, , ।
রাবি প্রতিনিধি, ডিজিটাল :
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) দ্বাদশ সমাবর্তন নিয়ে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার যেন অবসান হচ্ছেনা। কয়েক দফা দিনক্ষণ নির্ধারণের পরও শিক্ষার্থীদের কাঙ্ক্ষিত সমাবর্তন অধরাই থেকে যাচ্ছে।
সর্বশেষ এ বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি সমাবর্তন হওয়ার কথা থাকলেও তা আবার স্থগিত করা হয়। সমাবর্তনের ২ সপ্তাহ আগে ১ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞাপ্তিতে বলা হয়, নিবন্ধিত শিক্ষার্থীদের উল্লেখযোগ্য অংশ কর্মদিবসে, বিশেষত সপ্তাহের মধ্যভাগে সমাবর্তন আয়োজন না করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মনোযোগ আকর্ষণ করার পর বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সমাবর্তনের পূর্বঘোষিত তারিখ পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
একই সংবাদ বিজ্ঞাপ্তিতে সমাবর্তনের পরিবর্তিত তারিখ যথাশীঘ্র সম্ভব অবহিত করার কথা থাকলেও প্রায় তিনমাসেও তা জানাতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
দীর্ঘসূত্রতা ও বারবার তারিখ পরিবর্তন হওয়াতে অর্জিত ডিগ্রির স্বীকৃতি ও উদযাপন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।
সমাবর্তনে রেজিষ্ট্রেশন করা শিক্ষার্থী আবু রায়হান রুবেল বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের সমাপ্তি ঘটে সমাবর্তনের মাধ্যমে। সমাবর্তন আমাদের অর্জিত ডিগ্রির স্বীকৃতি ও আনুষ্ঠানিক উদযাপনের একটা বিশেষ দিন। দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রায়ই সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হলেও আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ৭০-৭২ বছরে মাত্র দ্বাদশ সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, শিক্ষাজীবন শেষ হওয়ার ৫-৬ বছর পর সমাবর্তন আয়োজনের উদ্দেশ্যে রেজিষ্ট্রেশন করলেও বারবার তারিখ পরিবর্তনের কারণে তা হচ্ছে না। সর্বশেষ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কার্যদিবসে সমাবর্তনের তারিখ ঘোষণা করে, যদিও অধিকাংশ অংশগ্রণকারী বর্তমানে চাকুরিজীবী। তাই দ্রুত কোনো ছুটির দিনে এই সমাবর্তনের আয়োজন করা উচিত।
রেজিস্ট্রেশন করা আরেক শিক্ষার্থী সুমনা হক ইমা বলেন, সমাবর্তনের তারিখ বারবার পরিবর্তন হওয়াটা নিঃসন্দেহে হতাশাজনক এবং বিব্রতকর। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা চার-পাঁচ বছর ধরে কঠোর পরিশ্রম করে ডিগ্রি অর্জন করে, আর সমাবর্তন সেই অর্জনের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি ও আনন্দের বিশেষ মুহূর্ত। কিন্তু সেই মাহেন্দ্রক্ষণটি বারবার প্রতিশ্রুতি দিয়ে পিছিয়ে দেওয়ায় এক ধরনের মানসিক ক্লান্তি তৈরি হয়।
তিনি আরো বলেন, রেজিস্ট্রেশন ফি জমা দিয়ে অপেক্ষা করাটা কোনো সমাধান নয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি শিক্ষার্থীদের আস্থা নষ্ট হয় এবং প্রশাসনের পরিকল্পনা ও প্রতিশ্রুতির দায়বদ্ধতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। সমাবর্তন যেমন একটি আনুষ্ঠানিকতা, তেমনি এটি আবেগ, স্বপ্ন ও গর্বের বহিঃপ্রকাশ। তাই বারবার তারিখ পরিবর্তনের এই প্রবণতা থেকে দ্রুত সরে এসে, একটি নির্দিষ্ট ও সুপরিকল্পিত সময়সূচি অনুযায়ী সমাবর্তন আয়োজন করা এখন সময়ের দাবি।
সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. সালেহ্ হাসান নকীব বলেন,আমরা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করতেছি। আপনারা জানেন ইতোমধ্যে শিক্ষা উপদেষ্টা পরিবর্তন হয়েছে। আর সমাবর্তনে বক্তা নির্ধারণ করাও একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমরা আমাদের পক্ষ থেকে সবার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করতেছি।
সমাবর্তন কবে নাগাদ হতে পারে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, শিক্ষা উপদেষ্টা আমাদের সাথে এ বিষয়ে শীঘ্রই আলোচনায় বসতে চেয়েছেন। এরপরই আমরা দিনক্ষণ চূড়ান্ত করতে পারবো।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৭ জুলাই ছিল রেজিস্ট্রেশনের শেষ তারিখ। সমাবর্তন হওয়ার কথা ছিল একই বছরের ২৮ নভেম্বর। তারও আগে একই বছরের ১ নভেম্বর সমাবর্তনের তারিখ নির্ধারণ করা হলেও অনিবার্য কারণ দেখিয়ে তা স্থগিত করা হয়।
সানশাইন/নাজমুল /শামি