, , ।
স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী মহানগরীর তেরখাদিয়া এলাকায় রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) অনুমোদন ছাড়াই ১০ তলা ভবনের ছাদে নির্মাণ করা সুইমিংপুল উচ্ছেদ করতে গিয়ে ভবন মালিকের বাধার মুখে পড়েছে আরডিএ। এ সময় আরডিএর ম্যাজিস্ট্রেটকে হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি সংস্থাটির চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সুইটকে ‘দেখে নেওয়া’ ও ‘খেয়ে ফেলার’ হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ভবন মালিক আব্দুর রশিদের বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে নগরীর তেরখাদিয়া এলাকার আল রাইশা টাওয়ারে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। আরডিএ সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভবনটির ছাদে অনুমোদিত নকশার বাইরে সুইমিংপুল নির্মাণ করা হয়। বিষয়টি নজরে আসার পর অনুমোদনহীন স্থাপনাটি অপসারণের জন্য ভবন মালিককে নির্দেশ দেওয়া হলেও তিনি তা মানেননি।
মঙ্গলবার দুপুরে আরডিএ’র ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় ম্যাজিস্ট্রেট ভবনের মালিক আব্দুর রশিদকে প্রধান ফটক খুলে দিতে একাধিকবার অনুরোধ করেন। তবে তিনি গেট খুলতে অস্বীকৃতি জানান এবং গেট ভেঙে প্রবেশ করার কথা বলেন। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় আব্দুর রশিদ ম্যাজিস্ট্রেটকে হুমকি দিয়ে বলেন, “ভিতরে প্রবেশ করলে দুই-চারটে খুন হলে সে দায়িত্ব আপনাকে নিতে হবে।”
পরিস্থিতিতে ম্যাজিস্ট্রেট আইনগত ক্ষমতা প্রয়োগ করে প্রধান ফটক ভেঙে ভবনের ভেতরে প্রবেশ করেন। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, শ্রমিক ও গণমাধ্যমকর্মীদের নিয়ে ভবনের ছাদে যান তিনি। সেখানে অনুমোদনহীন সুইমিংপুলের অস্তিত্ব পাওয়ার পর সেটি ভেঙে ফেলা হয়।
সুইমিংপুল ভেঙে ফেলার সময় ভবন মালিক আব্দুর রশিদ আরও ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে তিনি আরডিএ চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সুইটকে উদ্দেশ করে বলেন, “সুইটের বড় পাওয়ার, সে আরডিএ চেয়ারম্যান। আপনাদের পাঠিয়েছে ভাঙতে, আপনারা ভাঙেন। সুইটকে দেখে নেব আমি, সুইটকে খেয়ে নেব।” এই বিষয়ে জানতে চাইলে আরডিএর ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মামুন সাংবাদিকদের বলেন, ভবনের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতেই তারা সেখানে গিয়েছিলেন। কিন্তু ভবন মালিকপক্ষ সহযোগিতা না করায় আইনগত ক্ষমতা প্রয়োগ করে প্রধান ফটক ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করতে হয়েছে।
তিনি বলেন, ভবনের ছাদে গিয়ে সুইমিংপুল নির্মাণের বিষয়টি সরেজমিনে দেখা গেছে এবং এর কোনো অনুমোদন নেই। অতিরিক্ত পানির ওজনের কারণে ভবনের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হতে পারে বলেও তিনি জানান। একই সঙ্গে পানির কারণে ভবনে স্যাঁতসেঁতে ভাবসহ বিভিন্ন ধরনের ক্ষতির আশঙ্কার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। ম্যাজিস্ট্রেট আরও বলেন, অভিযান চলাকালে ভবন মালিক বিভিন্নভাবে অভিযান ঠেকানোর চেষ্টা করেন।
ভবন মালিক আব্দুর রশিদের বক্তব্য জানতে চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।