বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
মাহফুজুর রহমমান প্রিন্স, বাগমারা: বৃহত্তর বাগমারাকে প্রশাসনিক ভাবে সকল দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন বর্তমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুবুল ইসলাম। এক বছরে বাগমারার অনেক উন্নয়নেই ভূমিকা রেখেছেন তিনি। খবর পেয়ে ছুটে গেছেন অসহায় গরীব দুখী প্রতিবন্ধী মানুষের পাশে। এভাবে একের পর এক আত্ম মানবতার সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রেখে ইউএনও থেকে তিনি মানবিক ইউএনও’তে ভূষিত হয়েছেন।
প্রশাসনিক দিকে নজর রাখার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে পাচ্ছেন উপজেলার এই নির্বাহী কর্মকর্তাকে। বাগমারায় যোগদানের পর থেকেই অনেক চড়াই উৎরায় পেরিয়ে রেখেছেন সাফল্যের স্বাক্ষর।
২০২৪ সালের ১৯ মার্চ বাগমারায় যোগদান করেন মাহবুবুল ইসলাম। বাগমারায় এক বছরে ঘটে গেছে অনেক অঘটন। অনেক ঘটনারই স্বাক্ষী হয়েছেন তিনি। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের মধ্যে দিয়ে দায়িত্বে ভারে ভারাক্রান্ত হয়ে পড়েন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহবুবুল ইসলাম। ৫ আগস্ট ২০২৪ থেকে শুরু হয় নতুন করে পথচলা।
উপজেলার পাশাপাশি আইন সালিশ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। ৫ আগস্ট এর পর থেকেই উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভায় প্রশাসক নিয়োগ দেয়া হয়। সেই হিসেবে তাহেরপুর পৌরসভায় প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। গত ২২ জানুয়ারি জেলা প্রশাসকের দিক নির্দেশনায় তাহেরপুর পৌরসভায় চালু করেন ব্যাংকিং পদ্ধতিতে হোল্ডিং ট্যাক্স আদায়ের ব্যবস্থা। এর ফলে হয়রানি মুক্ত সেবা পাচ্ছে পৌরবাসী। কর আদায় বেড়েছে চার গুণ। সে সাথে তাহেরপুর পৌরসভার নাগরিক অন্যান্য সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে।
এর আগে সম্প্রতি সানশাইন সহ একটি জাতীয় গণমাধ্যমে বাগমারায় ‘স্বামী-স্ত্রীসহ ৮ সদস্যের পরিবারে ৬ জনই প্রতিবন্ধী’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়।
সংবাদটি নজরে আসে বাগমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুবুল ইসলামের। তিনি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংবাদ কর্মীদের মাধ্যমে খোঁজ খবর নেন পরিবারটির। পরিবারের উপার্জনক্ষম স্বাভাবিক থাকা রেজাউল হককে নিজ দপ্তরে ডেকে পাঠান। তার সঙ্গে কথা বলেন এবং মূল সমস্যাগুলো শোনেন। পরিবারের কয়েক সদস্যের হুইল চেয়ারের প্রয়োজন হওয়াতে তা দ্রুত দেওয়ার অঙ্গীকার করেন। এর প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার সকালে পরিবারের প্রতিবন্ধী সদস্যদের প্রতিনিধি স্বাভাবিক রেজাউল হককে নিজ দপ্তরে ডেকে তাদের চলাচলের জন্য হুইল চেয়ার ও ট্রাইসাইকেল দেন।
এছাড়াও একই সময়ে উপজেলার আরও ২৪ জন প্রতিবন্ধীকে হুইল চেয়ার ও ছয়জনকে ট্রাইসাইকেল দেওয়া হয়। চেয়ার পেয়ে খুশি হন পরিবারের সদস্যরা। এছাড়া সরকারি মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পাওয়া বাগমারার একাধিক হতদরিদ্র ছাত্রীকে মেডিকেলে ভর্তি হতে বিশেষ ভাবে সহায়তা করেন ইএনও মাহবুবুল ইসলাম। এভাবেই তিনি মানবিক ইউএনও’র খ্যাতি অর্জন করেন।
পাশাপাশি বাগমারার কৃষি জমি রক্ষায় নিয়েছেন ব্যতিক্রমি উদ্যোগ। অবাধে কোথাও যেন পুকুর খনন না হয় সেটা শক্ত হাতে দমন করে চলেছেন। বাগমারার যেখানেই অনিয়ম সেখানে ছুটে গেছেন তিনি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার একবছর পূর্তিতে উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি আব্দুস সামাদ বলেন, একটি উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়ন নিশ্চিত হয় যখন তার দুর্নীতি কম থাকে। বর্তমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা যোগদানের পর থেকেই ঘুষ দুর্নীতিমুক্ত সেবা প্রদান করে যাচ্ছেন। এর ফলে অনেকটাই কমে গেছে তদবির বাণিজ্য। সেই সাথে বাজারের যানজট নিরসনে নিয়েছেন ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। যানজট হয় এমন স্থানে আনসার সদস্য দিয়ে তা নিয়ন্ত্রণ করছেন। পাশাপাশি বাজার মনিটরিং করে চলেছেন নিয়মিত। ফলে দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি অনেকটাই কমে এসেছে।
উপজেলার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী নাজমুল ইসলাম জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কারণে আমরা শান্তিপূর্ণভাবে ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা করতে পারছি। উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি অধ্যাপক অহিদুল ইসলাম বলেন, দল মত নির্বিশেষে এখন সবাই সেবা পাচ্ছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রত্যক্ষ নজরদারির ফলে বেড়েছে শিক্ষার মান।
ভবানীগঞ্জ আদর্শ টেকনিক্যাল এন্ড বিএম কলেজের অধ্যক্ষ জিয়াউল আলম বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুবুল ইসলাম একজন শিক্ষাবান্ধব কর্মকর্তা। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের যেকোনো সমস্যায় তার কাছে গেলে দ্রুত সেটা সমাধান করেন। বিশেষ করে কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সভাপতি দায়িত্ব পালন করায় কারিগরি ক্ষেত্রে শিক্ষার মান বৃদ্ধি পেয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুবুল ইসলাম বলেন, আমি প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী। আমার উপর যে দায়িত্ব সেটা আমি যথাযথ পালনের চেষ্টা করেছি মাত্র। মানুষ যেন সরকারি সেবা নিতে এসে হয়রানের শিকার না হয় এদিকে আমি বিশেষ দৃষ্টি দিয়ে থাকি। সরকারি সেবা পাওয়া প্রতি মানুষের নাগরিক অধিকার। পাশাপাশি মানুষের অভিযোগের ভিত্তিতে সপ্তাহে একদিন গণশুনানি করে থাকি। চেষ্টা করেছি দেশের এই ক্রান্তিকালে জনগণের স্বার্থ সুরক্ষায় দায়িত্ব পালন করার। মূলত বাগমারার মানুষের সহযোগিতায় আমি আমার এই দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করে যাচ্ছি।