, , ।
খাওয়া-দাওয়া, চলাফেরা এবং আরো কিছু দৈনন্দিন প্রয়োজন পূরণ করতে গিয়ে মানুষের দৈহিক কামনা-বাসনা অনেক সময় মাথা-চাড়া দিয়ে ওঠে। অনেক সময় সে উচ্ছৃংখল হয়ে ওঠে। মানুষের এই মৌলিক চাহিদাগুলোর অপব্যবহারের ফলে লাগামহীন ঘোড়ার মতো সমাজে অন্যায়, ব্যভিচার, এবং অসৎ কার্যকলাপের সূচি দীর্ঘ হয়। পানাহার ছাড়া মানুষ যেহেতু বাঁচতে পারে না, তাই কঠিন ক্ষুধার সময় তার যে কষ্ট অনুভব হয় তা সহ্য করার মাধ্যমে সে ধৈর্যশীল ব্যক্তিতে পরিণত হয়। এর ফলে অন্য যে কোন কঠিন পরিস্থিতি ধৈর্যের সাথে সে মোকাবেলা করতে পারে। আর এর প্রশিক্ষণ পায় সে এ রমজান মাসে।
তাইতো হাদিসে বলা হয়েছে, এ মাস হলো ধৈর্যের মাস, এ ধৈর্যের বিনিময় হলো জান্নাত। সমাজ হতে দরিদ্র শ্রেণীর মানুষেরা অনাহারে থেকে যে কষ্ট পায়, অনাহারীর সে ক্ষুধার জ্বালা রোজার মাধ্যমে উপলব্ধি করা যায়। এতে করে ক্ষুধার্ত ব্যক্তিদের প্রতি অনুকম্পা ও সহমর্মিতার অনুভূতি জাগ্রত হয়। সমবেদনায় সিক্ত হয়ে তাদের প্রতি অনেকের সাহায্যের হাত প্রসারিত হয়। ধনীদের মধ্যে সমাজের দরিদ্রতা বিমোচনে ভূমিকা পালন করার অনুভূতি জাগ্রত হয়। এ রোজা একজন ব্যক্তির ওপর অনেকগুলো আচরণগত নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে। মিথ্যা বলা, পরনিন্দা, ধোঁকা দেয়া, প্রতারণা, হিংসা-বিদ্বেষ, অশ্লীল কথা ও কাজ এ সবকিছুই এমনিতেই নিষেধ। কিন্তু রোজা পালনকালে এগুলো বর্জনের চর্চা হয় অনেক বেশি। রমজান মাসের এ চর্চা পরবর্তী এগারোটি মাস পালন করা হলে সুন্দর, সুশৃংখল ও পরিচ্ছন্ন সমাজ গড়ে ওঠা সহজেই সম্ভব।