সোমবার, ১৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
আক্কেলপুর প্রতিনিধি: জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে মাত্র একদিনের ব্যবধানে কাঁচা মরিচের দাম প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে। এতে দীর্ঘদিন ধরে লোকসানে থাকা মরিচ চাষিদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। রোববার উপজেলার তিলকপুর হাটে কাঁচা মরিচ সর্বোচ্চ ৪২ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে, যা আগের দিন শনিবার ছিল সর্বোচ্চ ২৩ টাকা। ফলে একদিনেই কেজি প্রতি ১৯ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে।
তিলকপুর হাট জয়পুরহাট জেলার অন্যতম বৃহৎ কাঁচা মরিচের পাইকারি বাজার। জেলার বিভিন্ন উপজেলা ছাড়াও ঢাকা, নওগাঁ, বগুড়া ও দিনাজপুরের ব্যবসায়ীরা এ হাট থেকে মরিচ সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করেন। এ কারণে এখানকার দামের প্রভাব জেলার অন্যান্য বাজারেও পড়ে।
স্থানীয় কৃষক ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে আক্কেলপুরে মরিচের ফলন ভালো হয়েছে। তবে উৎপাদন বাড়ায় বাজারে সরবরাহও বেশি ছিল। ফলে মৌসুমের শুরু থেকেই কৃষকরা আশানুরূপ দাম পাননি। অনেকেই উৎপাদন খরচ তুলতে হিমশিম খেয়েছেন। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে মরিচের দাম ১৫ থেকে ২৩ টাকার মধ্যে ওঠানামা করছিল। এমন পরিস্থিতিতে রোববারের বাজার চাষিদের জন্য কিছুটা স্বস্তির বার্তা নিয়ে আসে।
তিলকপুর এলাকার মরিচ চাষী রেজাউল করিম বলেন, এবার আমি এক বিঘা জমিতে মরিচ চাষ করেছি। সার, কীটনাশক ও শ্রমিক খরচ মিলিয়ে অনেক টাকা ব্যয় হয়েছে। কিন্তু এতদিন যে দামে মরিচ বিক্রি করেছি, তাতে খরচই উঠছিল না। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ১৫ থেকে ২৩ টাকা কেজি দরে মরিচ বিক্রি করেছি। আজ হঠাৎ দাম বেড়েছে। হাটে ৩০ কেজি মরিচ এনেছিলাম। সবই ৪২ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেছি। এতে কিছুটা স্বস্তি পেয়েছি।
আরেক চাষী সাইফুল ইসলাম বলেন, এবার মরিচের বাজার খুব খারাপ ছিল। আগে ২০ টাকা কেজি দরে মরিচ বিক্রি করে লোকসান গুনতে হয়েছে। আজ তিলকপুর হাটে ৫৩ কেজি মরিচ এনেছিলাম। সকালে পাইকারেরা ৩২ টাকা কেজি দাম বলেছিলেন। কিছুক্ষণ পর ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেছি। পরে দাম আরও বেড়ে ৪২ টাকায় ওঠে। বাজার এভাবে থাকলে লোকসান কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, রোববার হাটে মরিচের সরবরাহ তুলনামূলক কম ছিল। অন্যদিকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের পাইকারদের চাহিদা থাকায় দাম দ্রুত বেড়ে যায়।
তিলকপুর বাজারের পাইকার রুস্তম আলী বলেন, আজ হাটে মরিচের আমদানি কিছুটা কম ছিল। সে কারণে পাইকারি বাজারে প্রতিযোগিতা বেড়েছে এবং দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। সর্বোচ্চ ৪২ টাকা কেজি দরে মরিচ বিক্রি হয়েছে। তবে আগামী কয়েক দিনে সরবরাহ বেড়ে গেলে দাম কিছুটা কমে আসতে পারে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইমরান হোসেন বলেন, চলতি মৌসুমে এই উপজেলায় মরিচের ফলন ভালো হয়েছে। তবে উৎপাদন বেশি হওয়ায় বাজারে সরবরাহও বেড়েছিল, যার প্রভাবে দীর্ঘদিন ধরে কৃষকরা কাঙ্খিত দাম পাননি।
উৎপাদন খরচের তুলনায় বাজারমূল্য কম থাকায় অনেক চাষি আর্থিক চাপে ছিলেন। বর্তমানে দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। তবে বাজার স্থিতিশীল না হলে এবং দাম দীর্ঘ সময় ধরে সহনীয় পর্যায়ে না থাকলে কৃষকদের ক্ষতি পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠা কঠিন হবে।