সর্বশেষ সংবাদ :

শৈত্য প্রবাহে ক্ষতির মুখে কৃষক, কাতর শ্রমজীবিরা

নুরুজ্জামান, বাঘা: গত কয়েকদিন ধরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শৈত্য প্রবাহ বয়ে চলেছে। এ কারণে সূর্যের তেমন একটা দেখা মেলেনি। ফলে বেড়েছে শীতের তীব্রতা। বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে মানুষের স্বাভাবিক জীবন যাত্রা। পাশা-পাশি বিভিন্ন ফসলের ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে আলু, শরিষা, ধানের চারা, পেঁয়াজ, মশুর, সবজি ও চাষিরা।
কনকনে শীতে রাজশাহীর বাঘা সীমান্ত এলাকার চরাঞ্চলের লোকজন থর-থর করে কাপছে। বেড়েছে গরম কাপড়ের দোকানে ভিড়, দেখা দিয়েছে শীতজনিত রোগ-বালাই। ইতোমধ্যে মারা গেছে কয়েকজন বয়স্ক মানুষ। ডাইরিয়ায় আত্রান্ত রুগীদের ভিড় বেড়েছে স্থানীয় স্বাস্থ্য কেন্দ্রে। এদিক থেকে সরকারি সহায়তা কম্বলের সংখ্যা একে বারেই অপ্রতুল।
স্থানীয় লোকজন জানান, একটানা সত্য প্রবাহ এবং পৌষের কন-কনে শীতের কারণে রাজশাহীর সীমান্তবর্তী উপজেলা বাঘা-সহ ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন এ অঞ্চলের খেটে খাওয়া মানুষ এবং ফসল উৎপাদনকারিরা। বিশেষ করে আমগাছে কীটনাশক প্রয়োগ, আলু, ধানের চারা, মশুর, শরিষা, পেঁয়াজ ও সবজি চাষিরা চিন্তায় দিশেহারা হয়ে পড়ছেন। তারা বলছেন, যদি এ ভাবে শৈত্য প্রবাহ চলতে থাকে তাহলে রাজশাহী অঞ্চলের কৃষকদের প্রধান অর্থকারি ফসল আমের ব্যাপক ক্ষতি হবে।
রাজশাহীকে আম প্রধান অঞ্চল বলা হয়। এ উপজেলার কৃষক মাসুদ করিম বলেন, এখন আমগাছে মুকুল হওয়ার সময়। কিছু-কিছু বাগানে হালকা মুকুল আসতে শুরু করেছে। এ কারনে আমরা কৃষকরা বাগানে পোকা-মাকড় বালাই রক্ষায় কীটনাশক প্রয়োগ করতে শুরু করেছি। যাতে করে গাছে গরম ধরে এবং দ্রুত মুকুল বের হয়।
তিনি বলেন, যদি এ ভাবে শৈত্য প্রবাহ চলতে থাকে তাহলে ঘন কুয়াশায় গাছের পাতা-সহ মুকুল কালো হয়ে যাবে। এর ফলে ক্ষতিগ্রস্থ হবেন আম চাষিরা।
তথ্য মতে, বুধবার রাত থেকে রাজশাহী সহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বাড়তে শুরু করেছে ঘন কুয়াশা। রবিবার আবহাওয়া অফিসের দেয়া তথ্যে জানা গেছে, উত্তর অঞ্চলের তাপমাত্র ছিল ৬ থেকে ১০ ডিগ্রির মধ্যে। সঙ্গে যুক্ত হয় হিমালয় ছুঁয়ে আসা হিমশীতল হাওয়া। এতে কাঁপছে উত্তরের জনপদ। বিশেষ করে রাজশাহী এলাকার যে সমস্ত অঞ্চলে নদী রয়েছে সেই এলাকার মানুষগুলো শীতে থর-থর করে কাঁপতে শুরু করেছে। অনেকেই সকাল-সন্ধ্যায় খরকোঠা জ্বালিয়ে আগুনের তাপ গ্রহণ করছেন। জরুরী প্রয়োজন ছাড়া কেওই বাড়ি থেকে বের হচ্ছে না। দুর্ভোগ বেড়েছে ছিন্নমূল ও অসহায় মানুষদের। দেখা দিয়েছে বিভিন্ন রোগ-বালাই।
বাঘার পদ্মা বিধৌত সীমান্তবর্তী চকরাজাপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আজিজুল আজম বলেন, পৌষের কনকনে শীতে কাঁপছে চরাঞ্চলবাসি। শীত যতটা না কাবু করছে, তার চেয়ে বেশি কাবু করছে হিমেল হাওয়া। যেন শরীরে তীরের মত এসে বিধছে ঠান্ডা। এর ফলে একদিকে কষ্ট পাচ্ছে হত দরিদ্র মানুষ-অপর দিকে নষ্ট হচ্ছে সবুজ ভান্ডার হিসাবে খ্যাত চরাঞ্চলের বিভিন্ন ফসল। তবে এখন পর্যন্ত মেলেনি সরকারী সহায়তা কম্বল।
বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রধান কর্মকর্তা ডা. আসাদুজ্জামান জানান, শীতজনিত কারনে গত কয়েকদিনে হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা ডাবল হয়েছে। বিশেষ করে শিশু এবং বয়স্ক লোকজন বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। এদের অনেকেই ঠান্ডাজনিত ডায়রিয়া এবং শ্বাসকষ্ট সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে আসছেন। ফলে বেড না পেয়ে অনেকেই মেঝেতে শুয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
বাঘা উপজেলা কৃষি অফিসার শফিউল্লাহ সুলতান জনি বলেন, শৈত্য প্রবাহের কারণে ফসলের ক্ষতি হওয়াটায় সভাবিক। তবে এ অবস্থা খুব বেশি দিন স্থায়ী হবে না। আমরা প্রতি শীত মৌসুমে এ রকম অবস্থার মুখমুখি হয়। তিনি কুয়াশা জনিত আক্রমণ থেকে ফসলকে রক্ষা করতে কৃষকদের নানা পরামর্শ দিচ্ছেন বলে জানান।
বাঘা উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাম্মি আক্তার জানান, আমরা এখন পর্যন্ত সরকারি ভাবে ২ হাজার ৭ শত কম্বল পেয়েছি। এর মধ্যে ইউনিয়ন পর্যায়ে ২১শ কম্বল বিতরণ করা হয়েছে।


প্রকাশিত: January 4, 2026 | সময়: 1:08 am | সুমন শেখ