সর্বশেষ সংবাদ :

রহমানিয়ার ৭৬ বছরের ঐতিহ্যবাহী ‘শাহী ফিরনি’

স্টাফ রিপোর্টার: কালের বিবর্তনে পরিবর্তন হয় মানুষের রুচি। আবার আধুনিকতার ভিড়ে চাপা পড়ে বহু পুরোনো ইতিহাস, ঐতিহ্য ও খাবার সামগ্রী। কিন্তু কিছু উপাদান ও জিনিসপত্র আজও ধরে রেখেছে তার নিজ সত্তা, অভিন্ন পরিচয়। রাজশাহীর রহমানিয়া রেস্তোরাঁর ‘শাহী ফিরনি’ তেমনই এক ঐতিহ্যের নাম। বিশেষত পবিত্র মাহে রমজানে ভোজনপ্রিয় রোজাদারদের ইফতারে এ ‘শাহি ফিরনি’ চাই-ই চাই। এভাবেই দীর্ঘ ৭৬ বছর থেকে নিজের পরিচয় ধরে রেখেছে এ ‘শাহি ফিরনি’।
রাজশাহী মহানগরীর ঐতিহ্যবাহী রহমানিয়া হোটেল অ্যান্ড রেস্তোরাঁ এবং তাদের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান ও রহমানিয়া প্লাস দিল্লির শাহি ফিরনির একমাত্র বিক্রেতা। এক নামেই যার পরিচিতি। তাই প্রতি বছর রমজান এলে রহমানিয়ার শাহি ফিরনি ছাড়া এখানকার অনেক মানুষের ইফতারে যেন পরিপূর্ণতা আসে না।
বর্তমান সময়ের আধুনিক স্বাদ ও গন্ধের মনমাতানো ইফতারসামগ্রীর ভিড়ে রাজশাহীতে এখনো জায়গা দখল করে আছে ঐতিহ্যবাহী শাহি ফিরনি। মহানগরীর গণকপাড়া মোড়ের রহমানিয়া হোটেল অ্যান্ড রেস্তোরাঁর এ ফিরনি ১৯৫০ সাল থেকে তৈরি করা হচ্ছে। এ রেস্তোরাঁয় গিয়ে দেখা যায়, অন্যান্য ইফতারের মধ্যে থরে থরে সাজানো আছে ‘শাহি ফিরনি’। ছোট ছোট মাটির পাত্রে পাওয়া যাচ্ছে সুগন্ধি ও সুস্বাদু মিষ্টান্ন এ খাবারটি। প্রতিটি পাত্রে ফিরনি মিলবে প্রায় ১০০ গ্রাম, যা বর্তমানে বিক্রি করা হচ্ছে ৩৫ টাকা করে। রাজশাহীতে শাহী ফিরনি জন্মের পর থেকেই মাটির পাত্রে বিক্রি হয়ে আসছে। আজও তার পরিবর্তন হয়নি। এখনো শাহী ফিরনি মাটির পাত্রে বিক্রি হয়।
রাজশাহী রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির সভাপতি ও ঐতিহ্যবাহী রহমানিয়া হোটেল অ্যান্ড রেস্তোরাঁর স্বত্বাধিকারী রিয়াজ আহম্মেদ খান জানান, ‘আজ থেকে ৭৬ বছর আগে অর্থাৎ ১৯৫০ সালে তার দাদা আনিসুর রহমান খান দিল্লি থেকে সুস্বাদু এ খাবারটি রাজশাহীতে নিয়ে আসেন। সেখান থেকে এর রন্ধনশৈলী ও উপকরণ নিয়ে রাজশাহীতে এর প্রচলন শুরু করেন। তার সুবাদে রাজশাহীতে বসেই মানুষ দিল্লির সেই স্বাদ গ্রহণের সুযোগ পান। মূলত ওই সময় থেকে এ সময় পর্যন্ত রাজশাহীতে শাহি ফিরনির কদর যেন এক রত্তিও কমেনি। যুগের পর যুগ ধরে স্বাদের ঐতিহ্য বহন করে আসছে দিল্লির এ ‘শাহি ফিরনি’। এভাবেই পার করছে ছয় যুগেরও বেশি সময়। প্রজন্মের পর প্রজন্ম স্বাদ গ্রহণ করে চলেছে রহমানিয়ার এ ফিরনির। সে সময় মূল্য ছিল ছয় আনা। আর এখন এর দাম ৩৫ টাকা। তবে স্বাদ ও যুগ হিসেবে এখনো তা অনেক কম।
রিয়াজ আহমেদ বলেন, গরুর খাঁটি দুধ, সুগন্ধি পোলাওয়ের চালের গুঁড়াসহ আরও কয়েকটি সিক্রেট উপাদান (মসল্লা) দিয়ে এ ‘শাহী ফিরনি’ তৈরি করার পর মাটির একটি পাত্রে করে গরম অবস্থায় জমিয়ে রাখা হয়। ঠান্ডা হয়ে পাত্রের ভিতর জমে গেলে পরে তা বিক্রি করা হয়। তবে আগে প্রতিদিন পাওয়া গেলেও বর্তমানে রমজান ও বিয়ে বা অন্য অনুষ্ঠানে বিশেষ অর্ডার ছাড়া শাহী ফিরনি তৈরি হয় না। স্বাদ ও গুণে অতুলনীয় এ শাহী ফিরনির জন্য রাজশাহীর রোজাদারদের কাছে অনেক চাহিদা। তাই এ বছর প্রথম রমজান থেকেই ইফতার উপকরণের শীর্ষে আছে তাদের এ ‘শাহী ফিরনি’।


প্রকাশিত: March 12, 2026 | সময়: 4:05 am | সুমন শেখ