সর্বশেষ সংবাদ :

একই যোগ্যতাই সবাই ১০ম গ্রেড, তারাই শুধু ১৩তম!

স্টাফ রিপোর্টার: সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগে যোগ্যতার প্রয়োজন হয় স্নাতক সমমান, অথচ বেতন গ্রেড ১৩তম! একই শিক্ষাগত যোগ্যেতায় সরকারী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, নার্স, ইউনিয়ন পরিষদের সচিব, পুলিশের এসআই, সহকারী কৃষি অফিসার, সরকারী বিভিন্ন দপ্তরের স্মাতক সমমান কর্মকর্তা নিয়োগে দশম গ্রেড করা হয়েছে। স্নাতক সম্পন্ন করে নিয়োগ পাওয়া প্রাথমিকের শিক্ষকরা কেন দশম গ্রেড পাবেন না? এমন হতাশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক দীর্ঘদিনের। শিক্ষার পেছনে অক্লান্ত পরিশ্রম করে সহকারী শিক্ষকদের জীবনমান উন্নত ও মর্যাদার ক্ষেত্রে হিসেবটা শূণ্য। চরম বৈষম্যের শিকার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা নিজের দাবি নিয়ে অবশেষে রাস্তায়। সারাদেশেই উপজেলা পর্যায়ে শিক্ষকরা এ মানববন্ধন করেছে।
বুধবার রাজশাহীর পবায় সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের দ্বিতীয় শ্রেণীর পদমর্যদার (১০ গ্রেড) করার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন শিক্ষকেরা। পবা উপজেলার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকবৃন্দ এই মানববন্ধনের আয়োজন করেন।
এসময় তাঁরা ভিন্ন ভিন্ন প্লেকাড, ব্যানার, ফেস্টুন আর স্লোগানে দ্বিতীয় শ্রেণীর পদমর্যদার (১০ গ্রেড) করার এক দফা দাবিতে মানববন্ধন করেন। মানববন্ধন শেষে শিক্ষকেরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টা বরাবর একটি স্বারকলিপি প্রদান করেন।
বিকেল সাড়ে তিনটায় উপজেলা পরিষদের সামনে রাস্তায় মানববন্ধনটি অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে শিক্ষকেরা ‘শিক্ষক যদি জাতি গড়ার কারিগর হয়, ২য় শ্রেণীর মর্যাদা কেন নয়।’ ‘এক দফা এক দাবি ১০ম গ্রেড ও পদোন্নতি।’ ‘আমাকে অর্থনৈতিক মুক্তি ও মর্যাদা দাও আমি সমৃদ্ধ জাতি গড়ে দেব।’ ‘নতুন এই বাংলায় বৈষম্যের ঠাঁই নাই’। ‘বৈষম্যে নিপাত যাক প্রাথমিক শিক্ষা মুক্তি পাক।’ ‘মাথায় নিয়ে ঋণের বোঝা, পাঠদান করা কি এত সোজা’-এমন নানা স্লোগান দেন তারা।
বক্তারা বলেন, শিক্ষক হচ্ছে মানুষ গড়ার কারিগর। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের ক্ষেত্রে এমন বৈষম্য কেন? তাঁরা বর্তমান সরকারের আমলে বৈষম্য দুরীকরণের মাধ্যমে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের ১০ম গ্রেড ও পদোন্নতির এবং দশম গ্রেডে বেতন দেয়ার দাবী জানান।
উপজেলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও কর্মসূচির আহবায়ক পাকুড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হারুন অর রশিদ নেতৃত্বে ও শ্যামপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমানের সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে পরিচালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক দামকুড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আমিনুল ইসলাম আমিন।
এসময় বক্তব্য রাখেন বায়া মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পাপিয়া খাতুন, সাদিয়া খাতুন নাজমা, বড়গাছী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মুকলেস, জাকারিয়া, খড়খড়ি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক তানিয়া, নার্গিস, পাকুড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক কবিরুল ইসলাম, মারুফা, খাইরুন্নেসা, বেতকুড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শামিম রেজা, মুশরইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নজরুল ইসলাম, দুয়ারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নুরুন নবী, মঞ্জুর রহমান, সিন্দুর কুসম্বী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আশরাফুল ইসলাম রনজু।
উপস্থিত ছিলেন, চৌবাড়িয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রুমানা, দামকুড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক তোহা মোহাম্মদ ইয়াসিন সরকার, শামিম রেজা, দর্শনপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ইস্রাফিল সরকার, বসন্তপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মুনজুর রহমান, দাদপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রোজীনা খাতুন, ইটাঘাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মতিউর রহমান, বাগধানী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ইমরুল কায়েস, নওহাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শাহানা মান্নান, শিতলাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সুফিয়া খাতুন, কাপাসিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক তসলিমা তমা, মধুসুদনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সুফিয়া খাতুন ও সিরাজুন মনিরা, বাগসারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সমাপ্তি সরকারসহ পবা উপজেলার ৮৩টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ৫৮৭ জন সহকারী শিক্ষক।

মোহনপুর: রাজশাহীর মোহনপুরে ১০ম গ্রেড বাস্তবায়নের ১দফা দাবিতে মানববন্ধন করেছে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা। বুধবার বিকেলে উপজেলা পরিষদ চত্বরে এ মানববন্ধন করেন তারা। মানববন্ধন শেষে তারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বরাবর স্বারকলীপি প্রাদান করেন। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, আমাদের হাতে তৈরি কোমলমতি শিক্ষার্থীরাই এক সময় দেশের প্রধানমন্ত্রী, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, বিসিএস ক্যাডার তাদের সকলকেই প্রাইমারি গণ্ডি পার হয়েই ওই জায়গায় যেতে হয়েছে। তাহলে আমরা কেন অবহেলিত থাকবো এটা আমাদের যৌক্তিক দাবি। আমরা ১০ম গ্রেড বাস্তবায়ন চাই।
বক্তারা আরো বলেন, পড়াশোনা শেষ করে মহৎ পেশায় নতুন নিয়োগ পাওয়ার একজন সহকারী শিক্ষক ১৩ তম গ্রেডে বেতন পায়। মাসিক এ বেতনে সারকুলার না হয়ে অনেক ক্ষেত্রে ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে হতাশ ও মনঃকষ্ট নিয়ে জীবন অতিবাহিত করে। মাসিক এ বেতনভাতা দিয়ে কখনই উন্নত জীবন মান সম্ভব নয়। আর এই কারণেই মেধাবীরা প্রাথমিকে শিক্ষাগতা পেশায় না এসে অন্য পেশায় ছুটছে।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন, বাটুপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নেসার আহমেদ, গোপইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সরকারি শিক্ষক অহিদুল হক সরকার, সিন্দুরী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আলমগীর কবির, কেশরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সরকারি শিক্ষক গোলাম মাওলানা প্রমুখ।
আজ (বৃহস্পতিবার) জেলা পর্যায়ে একই দাবিতে সহকারি শিক্ষকরা মনববন্ধন ও জেলা প্রশাসকের মধ্যেমে প্রধান উপদেষ্টা বরাবর স্মরকলিপি প্রদান করবেন।


প্রকাশিত: October 3, 2024 | সময়: 6:20 am | সুমন শেখ