, , ।
স্টাফ রিপোর্টার: দেশের বেশ কিছু জেলায় এবং উপজেলায় রাসেলস ভাইপার সাপের উপদ্রব বেড়েছে। পদ্মা তীরবর্তী হওয়ার কারণে অনেক আগে থেকেই রাসেলস ভাইপার সাপ এ অঞ্চলে বেশি। সাপ আতঙ্কে মানুষ দিন পার করছেন। কয়েক সপ্তাহে এই উপজেলায় সাপের কামড়ে আক্রান্ত হওয়া রোগির সংখ্যা বেড়েছে। তাই উপজেলাবাসীর কথা চিন্তা করে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বেলাল উদ্দিন সোহেল নিজস্ব অর্থায়নে রাসেলস ভাইপার সাপের অ্যান্টিভেনম কিনেছেন।
সোমবার (২ জুলাই) দুপুরে গোদাগাড়ী উপজেলা পরিষদ চত্বরে উপজেলার প্রেমতলী গোদাগাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আলী মাজরুই রহমান এর কাছে হস্তান্তর করেন তিনি। এই সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আতিকুর রহমান, সাবেক ভারপ্রাপ্ত উপজেলা বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার অশোক কুমার চৌধুরী সহ উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, সাংবাদিক সহ স্থানীয় সুধীজন।
হস্তান্তরকালে চেয়ারম্যান বেলাল উদ্দিন সোহেল বলেন, আমার গোদাগাড়ী উপজেলায় রাসেল ভাইপার সাপের উপদ্রব বেড়েছে। আপনারা দেখেছেন কৃষক ক্ষেতে কাজ করতে গেলে তাদের সাপে কামড় দিচ্ছে। আমি আপনাদের মাধ্যমে উপজেলার সকল কৃষককে বলতে চাই আপনারা ক্ষেতে কাজ করতে গেলে পায়ে গামবুট পরে কাজ করবেন। উপজেলার পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে আমাদের নির্বাহী কর্মকর্তা কৃষকদের বুট বিতরণ শুরু করেছেন। রাসেল ভাইপারে আতঙ্ক নয়, সচেতন থাকলেই হবে। আমার উপজেলাবাসীর কথা চিন্তা করেই আমি অ্যান্টিভেনম কিনেছি। আশা করছি সাপ কামড় দেয়ার পরে আর আমার উপজেলার মানুষদের দুরে যেতে হবে না। এখন গোদাগাড়ীতেই চিকিৎসা হবে।
প্রেমতলী গোদাগাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আলী মাজরুই রহমান বলেন, অ্যান্টিভেনম চেয়ারম্যান মহোদয় আজকে আমাদের বুছিয়ে দিয়েছেন। গোদাগাড়ী উপজেলায় যে হারে সাপে কামড়ানো রোগি বাড়ছে তাতে অ্যান্টিভেনম খুবই জরুরি ছিলো। এখন থেকে গোদাগাড়ী উপজেলার নাগরিকদের সাপে কামড় দিলে তারা যদি প্রেমতলী স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যায় তাহলে তাদের সেখানেই চিকিৎসা দেয়া যাবে। উপজেলাবাসীর জন্য অ্যান্টিভেনম ক্রয় করার জন্য উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বেলাল উদ্দিন সোহেলকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই।
গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আতিকুর রহমান সাধুবাদ জানিয়েছেন চেয়ারম্যান বেলাল উদ্দিন সোহেলকে। তিনি বলেন, যেহেতু রাজশাহীর ভেতরে গোদাগাড়ীতে রাসেলস ভাইপার সাপের উপদ্রব একটু বেশি তাই জনসাধারণের চিকিৎসার জন্য আমাদের অ্যান্টিভেনম খুবই জরুরি ছিলো। আজকে চেয়ারম্যান সাপে কামড়ানো রোগির কথা চিন্তা করে তার নিজস্ব অর্থায়নে অ্যান্টিভেনম ক্রয় করার জন্য উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানাই। আপনারা উপজেলাবাসী সচেতন থাকবেন অযথা সাপ মারবেন না। পরিবেশের বৈচিত্র রক্ষায় আমাদের সকল প্রাণির দরকার আছে। আপনাদের কোন সমস্যা হলে আপনারা সরাসরি আমাদের জানাবেন।
উল্লেখ্য প্রথম পর্যায়ে উপজেলাবাসীর জন্য ১০০ অ্যান্টিভেনম ক্রয় করেন চেয়ারম্যান বেলাল উদ্দিন সোহেল। পরবর্তীতে যদি আরো প্রয়োজন হয় তাহলে তিনি অ্যান্টিভেনম আরো কিনবেন বলেন জানান। এছাড়া সাপে কামড়ানো রোগির জন্য অ্যান্টিভেনম প্রয়োজন হলে এই নাম্বারে যোগাযোগ করার জন্য বলা হয়েছে। নাম্বারটি হলো ০১৭০১-২৪৮৬৮৫।