, , ।
রাবি প্রতিনিধি: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ‘শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি: বাস্তবতা ও করণীয়’ শীর্ষক এক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ ভবনে ‘যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ বিষয়ক অভিযোগ কমিটি’ এই সেমিনারের আয়োজন করেন।
কমিটির সদস্য-সচিব সহযোগী অধ্যাপক রনক জাহানের সঞ্চালনায় সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন রাবি উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক সুলতান-উল-ইসলাম। আমন্ত্রিত অতিথি ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) উপাচার্য অধ্যাপক সাদেকা হালিম।
সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রাবি উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক সুলতান-উল-ইসলাম বলেন, একজন মানুষ যখন তার শুভ চিন্তাগুলো হারিয়ে ফেলে তখন তার মানসিক সমস্যা হয়। তখন সে যৌক্তিক কারণে এ অপরাধগুলো করে। তবে এটা ঘটতে থাকলে ভবিষ্যতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ার সম্ভাবনা আছে। আমরা সমাজে দেখি কোনো ঘটনা ঘটলে জড়িতকে আইনের আওতায় আনা হয়। কিš‘ তাকে সচেতন করার যে প্রবণতা তা হয় না। আমরা চাই প্রকৃত অপরাধীরা শাস্তির আওতায় আসুক, তবে তাকে সচেতন করার পর। তারপরেও যদি সে অপরাধ করে থাকে, তাহলে তাকে চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনা উচিৎ। সে হতে পারে পুরুষ, নারী, শিক্ষক, শিক্ষার্থী অথবা কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ যে কেউ। তবে আমরা যেন বিষয়গুলো গোপন না করি।
সেমিনারে জবি উপাচার্য অধ্যাপক সাদেকা হালিম বলেন, বাংলাদেশে অনেক ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে যেখানে যৌন হয়রানি হ”েছ। জাতীয় মহিলা পরিষদের রিপোর্ট অনুযায়ী ২০২২ সালে ৭১৫ জন নারীর ধর্ষণের শিকার হয়েছে। তারা নির্যাতিত হওয়ার পর সমাজে তাদেরকে হেয় করা হয়েছে। শিক্ষক কর্তৃক অনেক শিক্ষার্থী যৌন হয়রানির শিকার হলেও তারা অভিযোগ করতে পারেনা।
জবি উপাচার্য আরও বলেন, শুধু মেয়েদের ক্ষেত্রে নয় ছেলেরাও হয়রানির শিকার হয়ে থাকে। বিভিন্ন তথ্যে উঠে এসেছে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রতিনিয়ত বিভিন্নভাবে শিক্ষার্থীরা যৌন হয়রানির শিকার হ”েছ। এই পৃথিবীটা অনেক খারাপ জায়গা, বিশেষ করে মেয়েদের জন্য। যতই আপনজন হোক না কেন, মেয়েদের যৌন হয়রানির শিকার হতে হ”েছ। এজন্য নারীদের একটা প্ল্যাটফর্ম নিশ্চিত করতেই হবে, যেখানে নারীরা তাদের কথা বলতে পারবে ও তাদের অধিকার নিশ্চিত করতে পারবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ বিষয়ক অভিযোগ কমিটি’র সভাপতি অধ্যাপক তানজিমা জোহরা হাবিব সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে বলেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে যৌন হয়রানির ঘটনার তুলনায় অভিযোগ কম আসে। এই বিষয়ে আমাদের বিচার চাওয়ার প্রবণতা কমে যা”েছ। যার ফলে অনেক ঘটনা আমাদের আড়ালেই থেকে যায়। এই বিষয়ে একটি অভিযোগ বক্স করা হয়েছে যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের নাম পরিচয় ছাড়া অভিযোগপত্র জমা দিতে পারবে। এছাড়া আমরা হল গুলোতে এধরণের সেমিনার আয়োজন করার পরিকল্পনা করেছি। এতে যৌন হয়রানির অপরাধের মাত্রা আরও কমিয়ে আনা সম্ভব।
সেমিনারে যৌন হয়রানির সংজ্ঞা ও বিভিন্ন প্রকার যৌন হয়রানিমূলক আচরণ নিয়ে আলোচনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়টির আইন বিভাগের অধ্যাপক আবদুল আলীম, যৌন হয়রানির শাস্তিসমূহ নিয়ে আলোচনা করেন রাজশাহী সাইবার ট্রাইবুনালের জজ জিয়াউর রহমান, ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে যৌন হয়রানির প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সাদেকা বানু।
এছাড়া সেমিনারে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন রাজশাহী সাইবার ট্রাইবুনালের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইসমত আরা বেগম, কমিটির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক মাহবুবা কানিজ কেয়া, জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক অধ্যাপক প্রণব কুমার পান্ডে প্রমুখ। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের দেড় শতাধিক শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা- কর্মচারী উপ¯ি’ত ছিলেন।