মঙ্গলবার, ৩০শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৬ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
ঈশ্বরদী প্রতিনিধি: পাবনার ঈশ্বরদীতে পড়া না পারায় এক শিক্ষার্থীকে শাসনের জের ধরে তিন শিক্ষককে মারধরের ঘটনায় দোষীদের শাস্তির দাবীতে মানববন্ধন করেছে বিভিন্ন কিন্ডারগার্টেন স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকা, ভুক্তভোগী শিক্ষকদের আত্মীয়-স্বজন, এলাকাবাসী ও কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। সোমবার ২৯ জুন সকালে ঈশ্বরদী উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের প্রত্যন্ত গ্রাম চরগড়গড়ি মোড় এলাকায় ঘন্টাব্যাপী এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তব্য দেন ঈশ্বরদী কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশনের সভাপতি লুৎফর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মহিদুল ইসলাম, মনিংষ্টার একাডেমীর পরিচালক আব্দুল মমিন, সানমুন ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের অধ্যক্ষ তোফায়েল আহমেদ, সোনার বাংলা মডেল একাডেমীর পরিচালক বি এম তোফায়েল আহমেদ, বাঁশেরবাদা ডিগ্রি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত সহকারী অধ্যাপক আব্দুল হামিদ শিপু, সমাজসেবক আনোয়ার হোসেন ঠান্ডু, সমাজসেবক আরিফ প্রাং সহ অন্যান্যরা। মানববন্ধন পরিচালনা করেন শিক্ষক মজিবুর রহমান।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, শিক্ষকরা এদেশে জাতি গড়ার কারিগর। পিতা মাতার পরই শিক্ষকদের সম্মান দেওয়ার কথা। একটি বিদ্যালয়ে শিক্ষার মান উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নৈতিক শিক্ষাদানে অনেক সময় শাসনের প্রয়োজন হয়। অথচ সেই শিক্ষকরা যখন শিক্ষার্থীদের শাসন করে তখন তাদের ওপর নেমে আসে নির্যাতন। সাম্প্রতিক সেলিম রেজা বিদ্যানিকেতনে যে ঘটনা ঘটেছে যা অত্যান্ত দুঃখজনক ও শিক্ষকদের জন্য লজ্জার বিষয়।
এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দেওয়ার পরও আসামী গ্রেফতার করছে না পুলিশ। অথচ ঘটনা ভিন্ন খাতে নিতে আসামীরা প্রকাশ্যে থানার পাশের একটি ভবনে মিথ্যা সংবাদ সম্মেলন করে। আগামী ৪৮ ঘন্টার মধ্যে আসামী গ্রেফতার করা না হলে উপজেলার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষনা করবে বলেও মানববন্ধনে জানানো হয়।
অপর দিকে সোমবার দুপুরে ন্যাক্কার জনক ওই ঘটনার সরেজমিন তদন্ত করতে সেলিম রেজা আদর্শ বিদ্যানিকেতন পরিদর্শন করেন সহকারী পাবনা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আতাউর রহমান ও ঈশ্বরদী উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বেল্লাল হোসেন। তারা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক-শিক্ষিকা, ছাত্র-ছাত্রী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী সহ প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য গ্রহণ করেন।
প্রসঙ্গত; গত বৃহস্পতিবার ২৫ জুন ঈশ্বরদী উপজেলার চর-কুরুলিয়া গ্রামে প্রতিষ্ঠিত সেলিম রেজা আদর্শ বিদ্যানিকেতনে ৫ম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে শাসন করার জের ধরে ওই শিক্ষার্থীর মামা স্থানীয় সন্ত্রাসী উজ্জ্বল মাল (৫৫) ও তার পরিবারের সদস্যসহ ৬-৭ জন সংঘবদ্ধ হয়ে লাঠিসোটা নিয়ে ক্লাশ চলাকালীন সময়ে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে সহকারী শিক্ষিকা ঝর্ণা খাতুন সাথী (২৫) তার গলায় ওড়না পেঁচিয়ে টেনেহিঁচড়ে রাস্তায় নিয়ে মারধর করেন। সে সময় তাদের বাঁধা দিতে গেলে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষের মা ও বোনকেও পিটিয়ে আহত করা হয়। এ ঘটনায় ৫ জনকে আসামি করে ঈশ্বরদী থানায় মামলা করা হয়েছে।