, , ।
স্পোর্টস ডেস্ক: হার্ট অ্যাটাক করে মারা গেছেন বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের নামকরা কোচ মাহবুব আলী জাকি। তাঁর মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে দেশের ক্রিকেটাঙ্গনে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শোক বার্তা দিয়েছেন তাসকিন আহমেদ, রিশাদ হোসেন, শরিফুল ইসলামরা।
ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে জাকির ছবি পোস্ট করে সাকিব লিখেছেন, ‘কোচ মাহবুব আলী জাকির মৃত্যুর খবরে আমি গভীরভাবে মর্মাহত ও দুঃখিত। একজন পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে আমার ছোটবেলা থেকেই আমি তাকে চিনি এবং তার সাথে আলাপচারিতার মধুর স্মৃতি আমার মনে আছে। তাঁর শেষ মুহূর্তগুলো ছিল ক্রিকেট মাঠ। তাঁর পরিবারের প্রতি আমার আন্তরিক সমবেদনা।’
তাসকিন লিখেছেন, ‘ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন…ঢাকা ক্যাপিটালসের আমাদের সহকারী কোচ মাহবুব আলী জাকি আজ হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। ম্যাচের ঠিক আগে তিনি খেলোয়াড়দের সাথে ওয়ার্ম আপ করছিলেন। কোচ, শান্তিতে ঘুমাও। তার পরিবার এবং পুরো ঢাকা ক্যাপিটালস পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা।’
বিগ ব্যাশ খেলতে এখন অস্ট্রেলিয়ায় আছেন রিশাদ। সেখান থেকেই জাকির মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন এই লেগস্পিনার। রিশাদ লিখেছেন, ‘সুদূর অস্ট্রেলিয়াতে যখন শুনছি মাহবুব আলী জ্যাকি স্যার আর আমাদের মাঝে নেই, অনেক কষ্ট অনুভব করছি। স্যারের সাথে আমাদের তৎকালীন অনূর্ধ্ব ১৯ দলের একটা আলাদা ভালোবাসার যায়গা ছিলো। আল্লাহ ওনাকে জান্নাতবাসী করুন। ইন্না লিল্লাহি অইন্না ইলাইহি রাজিউন। সত্যিই আমরা আল্লাহর। আমরা তাঁর কাছেই ফিরে যাব।’
শোক জানাতে গিয়ে শরিফুল লিখেছেন, ‘ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। খবরটা শুনে এখনো বিশ্বাস করতে পারছি না–আপনি আর আমাদের মাঝে নেই মাহবুব আলী জ্যাকি স্যার। অনূর্ধ্ব-১৯ সময় থেকে আপনার হাত ধরেই আমাদের শেখা শুরু, এরপর বিশ্বকাপ জয়; প্রতিটি মুহূর্তে আপনি পাশে ছিলেন অভিভাবকের মতো। গত পরশু দিনও প্র্যাকটিসে আমরা কত হাসি-আড্ডা করেছি, ভাবতেই বুকটা ভার হয়ে আসে। আল্লাহ তায়ালা আপনাকে জান্নাতুল ফেরদৌসের সর্বোচ্চ মর্যাদা দান করুন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারকে এই কঠিন সময়ে ধৈর্য ধারণের তৌফিক দিন। আমিন।’
জাতীয় দলের এক সময়কার নিয়মিত মুখ রুবেল হোসেন লিখেছেন, ‘মাঠেই হার্ট অ্যাটাক করে মৃত্যুবরণ করলেন ঢাকার সহকারী কোচ, জাকি ভাই। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। মৃত্যু কতটা সত্য মৃত্যু কতটা অনিবার্য এই সংবাদটা খুবই হৃদয়বিদারক, আল্লাহতালা আপনাকে জান্নাতের সর্বোচ্চ স্থানটি নসিব করুন আমীন।’
দিনের প্রথম ম্যাচে রাজশাহীর বিপক্ষে মাঠে নেমেছে ঢাকা। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে আগে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেন দলটির অধিনায়ক মোহাম্মদ মিঠুন। এরপরই আসে জাকির অসুস্থতার খবর। হার্ট অ্যাটাক করলে মাঠেই সিপিআর দেওয়া হয় তাঁকে। এরপর কাল বিলম্ব না করে হাসপাতালে নেওয়া হয় দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটর পরিচিতি এই কোচকে। কিন্তু আর বাঁচানো যায়নি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৫৭ বছর।
ইমাদ-নাসিরের নিয়ন্ত্রিত বোলিং, শামীম-সাব্বিরের ব্যাটে ঢাকার জয়
স্পোর্টস ডেস্ক: বোলারদের নিয়ন্ত্রিত পারফরম্যান্সে রাজশাহী ওয়ারিয়র্সকে মাঝারি সংগ্রহে আটকে দিয়ে শেষ পর্যন্ত চাপের মধ্যেও জয় তুলে নিয়েছে ঢাকা ক্যাপিটালস। ইমাদ ওয়াসিমের আঁটসাঁট স্পেল ও নাসির হোসেনের স্পিনে ভর করে রাজশাহী থামে ১৩২ রানে। জবাবে লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে একাধিকবার বিপদে পড়লেও শেষদিকে শামীম হোসেন পাটোয়ারি ও সাব্বির রহমানের দৃঢ়তায় ৫ উইকেটের জয় নিশ্চিত করে ঢাকা।
টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা রাজশাহীর ইনিংস শুরু থেকেই ধাক্কায় পড়ে। ইনিংসের প্রথম বলেই সাহিবজাদা ফারহান আউট হলে চাপে পড়ে দলটি। তানজিদ হাসান তামিম ও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত কিছুটা বাজে সময় কাটানোর চেষ্টা করেন। তবে নাসির হোসেনের অফ স্পিনে আক্রমণাত্মক হতে গিয়ে তানজিদ ১৫ বলে ২০ রান করে ক্যাচ দেন।
ইয়াসির আলী রাব্বি ও শান্ত দুজনই সেট হলেও ইনিংস বড় করতে ব্যর্থ হন। ইমাদ ওয়াসিমের বলে ছক্কা মারার চেষ্টায় শান্ত ফিরেছেন ২৮ বলে ৩৭ রান করে। মুশফিকুর রহিমও ভালো শুরু পেলেও ইনিংস টানতে পারেননি, ২৩ বলে ২৪ রানেই থামেন তিনি। মিডল ওভারে দ্রুত উইকেট হারানো রাজশাহীর ইনিংসে শেষদিকে কিছুটা লড়াইয়ের রসদ জোগান মোহাম্মদ নাওয়াজ। পাকিস্তানি অলরাউন্ডার ২৬ বলে ২৬ রান করে দলকে ১৩২ রানে পৌঁছে দেন।
ঢাকার হয়ে ইমাদ ওয়াসিম নেন ৩ উইকেট, নাসির হোসেন শিকার করেন ২টি। ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ভালো শুরু পায়নি ঢাকা ক্যাপিটালসও। প্রথম দিকেই সাইফ হাসান ফিরে গেলে চাপ বাড়ে। এরপর উসমান খান ও আব্দুল্লাহ আল মামুন ৩৭ রানের জুটি গড়ে ইনিংস গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। উসমান ১৮ রান করে ফিরে গেলে আবার ছন্দ হারায় ঢাকা।
অধিনায়ক মোহাম্মদ মিঠুনও বড় ইনিংস খেলতে পারেননি, তার ব্যাট থেকে আসে ১২ রান। এক প্রান্ত আগলে রেখে লড়াই চালিয়ে যান আব্দুল্লাহ আল মামুন। হাফসেঞ্চুরি থেকে অল্পের জন্য বঞ্চিত এই ব্যাটার ৪৫ রান করে আউট হন।
পরবর্তীতে নাসির হোসেন ধীরগতির হলেও দায়িত্বশীল ইনিংস খেলেন। তার ১৯ রানের অবদান ঢাকাকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখে। শেষদিকে শামীম ও সাব্বির চাপ সামলে ম্যাচ বের করে আনেন। সাব্বির ১০ বলে ২১ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন, শামীম ১৩ বলে ১৭ রান করে অপরাজিত থাকেন। তাদের ১৮ বলে ৩৬ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতেই নিশ্চিত হয় ঢাকার জয়।
রাজশাহীর বোলারদের মধ্যে মোহাম্মদ নাওয়াজ ২১ রান দিয়ে ৩ উইকেট পান। তানজিম সাকিব ও সন্দীপ লামিচানে নেন একটি করে উইকেট। শেষ পর্যন্ত রাজশাহী ওয়ারিয়র্সকে ৫ উইকেটে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসী সূচনা করল ঢাকা ক্যাপিটালস।