, , ।
স্টাফ রিপোর্টার
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকন্যা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে রাজশাহী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সাইদ চাঁদ যেভাবে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে কটুক্তি করেছেন তা আইনের মাধ্যমে মোকাবেলা করা হবে। চাঁদ কটুক্তির মাধ্যমে যে ধৃষ্টতা দেখিয়েছেন তা আমরা জামায়াত বিএনপির মুখপাত্র হিসেবে মনে করছি। যারা বিদেশে বসে বিভিন্ন ইউটিউব চ্যানেলে বক্তব্য রেখে দেশকে অশান্ত করার চেষ্টা করছেন,যারা ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করার দাবি করছেন তাদের জানিয়ে দিতে চাই এটি বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া সংগঠন। কেউ এই সংগঠনকে নিয়ে বাজে কথা বললে বিন্দু পরিমান ছাড় দেয়া হবে না।
রাজশাহী ’ বাগমারা বাসীর আয়োজনে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিরি বক্তব্যে আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ও সদ্য সাবেক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন এমন হুশিয়ারী ব্যক্ত করেন।
তিনি আরো বলেন,রাজশাহী শহরের উন্নয়ন আপনারা নিজেরা দেখতে পাচ্ছে না । সিটি কর্পোরেশন রাজশাহী জেলার অংশ। রাজশাহী শহর উন্নত হলেও সার্বিকভাবে রংপুর ও রাজশাহী বিভাগ পিছিয়ে আছে। এই দুই বিভাগে ধান ও মাছ চাষ হচ্ছে অনেক বেশি। এদিক থেকে আমরা এগিয়ে আছি। কিন্তু‘ শিল্পায়নের দিক থেকে আমরা পিছিয়ে। তাই এবারে আমরা কর্মসংস্থান তৈরির জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাবো আমরা।
সাবেক মেয়র লিটন বলেন, ২০০৮-২০১৩ সালের মেয়াদে মেয়র থাকা অবস্থায় বাগমারা আসনের সংসদ সদস্যকে সাথে নিয়ে ঢাকার বড় বড় ব্যবসায়ীদের সাথে দফায় দফায় বৈঠক ও আলোচনা করেছি। একটা পর্যায়ে কয়েকজন রাজি হয়েছিলেন। কিন্তু রাজশাহী দেশের একপ্রান্তে হওয়ায় ব্যবসায়িক দিক থেকে ক্ষতির চিন্তা করে এগিয়ে আসতে চাননি শুধুমাত্র ইঞ্জি: এনামুল হক ছাড়া। তাই নৌ যোগাযোগের ক্ষেত্রে আমরা গুরুত্ব দিয়েছি। বিদেশী মালামাল আনা নেয়া ছাড়াও ভারতের সাথে নৌ যোগাযোগের মাধ্যমে ব্যবসা বানিজ্যের প্রসার ঘটানোর জন্য এখানে একটি নৌবন্দর প্রতিষ্ঠার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। এতে ট্রাকে করে বারবার মাল আনা নেয়ার ক্ষেত্রে সময় ও অর্থ দুটোই বাঁচবে বলে জানান । কারন বড় বড় জাহাজে মালামাল আসবে অনেক বেশি ফলে ব্যবসায়ীরা অল্প খরচে মালামাল আনতে পারবেন। রাজশাহীর বেলপুকুরে চামড়া শিল্প গড়ে উঠলে কর্মসংস্থানের অনেক জায়গা তৈরি হবে। এছাড়া অর্থনৈতিক অঞ্চল ২ তে অনেক ছেলে মেয়ের চাকরির জায়গাও তৈরি হবে বলে জানান তিনি।
খায়রুজ্জামান লিটন বলেন,রাজশাহী শহর থেকে বাগমারা অনেক দূরে অবস্থিত এবং আয়তনেও অনেক বড়। একটা সময় শহর থেকে বাগমারা যেতে এক বেলা চলে যেতো এখন বড় বড় রাস্তাঘাট তৈরি হওয়ায় খুব তাড়াতাড়ি চলে যাওয়া যাচ্ছে এটি বর্তমান সরকারের উন্নয়নের কারনে হচ্ছে। আগামীতে এই উন্নয়নের ধারা বজায় রাখতে হবে আমাদের নৌকার পাশে থেকে। আগামীতে অন্তত ৫০ হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। রাজশাহীর ছেলে মেয়েদের বাইরে যেয়ে থাকতে হবেনা। নিজ শহরে চাকরি করে পরিবারের সাথে থাকতে পারবে এতে অর্থনৈতিকভাবে সাশ্রয়ী হবে সবাই। এগিয়ে যাবে রাজশাহী।
অনুষ্ঠানের সভাপতি বাগমারা আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জি: এনামুল হক সভাপতিত্ব করেন। স্বাগত ও সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, এই শহরকে যিনি মেগা সিটিতে পরিণত করেছেন। আমরা মনে করি তিনি উত্তরবঙ্গের আওয়ামী লীগের রাজনীতির অভিভাবক। বাংলাদেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিপুল ভোটের মাধ্যমে খায়রুজ্জামান লিটনকে জয়যুক্ত করবো। রাজশাহী শহরে যারা বাগমারার লোকজন অব¯’ান করছেন তাদের উদ্দেশ্য বলেন,
নির্বাচনী আচরন বিধি মেনে চলার পাশাপাশি সকলকে দল মত নির্বিশেষে ভোট দেয়ার পাশাপাশি অন্যন্য আত্নীয় স্বজনদের একযোগে কাজ করতে। পৃথিবীর মধ্যে রাজশাহী শহরকে যেভাবে খায়রুজ্জামান লিটন সম্মানিত করেছেন আমরাও ভোটের মাধ্যমে বিপুলভাবে জয়ী করে তাকেও সম্মানিত করতে চাই।
অনুষ্ঠানে পুঠিয়া- দুর্গাপুর আসনের এমপি ডা: মো: মনসুর রহমান,জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও বাগমারা উপজেলা চেয়ারম্যান অনীল কুমার সাহা,রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী কামাল,জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ,বাঘা চারঘাট আসনের সাবেক সংসদ সদস্য রায়হানুল হক, বাগমারা উপজেলা শিক্ষা উন্নয়ন কমিটির সভাপতি রাবির শিক্ষক ড.মো. শরীফুল ইসলাম, রাবি ভেটেনারী এন্ড এনিমেল সায়েন্সের ডিন প্রফেসর ড. মো. জালাল উদ্দিন সরকার,আমরা বাগমারাবাসীর সভাপতি মোহনগঞ্জ ডিগ্রী কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ আব্দুল লতিফ সরকার বক্তব্য রাখেন। এসময় মঞ্চে উপবিষ্ট ছিলেন,রাবির প্রধান প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ, কামারুজ্জামান,আমিনুল হক টুলু,আবুল কালাম আজাদ বা”চু,মো: ছালিমুদ্দীন,শাখিল খান,আতিকুর রহমান রিপন সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। অনুষ্ঠানে বাগমারার প্রায় পাঁচশো নেতাকর্মি উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বাগমারা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক অধ্যক্ষ গোলাম সারোয়ার আবুল।
সানশাইন/সোহরাব