, , ।
বাগমারা প্রতিনিধি: উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের মধ্যে সমন্বয় না থাকায় রাজশাহীর বাগমারার ভবানীগঞ্জ বাজারের চৌরাস্তার পানি উন্নয়ন বোর্ডের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে পারছে না কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুর রহমান অঙ্কুর। উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তার এমন কর্মকান্ডে হতাশ হয়েছেন এলাকাবাসী।
অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযানে অংশ না নেয়ায় উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের জন্য আবারো ১৯ ফেব্রুয়ারি এলাকার শিক্ষার্থী সহ শতাধিক ব্যক্তি স্বাক্ষরিত একটি অভিযোগ পত্র রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা বরাবর পাঠিয়েছেন।
লিখিত অভিযোগ পত্রে জানা যায়, উপজেলার ভবানীগঞ্জ পৌরসভার চৌরাস্তার (আলীমুদ্দিনের মোড়) উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সরকারী সম্পত্তি অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদে ব্যাপক রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। যানজট সৃষ্টি ও রাস্তার জায়গা অবৈধ ভাবে দখল করে এলাকার প্রভাবশালীরা বিভিন্ন ধরনের পাকা বাড়ি ও দোকানপাট নির্মাণ করে ভাড়া দিয়ে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধী করছে। ওই সকল অবৈধ দোকান পাট নির্মাণের কারণে জনগণের চলচলের পথে ব্যাপক ব্যাঘাত ঘটিয়েছে।
ওই চৌরাস্তটিতে প্রতিদিনই কোন না কোন ধরনের গাড়ী দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটছে। এমন ঘটনার কারণে এলাকার শিক্ষার্থী ও সচেতন মানুষ সংঘবদ্ধ হয়ে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছে ও রাস্তাটি জনসাধারণের চলাচলের পথ সুগম করতে বিভাগীয় কমিশনার সহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করছেন।
এর পূর্বেও গত ১৩ নভেম্বর ভবানীগঞ্জ চৌরাস্তার পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গাটির অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও জনসাধারণের চলাচলের পথ সুগম করতে ভবানীঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, ফাজিল মাদ্রসা, মহিলা ডিগ্রী কলেজের শিক্ষার্থীসহ এলাকার শতাধিক সচেতন মানুষ বর্তমান সরকারের উপদেষ্টা, বিভাগীয় কমিশনার রাজশাহী, জেলা প্রশাসক রাজশাহী ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী পরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছিলেন। প্রথম দিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাগন অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়ার চেষ্টা করলেও পরে রহস্যজনক কারনে তা বন্ধ হয়ে যায়।
স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, এলাকার প্রভাবশালী মহলটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীর সাথে গোপনে আতাত করার কারণেই অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদে ব্যাপক অনিহা প্রকাশ করেছেন তিনি। প্রথম দিকে তিনি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের পরিকল্পনা গ্রহন করলেও পরবর্তিতে সেখান থেকে সরে আসেন ওই কর্মকর্তা। যার কারণেই সাধারণ মানুষের মধ্যে অবৈধ স্থাপনা গুলো উচ্ছেদ নিয়ে সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে। তারা অবিলম্বে উপজেলা প্রশাসনের ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গা গুলোতে গড়ে উঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের জন্য বর্তমান সরকারের উপদেষ্টাসহ সরকারের উবর্ধতন মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
যোগাযোগ করা হলে বাগমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুবুল ইসলাম বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা তাদের জায়গায় গড়ে উঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে আসলে আমাদের জায়গাগুলোতে গড়ে উঠা অবৈধ স্থাপনা গুড়িয়ে দেয়া হবে।
অপর দিকে যোগাযোগ করা হলে রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুর রহমান অঙ্কুর জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গার সাথে উপজেলা প্রশাসনের জায়গা সম্পৃক্ত থাকার কারণে অবৈধ স্থাপনাগুলো উচ্ছেদ করতে সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতা পেলে সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে জনগণের চলাচলের রাস্তা প্রশস্ত করা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।