনে কাধে কাধ মিলিয়ে অংশ নিয়েছেন৷ আমরা জানি যে রুয়া নির্বাচনে মাসউদ স্যার পদপ্রার্থী এবং রুয়া, রাকসু নিয়ে যখন আমরা জোর দাবি জানিয়ে আসছি তখনই এমন একটা হামলার ঘটনা ঘটতে দেখা গেলো।
তিনি আরো বলেন, এ ঘটনার পিছনে যারা আছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জন্যই মূলত আমাদের আজ এখানে সমাবেশে আসা। আমরা কিছুদিন আগে দেখেছি কুয়েটে যে ঘটনা ঘটেছে সেরকম কোনো ঘটনা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে যেনো না ঘটে, আমরা এ বিষয়ে সদা তৎপর আছি এবং যেকোনো ধরনের আধিপত্যবাদের রাজনীতি আমরা মোকাবেলা করে যাবো। এসময়, বিক্ষোভ সমাবেশে বিভিন্ন বিভাগের প্রায় অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।