সর্বশেষ সংবাদ :

নাটোরে চার জেলার মৎস্য চাষী সম্মেলনে মৎস্য অধিদপ্তর মহাপরিচালক সরকার মৎস্য চাষে বিদ্যুৎ বিল কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে

বড়াইগ্রাম প্রতিনিধি: মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. আব্দুর রউফ বলেছেন, সরকার মৎস্য খাতে ব্যবহৃত বিদ্যুৎ বিল ১৪ টাকা থেকে কমিয়ে কৃষি খাতের মত ইউনিট প্রতি ৪ টাকা নির্ধারণে কাজ শুরু করেছে। এ সংক্রান্ত প্রস্তাবনা অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পেলে দ্রুত তা বাস্তবায়নে কাজ শুরু করা হবে। আশাকরি অতি দ্রুত মৎস্য চাষীদের প্রাণের এই দাবী পূরণ হবে। দেশ মৎস্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে, বিদেশেও মাছ রপ্তানী হচ্ছে। গত বছর ৪৯.১৫ লক্ষ টন মাছ উৎপাদন হয়। এর মধ্যে চার হাজার নয়শ’ ৭০ কোটি টাকার মাছ বিদেশে রপ্তানী হয়েছে। মৎস্য চাষীরা জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন।
তিনি শুক্রবার রাত আটটায় নাটোরসহ চার জেলার মৎস্য চাষীদের অংশগ্রহণে গুরুদাসপুর উপজেলার বৃ-পাথুরিয়া বাজারে মৎস্য চাষী কল্যাণ সমিতি আয়োজিত মৎস্যচাষী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তৃতাকালে এসব কথা বলেন। শুক্রবার বিকাল থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত চলা সম্মেলনে মৎস্য চাষী কল্যাণ সমিতির সভাপতি আব্দুস সালাম মিয়ার সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন নাটোরের পুলিশ সুপার আমজাদ হুসাইন, মৎস্য অধিদপ্তরের উপ পরিচালক (প্রশাসন) ড. এস এম রেজাউল করিম, উপ পরিচালক (পরিকল্পনা) শাহেদ আলী, রাজশাহী বিভাগীয় উপ পরিচালক আব্দুল ওয়াহেদ মন্ডল, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. আবুল কালাম আজাদ, গুরুদাসপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসাদুল ইসলাম, মৎস্য চাষীদের মধ্যে রাকিবির রহমান, আব্দুল্লাহ আল কাফী, শফিকুল ইসলাম, মোঃ তবারকউল্লাহ এবং জাকির হোসেন।
সম্মেলনে প্রধান অতিথি আরো বলেন, কার্প জাতীয় মাছ উৎপাদনে নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার মহারাজপুর সারাদেশে অগ্রগামী এবং অনুকরণীয়। অতি দ্রুত এই এলাকার মৎস্য চাষীদের স্বার্থে একটি ভ্রাম্যমাণ ল্যাবের কার্যক্রম চালু করা হবে। পুকুর সংস্কারে প্রশাসনিক হয়রানী বন্ধে পদক্ষেপ গ্রহণ এবং গুণগতমানের মৎস্য খাদ্য নিশ্চিতকরণে মনিটরিং কার্যক্রম জোরদার করা হবে।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. আবুল কালাম আজাদ জানান, নাটোর জেলা থেকে প্রতি বছর স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে ৩৭ হাজার টন উদ্বৃত্ত মৎস্য রাজধানী সহ দেশের ঘাটতি এলাকায় যাচ্ছে এবং আমিষ উৎপাদনের মাধ্যমে মেধাবী জাতি গঠনে সহযোগিতা করে যাচ্ছে।
মৎস্য চাষীরা তাদের বক্তব্যে পুকুর সংস্কারে প্রশাসনিক হয়রানী বন্ধ, মৎস্য ক্ষেত্রে শিল্পের পরিবর্তে কৃষি শ্রেণিতে বিদ্যুৎ বিল প্রদানে ব্যবস্থা গ্রহন, ভ্রাম্যমাণ মৎস্য পরীক্ষাগার ব্যবস্থা চালু, মৎস্য হিমাগার স্থাপন, রপ্তানী প্রক্রিয়াকরণ কার্যক্রম চালু, বাজারে গুণগতমানের মৎস্য খাদ্য নিশ্চিত করা ইত্যাদি দাবী উপস্থাপন করেন।
মৎস্য চাষী কল্যাণ সমিতির সদস্য সচিব হাসান জাহিদ শিহাব জানান, সম্মেলনে নাটোর ছাড়াও রাজশাহী, পাবনা এবং সিরাজগঞ্জের মৎস্য চাষীরা অংশগ্রহণ করেন। পরে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।


প্রকাশিত: March 2, 2025 | সময়: 6:11 am | সুমন শেখ