, , ।
স্টাফ রিপোর্টার, শিবগঞ্জ: আধিপাত্য বিস্তারের জেরে যুবদল কর্মীকে কুপিয়ে হত্যার পর তার বাড়িতেও আগুন দিলো প্রতিপক্ষরা। ঘটনাটি চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার নয়ালাভাঙ্গা এলাকার।
এদিকে এ ঘটনার একদিন পার হতে চললেও পুলিশ এষনও কাউকে গেপ্তার করতে পারেনি। হত্যাকান্ডের কারনও তারা জানাতে পারেনি। হয়নি থানায় কোন মামলা।
নিহত নয়ন (৩২) মোড়লপাড়া এলাকার নয়ালাভাঙ্গা গ্রামের আব্দুল করিমের ছেলে। নয়ন শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহবায়ক আশরাফুল হকের অনুসারী এবং নয়ালাভাঙ্গা ইউনিয়ন যুবদলের সক্রিয় কর্মী। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এ. এন. এম ওয়াসিম ফিরোজ। তিনি জানান, নয়নের নামে সন্ত্রাসী কার্যক্রমে যুক্ত থাকার অভিযোগে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।
স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, সোমবার ৮ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় নয়ালাভাঙ্গা বাবুপুর মোড়ে একদল ব্যাক্তি নয়নকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে মারাত্মক ভাবে জখম করে। পরে তার ভাইসহ স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে নিয়ে যায় এবং অবস্থার অবনতি হলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে নয়ন মারা যায়।এছাড়া ঘটনার পর নয়নের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় প্রতিপক্ষরা এবং পরে শিবগঞ্জ থেকে ফায়ার সার্ভিসের একটি টিম এসে আগুন নিয়ন্ত্রনে আনেন।
স্থানীয়দের একটি অংশের দাবী নিহত নয়ন আশরাফ গ্রুপের অনুসারী হলেও দ্রুত সে সরকারের মোড় থেকে রানিহাটি ও নবাব মোড়ের বিভিন্ন এলাকায় এককভাবে দাপট খাটাত। আর এ কারনেই তার উপর হামলা চালানো হয়।
এ ব্যাপারে নিহত নয়নের মা শুকতারা বেগম কয়েকজনের নাম জানিয়ে বলেন, আকস্মিক তাকে ডেকে নিয়ে ৮/১০ জনের একটি দল নয়ন কে কুপিয়ে হত্যা করে এবং এরপর বাড়িতে আগুন দেয়।তিনি ছেলে হত্যার বিচার দাবী করেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালের কতব্যরত চিকিৎসক ডা. ইসারুল ইসলাম তুষার প্রতিপক্ষের উপরিযুক্ত কোপানোর কারনে অতিরিক্ষ রক্ষক্ষরনে নয়নের মৃত্যুর কারণ বলে প্রাথমিক ধারনা করেন।
এই বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ওয়াসিম ফিরোজ বলেন, প্রতিপক্ষের হামলায় নয়ন নামে একজন ব্যাক্তি মারা গেছেন। আধিপত্য বিস্তার নাকি অন্যকিছুর কারণে হত্যা সেই বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি। সন্ত্রাসী কার্যক্রমে যুক্ত থাকার অভিযোগে নয়নের নামে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। এছাড়া এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
অন্যদিকে শিবগঞ্জ থানার ওসি হুমায়ন কবির জানান, লাশ ময়না তদন্ত শেষে হস্তান্তর করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে দাফন শেষে মামলা হতে পারে পরিবারের পক্ষ থেকে। এ ঘটনায় কোন গেপ্তার না থাকলেও পুলিশ তদন্ত অব্যাহত রখেছে।