দুই কিলোমিটার কাঁচা সড়কে হাঁটুভর কাদার ভোগান্তি

আক্কেলপুর প্রতিনিধি: জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার তিলকপুর ইউনিয়নের নূরনগর-২ শবদলপাড়া গ্রামের প্রায় দুই কিলোমিটার গ্রামীণ কাঁচা সড়ক দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন অন্তত ৫০টি পরিবারের শতাধিক মানুষ। বছরের অধিকাংশ সময় কোনো রকমে চলাচল করা গেলেও বর্ষা মৌসুম এলেই রাস্তাটি কাদা ও পানিতে ডুবে কার্যত চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে। এতে শিক্ষার্থী, কৃষক, রোগী, গর্ভবতী নারী ও বৃদ্ধদের সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, এই সড়কটিই শবদলপাড়া গ্রামের মানুষের একমাত্র যাতায়াতের পথ। প্রতিদিন স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, কৃষক, দিনমজুর ও কর্মজীবীরা এই সড়ক ব্যবহার করেন। কিন্তু সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তাজুড়ে কাদা জমে যায়। তখন মোটরসাইকেল, অটোরিকশা কিংবা ভ্যান তো দূরের কথা, পায়ে হেঁটেও চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। অনেক সময় কাদায় পিছলে পড়ে আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটে। দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাটি সংস্কারের দাবি জানিয়ে এলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
গ্রামের কৃষকদের অভিযোগ, বর্ষার সময় মাঠে উৎপাদিত ধান, আলু ও বিভিন্ন মৌসুমি ফসল বাজারে নিতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। পরিবহন প্রবেশ করতে না পারায় মাথায় বা হাতে করে অনেক দূর পর্যন্ত কৃষিপণ্য বহন করতে হয়। এতে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি সময়মতো বাজারে পণ্য পৌঁছাতে না পারায় আর্থিক ক্ষতির মুখেও পড়তে হচ্ছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে গ্রামীন এই সড়কটি সংস্কারের দাবিতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে একাধিকবার আবেদন করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন সহ সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরেও লিখিতভাবে বিষয়টি জানানো হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত সড়কটি সংস্কারে কোনো উদ্দ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে বছরের পর বছর দুর্ভোগ নিয়েই বসবাস করতে হচ্ছে তাদের।
গ্রামের বাসিন্দা রিনা পারভীন বলেন, এই সড়কটির জন্য আমরা অনেকবার স্থানীয় ইউপি সদস্যকে জানিয়েছি। উপজেলা প্রশাসনের কাছেও আবেদন করেছি। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। বৃষ্টি হলে ঘর থেকে বের হওয়াটাই কষ্টকর হয়ে যায়। দ্রুত সড়কটি সংস্কার করা দরকার।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল্লাহ আল মাসুদ বলেন, এই একটি সড়কের ওপর পুরো গ্রামের মানুষ নির্ভরশীল। শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে কৃষক, রোগী সবাইকে এই পথেই চলতে হয়। নিজেদের টাকায় কয়েকবার মাটি ফেলে চলাচলের উপযোগী করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু কয়েক দিনের বৃষ্টিতেই সব মাটি ধুয়ে যায়। স্থায়ী সমাধান ছাড়া এই দুর্ভোগ কমবে না।
এ বিষয়ে তিলকপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য বাদশা আলম বলেন, সড়কটি দীর্ঘদিন ধরেই সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত উন্নয়নকাজ শুরু করার চেষ্টা করা হবে।
তিলকপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মামুনুর রশিদ পিন্টু বলেন, সড়কটি সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য ও প্রস্তাবনা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। ইতোমধ্যে এটি উন্নয়ন কাজের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বরাদ্দ পেলেই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সড়কটির সংস্কার কাজ শুরু করা হবে।


প্রকাশিত: জুন ৩০, ২০২৬ | সময়: ৪:০১ পূর্বাহ্ণ | সুমন শেখ

আরও খবর