, , ।
স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার চর আষাড়িয়াদহ ইউনিয়নের বিভিন্ন ফেরিঘাটে টোল আদায়ের নামে চাঁদাবাজি, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় এবং সাধারণ মানুষের ওপর দীর্ঘদিনের শোষণ ও হয়রানির প্রতিবাদে মঙ্গলবার (১৫ এপ্রিল) সকাল ১১টায় বিদিরপুর ঘাটে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিক্ষোভে চর আষাড়িয়াদহ ইউনিয়নের শত শত ভুক্তভোগী জনতা অংশগ্রহণ করে। প্রতিবাদে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে ঘাট এলাকায় জড়ো হন। “ঘাট নয়, যেন মরণ ফাঁদ”, “চাঁদাবাজি বন্ধ করো”, “চ্যাট অনুযায়ী ভাড়া চাই” এমন নানা শ্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে বিদিরপুর ঘাট এলাকা। বক্তারা বলেন, একদিকে ফেরিঘাট ছাড়া বিকল্প কোনো পথ নেই, অন্যদিকে নিয়মবহির্ভূত টোল আদায় ও চাঁদাবাজির কারণে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। তারা অভিযোগ করেন, স্থানীয় একটি চক্র জেলা প্রশাসনের নির্ধারিত ভাড়া উপেক্ষা করে নিজেদের ইচ্ছামতো টাকা আদায় করছে এবং প্রতিবাদ করলে ভয়ভীতি দেখায়। স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল্লাহীল কাফি বলেন, ঘাট মালিকদের কাছে আমরা জিম্মি। জেলা পরিষদ থেকে নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা টানিয়ে দেওয়া হলেও তারা সেটি মানছে না। জোর করে আমাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হচ্ছে। আমরা আজ এর অবসান চাই। চরের আরেক বাসিন্দা শাহ জামাল বলেন, ঘাট ইজারাদাররা বছরের পর বছর ধরে আমাদের জিম্মি করে রেখেছে। আমরা স্বাধীন দেশে বাস করলেও আমাদের চলাফেরা নির্ভর করে তাদের দয়ার ওপর। এই অনিয়ম আর চলতে পারে না। অভিযোগের বিষয়ে বিদিরপুর ঘাট ইজারাদার মোঃ ইমন বলেন, আমরা জেলা পরিষদ থেকে ঘাট ইজারা নিয়েছি এবং নিয়ম অনুযায়ী পরিচালনা করছি। সরকারকে বড় অঙ্কের রাজস্ব দিচ্ছি। কিছু শিক্ষার্থী চায় না ঘাট থাকুক তাই তারা এসব প্রতিবাদ করছে। চর আষাড়িয়াদহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আসরাফুল ইসলাম (ভোলা) বলেন, আমার এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে হয়রানির শিকার। জেলা পরিষদের নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে কারও কাছ থেকে একটি টাকাও নেওয়া যাবে না। আমি ঘাট মালিকদের বলে দিয়েছি চ্যাট অনুযায়ী ভাড়া না নিলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রতিবাদসভায় ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ড সদস্য, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, শিক্ষার্থী ও কর্মজীবী সমাজসেবকরা বক্তব্য দেন। তারা বলেন, জনগণের ঘাড়ে জোর করে টোলের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ঘাট ব্যবস্থাপনায় জেলা প্রশাসনের নজরদারির অভাব এবং স্থানীয় কিছু প্রভাবশালীর আশ্রয়-প্রশ্রয়ে এসব অনিয়ম চলছে।