, , ।
স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী মহানগর বিএনপি’র অন্তর্গত রাজপাড়া থানা বিএনপি’র সদ্য সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক, ও রাজশাহী মহানগর যুবদলের ১ নং যুগ্ম আহ্বায়ক রুহুল আমিন বাবলু তার পরিবার নিয়ে বিএনপি নামধারী সন্ত্রাসীদেও হুমকির মুখে নিরাপত্তা হীনতায় ভূগছেন। রাজশাহীতে বিএনপি নামধারী আওয়ামী সন্ত্রাসীদের নৈরাজ্য, গুলি, হামলা, বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে হত্যা চেষ্টার প্রতিবাদ এবং এর জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবীতে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় লক্ষীপুর বাকীর মোড় এলাকার নিজ বাসভবনে সংবাদ সম্মেলন থেকে তিনি এমনটাই দাবী করেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করেন, তিনি ছাত্র জীবন থেকেই বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদী আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপির রাজনীতির সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত আছেন। সেইসাথে বিভিন্ন সময় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তিনি রাজশাহী মহানগরীর আওতাধীন ৬ নং ওয়ার্ডের সভাপতি, রাজপাড়া থানা ছাত্রদলের সভাপতি, মহানগর ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতিসহ ভারপ্রাপ্ত সভাপতি, মহানগর যুবদলের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক, মহানগর যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে বিভিন্ন সময়ে দলের তৃণমূলে সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করেছেন।
তিনি আরো উল্লেখ করেন তাঁর রাজনৈতিক জীবনে তিনি বিএনপির আদর্শ বাদে অন্য কোন আদর্শে কখনোই জড়িত ছিলেন না। এ কারনে বিগত ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচার পতিত সরকারের শাসনামলে নয়টিরও বেশি রাজনৈতিক মামলার শিকার হন এবং দশবারের অধিক কারাবরণ করেন। এখনো নিয়মিত কোর্টে হাজিরা দিতে হচ্ছে। এই দল করতে গিয়ে পারিবারিক ও অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও হয়রানি শিকার হলেও তিনি দমে যাননি। তিনি আরো উল্লেখ করেন এতকিছুর পরেও দলের ভিতরের কিছু বিপথগামী সদস্য, আওয়ামী লীগের এজেন্ট, পতিত ফ্যাসিস্ট সরকারের সুবিধাভোগী অনুপ্রবেশকারীদের দ্বারা চলতি বছরের বিগত ২৪ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ১২টায় তাঁর বাসভবনে পরিবারসহ ভয়ানক হামলা শিকার হন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরো উল্লেখ করেন হামলার সাথে সারাসরি জড়িত থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন, রাজশাহীর মহানগরীর রাজপাড়া বিএনপির তৎকালীন আহ্বায়ক বর্তমান সভাপতি মিজানুর রহমান মিজান, তৎকালীন সদস্য সচিব ও বর্তমান সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলামসহ তৎকালীন একই কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক শাহিন আহমেদ ও তার ভাই তুহিন, কাশিয়াডাঙ্গা থানা বিএনপির সদস্য মুরাদ পারভেজ পিন্টু, আওয়ামীলীগের অস্ত্রধারী চিহ্নিত ক্যাডার খিচ্চু, নাইম, সবুজ ও হৃদয় সহ তাদের সহযোগী সন্ত্রাসীবাহিনীর সদস্যরা। তারা তার বাসভবনের প্রায় পুরোটাই হামলার কারণে ভেঙেচুরে গেছে। পরিবারসহ তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যে বাড়িতে আগুন দেয়া হয়েছিলো। করা হয়েছে এলোপাতাড়ি গুলি করা ও লুটতরাজ চালানো হয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যে ঘটনার আলামত হিসেবে গুলির খোসাও উদ্ধার করেছে। কোনমতে প্রতিবেশী ও এলাকাবাসীর সহায়তায় উদ্ধার হয়ে বর্তমানে আতঙ্কিত ও চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন যাপন করছেন বলে জানান।
তিনি বলেন, রাজশাহী মহানগর বিএনপি’র বর্তমান কমিটি, মহানগরের আওতাধীন রাজপাড়া থানা কমিটির সহ বিভিন্ন থানা ওয়ার্ড ভিত্তিক কমিটিগুলোতে আওয়ামী লীগের চিহ্নিত সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও সুবিধাভোগীদের সরাসরি সদস্য করা হয়েছে। এতকিছুর পরেও বিগত রমজানে ইফতার মাহফিল আয়োজন করে রাজপাড়া থানা বিএনপি’র আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত করে একই ব্যক্তিদেরকে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক অর্থাৎ অভিযুক্ত সাবেক আহ্বায়ক মিজানুর রহমান মিজানকে সভাপতি এবং সাবেক সদস্য সচিব আমিনুল ইসলামকে সাধারণ সম্পাদক করে কাউন্সিল ও মতামত ছাড়াই ইফতার মাহফিলে রাজপাড়া থানা কমিটি ঘোষণা করা হয়, যা প্রহসনের নামান্তর মাত্র বলে উল্লেখ করেন তিনি।
চিহ্নিত অপরাধীদেরকে এতকিছুর অভিযোগ প্রমাণাদি থাকা সত্ত্বেও তাদেরই আবার নতুন করে পদায়ন করা আর অপরাধীদেরকে পুরস্কৃত করা একই কথা। এই কমিটি গঠন প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে অপরাধীদেরকে বিভিন্ন কমিটিতে পদায়ন করে পুনর্বাসন করার কারণে স্থানীয় ভাবে বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়েছে, পরীক্ষিত ত্যাগীনেতা কর্মীরা দল থেকে বিমুখ হয়ে যাচ্ছে। এই সকল হাইব্রিট নেতাদের অপকর্মের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত হয়েছে যা বিভিন্ন গণমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়েছে। দীর্ঘ ১৭বছর জুলুম নির্যাতনের শিকার হয়ে আবার স্বৈরাচার ক্ষমতাচ্যুতির পরেও আমার উপর এবং অনেক বিএনপি’র পরীক্ষিত রাজপথের নেতাকর্মীদেও উপর জুলুম নির্যাতন নিপীড়ন থেমে নেই। সেই একই কায়দায় আওয়ামীলীগের এজেন্টরা বিএনপিতে পুনর্বাসিত হয়ে তাদেরও দমনপীড়নে নিজেদের নিয়োজিত রেখেছে।
তিনি আরো উল্লেখ করেন অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক যে, আওয়ামী লীগ সরকারের দুঃশাসনেও কারাবরণ করেছেন। কিন্তু এইরুপ পরিবারসহ প্রাণঘাতী হামলার সম্মুখীন হয়ননি। শুধুমাত্র দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করা দুর্নীতি ও অন্যায়ের প্রতিবাদ করার কারণেই পরিবারসহ তাঁকে হত্যা করতে চেয়েছে দলের ভেতরের কিছু অনুপ্রবেশকারী হাইব্রিড সন্ত্রাসীরা। তিনি ও তাঁর স্ত্রী কন্যা সন্তান সহ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি, আইনের আশ্রয় নেওয়ার পরেও দৃশ্যমান কোন ফলাফল এখন পর্যন্তও চোখে পড়েনি। প্রতিনিয়ত উল্লেখিত বিতর্কিত ব্যক্তিবর্গ ও বিএনপির কথিত নেতাদের কাছ থেকে পরোক্ষভাবে মামলা তুলে নেওয়াসহ প্রাণনাশের হুমকির সম্মুখীন হচ্ছেন। এত ঘটনা প্রবাহ আর প্রমাণাদিও পরেও রাজনৈতিক বিভিন্ন ভয়ভীতিও প্রদর্শন করছে। এমতাবস্থায় তিনি নিজেকে অসহায়, নিরাপত্তাহীনবোধ করছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তাঁর ও তাঁর পরিবারের সাথে ঘটে যাওয়া হামলার ঘটনার জন্য দলের হাইকমান্ড এবং রাজশাহীবাসীর নিকট বিচার দাবী করেন তিনি। সেইসাথে এই ঘটনার সাথে জড়িত সকলকে আটক করে আইনের আওতায় নিয়ে দ্রুত বিচারের দাবীও জানান তিনি। এ সময়ে উপস্থিত ছিলেন তাঁর সহধর্মীনি নাদিরা বেগম লিপি।