বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
নুরুজ্জামান, বাঘা :
রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় অধিকাংশ বিলে সাম্প্রতিক সময়ে জলাবদ্ধতা একটি গুরুতর সমস্যায় পরিণত হয়েছে। স্থানীয় জনগণের অভিযোগ, এ সমস্যার মূল কারণ বিলে অবৈধভাবে পুকুর খনন এবং কতিপয় প্রভাবশালীর কারণে প্রয়োজনীয় খাল খনন কার্যক্রম বন্ধ থাকা। কৃষকদের দাবি, অসমাপ্ত খাল খনন পুনরায় চালু হলে পানি নিষ্কাশন সম্ভব হবে। এতে তারা সোনার ফসল ধান উৎপাদন করে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারবেন।
সরেজমিনে ঘুরে এবং কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাঘা উপজেলার বিভিন্ন বিলে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে পুকুর খনন করা হয়েছে। এসব পুকুর খননের ফলে প্রাকৃতিক জলাধার ও পানি চলাচলের স্বাভাবিক পথ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বিলে পানি জমে থাকার কারণে আশপাশের জমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে, যা কৃষিকাজের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।
অন্যদিকে, এলাকায় পানি নিষ্কাশনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ খাল খনন কার্যক্রম একটি প্রভাবশালী মহলের চাপে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। অখচ জমে থাকা পানি বের হওয়ার বিষয়ে কার্যকর কোন ব্যবস্থা নেই। নতুন সরকার মহৎ উদ্যোগ নিয়ে তাদের নির্বাচনী ওয়াদা অনুযায়ী খাল খনন কার্যক্রম চালু করতে পারলে কৃষকরা তাদের জমিতে পুনরায় ফসল ফলাতে সক্ষম হবেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় কৃষক ও গ্রামবাসীরা জানান, উপজেলার অসংখ্য বিলে অপরিকল্পিত ও অবৈধভাবে পুকুর খনন করা হয়েছে। এতে প্রাকৃতিক জলাধার ও পানি চলাচলের পথ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে বা অতিবৃষ্টির সময় পানি আটকে থেকে আশপাশের কৃষিজমিতে স্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করছে। যদি খাল খনন কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করা যায়, তাহলে জমে থাকা পানি সহজেই নিষ্কাশন হবে। এতে জলাবদ্ধতা কমবে এবং কৃষিজমি পুনরায় চাষাবাদের উপযোগী হবে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিগত সরকার আমলে কতিপয় প্রভাবশালী মহল খালের মধ্যে তাদের নিজস্ব জমি থাকার অজুহাতে খাল খনন বন্ধ করে দেয়। ফলে কৃষিজমিতে পানি জমে ফসল নষ্ট হচ্ছে এবং কৃষকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
বাঘার সুধী মহল ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা জানান, উপজেলার বারখাদিয়া, হিজল পল্লি, দিঘা, নওটিকা, তেপুখুরিয়া, আরিফপুর ও আমোদপুর-সহ একাধিক বিলে দীর্ঘদিন ধরে পানি জমে থাকায় কৃষকরা ফসল উৎপাদন করতে পারছেন না। এর ফলে স্থানীয় অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং পরিবেশের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি, এ সমস্যা সমাধানে অবৈধ পুকুর খননের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি দ্রুত খাল খনন কার্যক্রম পুনরায় চালু করে পানি নিষ্কাশনের জন্য একটি স্থায়ী পরিকল্পনা গ্রহণ জরুরি।এ বিষয়ে এলাকার কয়েকজন শিক্ষক জানান, বাঘা উপজেলার জলাবদ্ধতা সমস্যা সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া অত্যন্ত প্রয়োজন। অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ করে এবং খাল খনন সম্পন্ন করা গেলে এলাকার শত শত কৃষক উপকৃত হবেন এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।
সার্বিক বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফফিউল্লাহ সুলতান জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা-সহ আমরা প্রায় তিন বছর আগে এ সমস্যা সমাধানের জন্য মাঠ পরিদর্শনে গিয়ে ছিলাম। বিলে অতিরিক্ত পুকুর খননের কারণে জলাবদ্ধতা বেড়েছে-এটি সত্য। তবে সে সময় ক্ষমতাশীন দলের কতিপয় প্রভাবশালী মহল খালের মধ্যে তাদের জমি থাকার অভিযোগ এনে আদালতে যাওয়ায় খাল খনন কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়। বর্তমানে সরকার তাদের নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী খাল খননের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করতে পারলে কৃষকরা আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হবেন এবং দেশের অর্থনীতিও এগিয়ে যাবে।
সানশাইন /শামি