সর্বশেষ সংবাদ :

বাঘা উপজেলায় চতুর্থবারের মতো শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষকের স্বীকৃতি পেলেন ঝর্ণা খাতুন

নুরুজ্জামান, বাঘা :

মানুষ জন্মগতভাবে সাফল্যের মুকুট পরে পৃথিবীতে আসে না ; অধ্যবসায়, নিষ্ঠা আর কঠোর পরিশ্রমের দীপ্ত পথ পেরিয়েই অর্জিত হয় সম্মানের শিখর। জীবনের প্রতিটি সফলতার পেছনে থাকে অদম্য ইচ্ছাশক্তি, আত্মবিশ্বাস এবং নিরলস সাধনা। সেই সাধনারই উজ্জ্বল প্রতিচ্ছবি হয়ে রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় আবারও শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছেন পীরগাছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ঝর্ণা খাতুন। সব মিলে তিনি চতুর্থবারের মতো শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষকের স্বীকৃতি পেলেন। একই সাথে বিদ্যালয় কেউ শ্রেষ্ঠত্বের আসনে নিয়ে গেছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার ৭৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে শিক্ষা বিস্তার, শিক্ষার মানোন্নয়ন, শারীরিক কসরত, খেলাধুলা, সংস্কৃতি চর্চা ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টিতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এ বছর তাকে “শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক” হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে। এরমধ্য দিয়ে তিনি চতুর্থবারের মতো এই গৌরবময় সম্মান অর্জন করলেন।

গত সোমবার উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা পদক বাছাই কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাম্মী আক্তার এবং সদস্য সচিব উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মীর মামুনুর রহমান স্বাক্ষরিত এক পত্রে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, পীরগাছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন সহ-শিক্ষা কার্যক্রম ও শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। সার্বিক মূল্যায়নে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ঝর্ণা খাতুনকে এ বছরেরও শ্রেষ্ঠত্বের সম্মাননায় ভূষিত করা হয়েছে।

 

জানা গেছে , ঝর্ণা খাতুন এর আগেও তিনবার শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছেন। শুধু তাই নয়, ২০২৩ সালে তার নেতৃত্বে পরিচালিত পীরগাছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে। পরবর্তীতে ২০২৫ সালে তিনি “গুণী শিক্ষক” সম্মাননায় ভূষিত হন। আর ২০২৬ সালে চতুর্থবারের মতো শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক নির্বাচিত হয়ে শিক্ষা অঙ্গনে নিজের সাফল্যের মুকুটকে আরও উজ্জ্বল করলেন।

নিজের এই অর্জনের প্রতিক্রিয়ায় ঝর্ণা খাতুন বলেন, “বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারী, শিক্ষার্থী, স্কুল পরিচালনা কমিটি ও অভিভাবকদের আন্তরিক সহযোগিতা, পরামর্শ ও অনুপ্রেরণার কারণেই এই সম্মান অর্জন করা সম্ভব হয়েছে। এটি শুধু আমার ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং আমাদের সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফসল।”তিনি এ সম্মাননার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে জীবনের শেষদিন পর্যন্ত শিক্ষার মানোন্নয়নে নিরলস ভাবে কাজ করে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

সানশাইন /শামি


প্রকাশিত: May 24, 2026 | সময়: 3:32 pm | Daily Sunshine

আরও খবর