সর্বশেষ সংবাদ :

অহংকারের একুশে

২১শে ফেব্রুয়ারি এলেই বাঙালি জনগোষ্ঠীর মধ্যে এক ভিন্ন আবহের সৃষ্টি হয়। স্মৃতিপটে ভেসে ওঠে বাঙালির অতীত গৌরবময় সংগ্রামের। যে সংগ্রামের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ছিল গণতান্ত্রিক মুক্তি ও নিজেদের সাংস্কৃতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার। ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান স্বাধীনতা লাভের পর রাষ্ট্রের নীতি ও আদর্শ নিয়ে জনমনে বিভ্রান্ত দেখা যায়। উগ্রতা, ধর্মীয় অন্ধতা ও সংকীর্ণতার বশবর্তী হয়ে শুধু ধর্মের ভিত্তিতে তৎকালীন পূর্বপাকিস্তানকে পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী শুরু করে বাঙালিকে দাবিয়ে রাখার মহাকৌশল। যার মূলমন্ত্রই ছিল অত্যাচার, অনাচার, বঞ্চনা, বৈষম্য ও নিপীড়ন। আর এই রাষ্ট্রীয় বৈষম্য ও দমননীতি অর্থনৈতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, গড়িয়েছে সাংস্কৃতিক ক্ষেত্র পর্যন্ত।
পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী প্রথমেই বাঙালিকে সাংস্কৃতিক ভাবে কোণঠাসা করতে বদ্ধপরিকর হয়ে উঠেছিল। একটু দেরিতে হলেও বাঙালি উপলব্ধি করতে পেরেছিল যে, তাদের ভাব প্রকাশের মাধ্যম মাতৃভাষাকে পরিবর্তন করার নীলনকশা প্রণয়ন করা হচ্ছে; কিন্তু লড়াকু মানসিকতার অধিকারী বাঙালি থেমে থাকেনি। তারা অধিকার আদায়ের দাবি নিয়ে সোচ্চার হয়েছে। তর্জন-গর্জন আর হুংকারে প্রকম্পিত করেছে রাজপথ। এ কাজে হাল ধরেছিল রাজনীতিসচেতন ছাত্রসমাজ, শিক্ষিতশ্রেণির বিশিষ্ট ব্যক্তিগণ নন। বৃহত্তর পরিসরে আন্দোলন শুরু হলে তারা অবশ্য সমর্থন জানাতে এগিয়ে আসেন। শাসকশ্রেণির অন্তর্ভুক্ত নন, বিশেষ সুবিধাভোগে বঞ্চিত এমন রাজনীতিকরাও ছাত্রসমাজের নেতৃত্ব মেনে নিয়ে ভাষা আন্দোলনের সংগ্রামে অংশ নিয়েছিলেন; কিন্তু মূল ক্রীড়নকের দায়িত্ব পালন করেছিলেন তৎকালীন ছাত্রসমাজের এক বৃহৎ অংশ।
আজ থেকে অর্ধশতকেরও বেশি সময় আগে তারুণ্যের অদম্য সঞ্জীবনী শক্তিতে উজ্জীবিত হয়েই তৎকালীন মৃত্যুঞ্জয়ী তরুণেরা মাতৃভাষার জন্য বুকের রক্ত দিয়ে নিজেদের স্বকীয়তা ও স্বাজাত্যবোধের মশাল জ্বালিয়ে প্রজ্বলিত করেছিলেন পুরা জাতিগোষ্ঠীকে।


প্রকাশিত: February 7, 2026 | সময়: 4:50 am | সুমন শেখ

আরও খবর