, , ।
স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী মহানগরীর রেলগেইট থেকে বিমানবন্দরের রাস্তা। হাইওয়ে হওয়ার কারণে ব্যস্ত থাকে। কিন্তু যান চলাচলের ক্ষেত্রে অনিয়ম যেন সবখানেই। একটু সুবিধা পেতে ট্রাফিক আইন ভেঙে উল্টো পথে চলে অনেক গাড়িই। এতে প্রায় ঘটছে দুর্ঘটনা। নগরীর অন্য সড়কগুলোর তুলনায় এ সড়কটিতে দুর্ঘটনার সংখ্যাও তুলনামুলক বেশি।
রাজশাহী রেলগেট হতে নওহাটা ব্রীজঘাট পর্যন্ত চার লেন রাস্তার কাজ শেষ হওয়ার পর থেকেই এই রুটে চালকদের বেপোরোয়া গতি এবং ট্রাফিক আইন না মানার প্রবণতা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়েছে। এতে করে সড়কে প্রায়ই ঘটছে দূর্ঘটনা। সবচেয়ে বেশি দূর্ঘটনা প্রবণ রাস্তা হিসেবে স্থানীয়রা চিহ্নিত করেছেন। বিশেষ করে, শাহ মখদুম বিমানবন্দরের সামনের মোড়, পোস্টাল একাডেমীর সামনে, নওহাটা কলেজ মোড়, বায়া মোড়, ব্রীজঘাট, বিমানচত্বর, শালবাগান এলাকায় বেশি দূর্ঘটনা সংগঠিত হচ্ছে।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বেশিরভাগ গাড়ি চালকরা এই রাস্তায় ট্রাফিক আইন মানছেন না। ওভারটেকিং, লেন পরিবর্তন, বেপোরোয়া গতি, গাড়ির সাংকেতিক চিহ্ন ব্যবহার করছেন না। নওদাপাড়া পোস্টাল একাডেমির সামনের রাস্তায় চালকার ইউর্টান না নিয়ে অবৈধভাবে লেন পরিবর্তন করছেন। এতে করেই সড়কে ঘটছে দূর্ঘটনা। এছাড়াও বায়া মোড় এবং নওহাটা কলেজের সামনের রাস্তাতেও একই অবস্থা। সেখানেও গাড়ি চালকরা সড়কে ট্রাফিক আইন মানছেন না।
নগরীর শালবাগান এলাকার মাসুদ হোসেন নামের এক পথচারীর বলেন, আসলে এই রাস্তায় আগে এত গতিতে গাড়ি চলতো না। রাস্তা যখন দুই লেন থেকে চার লেন হলো, রাস্তা ভালো হলো তারপর থেকেই এই রাস্তায় দূর্ঘটনা আরো বেশি ঘটতে শুরু করলো। বিশেষ করে গাড়ির চালকরা এই রাস্তায় ট্রাফিক আইন খুবই কম মানেন। যেমন গতকালকে রাজশাহী উন্নয়ন কতৃপক্ষ ভবনের সামনের রাস্তায় দুই মটরসাইকেলর দূর্ঘটনা ঘটে।
জাকির হোসেন নামের এক বাস চালক জানান, এই রাস্তায় দূর্ঘটনা ঘটার অন্যতম কারণ হলো সড়কে গাড়ির বেপোরোয়া গতি। ভালো রাস্তা পেয়েই অনেক গাড়ির চালকরা নিয়ন্ত্রণহীন গাড়ি চালায় এই রোডে। তাছাড়া ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করারও অন্যতম কারণ হলো এই রাস্তায় যে ডিভাইডারগুলো দেয়া আছে সেগুলো অনেক দূর পর পর ইউর্টান নেয়ার জন্য করা হয়েছে। সেজন্য ড্রাইভাররা বেশি রাস্তা ঘুরতে হবে দেখে ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করছে। ডিভাইডারগুলো আরেকটু কম দূরত্বে দিলে ভালো হতো।”
২০২২ থেকে চলতি বছর পর্যন্ত এই ১০ কিলোমিটার সড়কেই দূর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন প্রায় ১৫ জন। নওহাটা ফায়ার সার্ভিস স্টেশন থেকে জানা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৯ মাসে এই রুটে সড়ক দূর্ঘটনা ঘটেছে ১০০ টিরও বেশি। এতে গুরুতর আহত হয়েছে প্রায় ৭৮ জন।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স রাজশাহী ০৫ সংযুক্ত নওহাটা ফায়ার স্টেশনের ইন্সপেক্টর নিরঞ্জন সরকার বলেন, ‘রাজশাহীর অন্যান্য সড়কের তুলনায় এই সড়কে দূর্ঘটনা একটু বেশি ঘটে। দূর্ঘটনা নিরসনে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হলো আমাদের সচেতনা। আপনি এই রাস্তায় পথচারী থেকে শুরু করে গাড়ি চালক কারো মাঝেই দেখবেন সচেতনা নেই। সেদিন আমার সামনেই একটি অটো গাড়ি এবং মটরসাইকেল সংঘর্ষ হয়। এতে দেখলাম হঠাৎ রাস্তার মাঝখানে অটো গাড়ি চলে আসে তখন মটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে অটোতে ধাক্কা মারে। তাই আমি মনে করি আমাদের সবাইকে ট্রাফিক আইন এবং সচেতন হয়ে পথ চলতে হবে তাহলেই দূর্ঘটনা কমে আসবে।’
রাজশাহী মহানগর ট্রাফিক পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) নূর আলম সিদ্দিকী বলেন, ‘রাজশাহী থেকে নওহাটা মহাসড়কে আমাদের ট্রাফিক পুলিশ নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছে। ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর ট্রাফিক পুলিশ আবারো মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করেছে। এখন আমরা সড়কে ট্রাফিক আইন ভঙ্গকারীদের জরিমানার সম্মুখীন করছি। যেহেতু এই সড়কে দূর্ঘটনা একটু বেশি সংঘঠিত হয় তাই চালক সহ পথচারীদের সচেতনার বিকল্প নেই। আমরা কিছুদিনের ভিতরেই জনসচেতনায় প্রচার চালাবো। যারা রাস্তায় নিয়ম ভঙ্গ করবে তাদের বিরুদ্ধে আইননুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’