সর্বশেষ সংবাদ :

উদ্যোক্তা জারিন: নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলছেন রাজশাহীতে

স্টাফ রিপোর্টার:

উদ্যোক্তারা শুধু স্বপ্ন দেখেন না, বরং অন্যদেরও স্বপ্ন দেখার সুযোগ করে দেন। তাদের হাত ধরেই নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়। রাজশাহীর তরুণ উদ্যোক্তা জারিন তাসনিম ও আফিফ হাসান সেই পথেরই পথিক। তারা রাজশাহীতে প্রথমবারের মতো ক্র্যাফট ওয়ার্ক নামের একটি প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি চালু করেছেন, যা রেজিমের মাধ্যমে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে।

রাজশাহীর উপশহরে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে চলছে তারুণ্যের মেলা। এই মেলায় স্টল দিয়েছেন ক্র্যাফট ওয়ার্কের প্রতিষ্ঠাতা জারিন ও আফিফ। জারিন ও আফিফের এই শিল্পযাত্রা অনেকের জন্য অনুপ্রেরণার গল্প হতে পারে। দুজনেরই শৈশব কেটেছে রাজশাহীতে।

তারা নিউ গভঃ ডিগ্রি কলেজের বোটানি বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন, কিন্তু অনার্স দ্বিতীয় বর্ষ শেষ করার পরই কাজের প্রতি প্রবল আকর্ষণে পড়াশোনা ছেড়ে দেন। এখন, মাত্র ২৬ বছর বয়সেই তারা নিজেদের কোম্পানির মালিক।

জারিনের স্বামী ও ব্যবসায়িক অংশীদার আফিফ হাসান জানান, রেজিম এমন একটি শিল্প, যা বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় হলেও বাংলাদেশে এখনো তেমন বিস্তৃতি লাভ করেনি। তবে তার স্ত্রী জারিন দীর্ঘদিন ধরেই পেপারক্রাফ্ট নিয়ে কাজ করছিলেন। সেই অভিজ্ঞতা এবং নতুন সম্ভাবনার ধারণা নিয়ে তারা রেজিম প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেন। প্রথম দিকে অর্থের অভাব তাদের পথ কঠিন করে তোলে। কাজ ধীরগতিতে এগোতে থাকে। বন্ধুদের কাছ থেকে টাকা ধার নিয়ে তাদের খরচ চালাতে হয়। এমনকি তিন মাসের জন্য কার্যক্রম বন্ধও ছিল।

 

কিন্তু তাদের অদম্য ইচ্ছাশক্তি এক মুহূর্তের জন্যও দমে যায়নি। শেষ পর্যন্ত, প্রচেষ্টার স্বীকৃতি হিসেবে তারা সার্ক ট্যাংক থেকে ২০ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ লাভ করেন। এর মাধ্যমে ব্যবসাকে প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানিতে রূপান্তরিত করেন। এখন তারা দেশের বিভিন্ন স্থানে আউটলেট চালুর পরিকল্পনা করছেন।

রেজিম মূলত শামুক, বালি, স্টারফিশ ও ফুল সংরক্ষণের এক অনন্য কৌশল। বিশেষ এক ধরনের তরল ব্যবহারের মাধ্যমে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এগুলোকে স্থায়ীভাবে রেজিনের মধ্যে আবদ্ধ করা হয়। এটি স্মৃতিকে দীর্ঘদিন ধরে রাখার এক চমৎকার উপায়। প্রকৃতির সৌন্দর্যকে ব্যক্তিগত জীবনের অংশ করে তোলার জন্যও এটি ব্যবহার করা যায়। এই পণ্যগুলোর কাঁচামাল বাংলাদেশ থেকে সংগ্রহ করা হয় না; বরং চীন থেকে আমদানি করা হয়। বর্তমানে, ওয়ালটনের সঙ্গে তাদের ভালো সম্পর্ক রয়েছে, যারা বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করছে।

রেজিমের মাধ্যমে তারা নানান ধরনের শিল্পসামগ্রী তৈরি করছেন, যার মধ্যে রয়েছে নেকলেস, হাতের বালা, আলফাবেট কীচেন, লকেট, ডিস্ক শোকেস, লাইট জার ইত্যাদি। তবে ক্রেতাদের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় পণ্য হলো ফুলের লকেট এবং আলফাবেট কীচেন। একটি সুন্দর গোলাপের সংরক্ষিত লকেটের মূল্য ৬৪৯ টাকা। তাদের প্রোডাকশন হাউস রাজশাহীতে হলেও ভবিষ্যতে সারা দেশে এই শিল্পকে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

পাশাপাশি, কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি করাও তাদের অন্যতম লক্ষ্য। বিশেষ করে চারুকলা বিভাগ থেকে পাস করা শিক্ষার্থীদের নিয়ে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে সৃজনশীল প্রতিভাগুলো আরও বিকশিত হতে পারে। নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য তাদের পরামর্শ— কখনো অন্যের অনুকরণ করবেন না, বরং সৃজনশীলতা ও নতুনত্বের মাধ্যমে নিজস্ব পরিচিতি গড়ে তুলুন। বিশ্ব এখন সেই শিল্পকেই গ্রহণ করছে, যা অনন্য, নান্দনিক ও সত্যের প্রতিচ্ছবি।

উদ্যোক্তা জারিন ও আফিফের এই পথচলা শুধু একটি ব্যবসার গল্প নয়, বরং স্বপ্ন দেখার ও তা বাস্তবে রূপ দেওয়ার এক অনুপ্রেরণামূলক উদাহরণ। তাদের প্রচেষ্টা প্রমাণ করে— সত্যিকারের সৃষ্টিশীলতাই সফলতার আসল চাবিকাঠি।

সানশাইন/ফেরদৌস/শামি


প্রকাশিত: February 10, 2025 | সময়: 11:54 am | Daily Sunshine

আরও খবর