, , ।
স্টাফ রির্পোটার: রাজশাহীতে পৌষের শুরু থেকেই শীতের তীব্রতা বেড়েছে। সকালে ঘন কুয়াশা আর বাতাস জানান দিচ্ছে নগরীতে এসেছে বছরের সবচেয়ে শীতলতম ঋতু শীত। গত কয়েকদিনের ব্যবধানে শীতের তীব্রতা বেড়েছে দ্বিগুণ। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে গতকাল (বৃহস্পতিবার) রাজশাহীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে গত বুধবার তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা গত মঙ্গলবারের তুলনায় এক ডিগ্রি বেশি। রাজশাহী আবহাওয়া অফিস জানায়, তাপমাত্রা সামান্য বাড়লেও উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঠান্ডা বাতাস বইছে। এ কারণে তীব্র শীতের অনুভূতি এখনো পুরোপুরি কমেনি। এর আগে মঙ্গলবার তাপমাত্রা নেমে এসেছিল মৌসুমের সর্বনিম্ন ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। এতে শীতপ্রবণ অঞ্চলে জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে এবং তীব্র শীতে রাজশাহীর বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ বেড়েছে কয়েকগুণ বেশি। গত এক সপ্তাহে হাসপাতালে ভর্তি ও বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর সংখ্যাও বেড়েছে। এর মধ্যে অধিকাংশই শীতজনিত রোগে আক্রান্ত শিশু ও বয়স্ক মানুষ। অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামলাতে গিয়ে চিকিৎসক, নার্স ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। শীতের তীব্রতায় সবচেয়ে বিপর্যস্ত অবস্থায় রয়েছে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল। হাসপাতালটির শয্যা সংখ্যা ১ হাজার ২০০ হলেও বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন আছেন ২ হাজার ৫৩৭ জন রোগী। গত এক সপ্তাহে ভর্তি ও বহির্বিভাগ দুই জায়গাতেই রোগীর সংখ্যা দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে। শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া, কাশি, সর্দি ও ডায়রিয়াসহ নানা ঠাণ্ডাজনিত জটিলতা নিয়েও হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে অনেক রোগী।
রামেকের শিশু বিভাগে ৫৩ শয্যার বিপরীতে সেখানে বর্তমানে ১৪৩ জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। শিশু বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. শহীদা ইয়াসমিন জানান, ভর্তি হওয়া শিশুদের বেশিরভাগই সর্দি, ব্রঙ্কিওলাইটিস, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত। ঠাণ্ডা আবহাওয়ার কারণে শিশুরা দ্রুত অসুস্থ হয়ে পড়ছে।