, , ।
স্টাফ রিপোর্টার, বাঘা: রাজশাহীর বাঘার পদ্মার চরে জমি দখলকে কেন্দ্র করে ডাবল মাডারের ঘটনায় আলোচিত হয়ে উঠেছেন কাকন বাহিনী। এ ঘটনায় কুষ্টিয়ার দৌলতপুর থানায় কাকনকে প্রধান আসামী করে ২৩ জনের নামে বুধবার বিকেল একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন নিহত আমানের পিতা মিনহাজ মন্ডল। এই হত্যায় জড়িতদের বিচার ও ফাঁসিব দাবি জানিয়ে শুক্রবার বেলা ১২ টার দিকে বাঘার খানপুর বাজারে মানব বন্ধন করেছেন গুলিবিদ্ধ চারজনের পরিবার সহ এলাকাবাসী।
মানব বন্ধনে দাঁড়িয়ে মিনহাজ মন্ডল বলেন, কাকন বাহিনী ও তাদের লোকজন প্রকাশ্য দিবালকে নদী পথে স্পিডবোটে চড়ে অস্ত্র নিয়ে মহাড়া দিচ্ছে। আমরা অবিলম্বে এসব হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার সহ আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবি জানাচ্ছি। অপর একজন মাহাবুল আলম বলেন, কাকন বাহিনীর ফসল লুটের প্রতিবাদ করতে গিয়ে গত বছর পিস্তলের গুলিতে গরুত্বর আহত হয়েছিল খানপুর গ্রামের সাহাবুল ইসলাম। তাকে ঢাকায় চিকিৎসা করানো হয়েছিল।
তিনি আরো বলেন, রাজশাহীর বাঘা, নাটোরের লালপুর এবং কুষ্টিয়ার দৌলতপুর পদ্মা চরের একমাত্র আতঙ্ক এখন কাকন বাহিনী। চরের জমি ও বালি মহল দখল, চাঁদাবাজি আর হামলার কারণে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে তিন জেলার তিন উপজেলার মানুষ। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আতঙ্কিত বাঘা উপজেলার চরাঞ্চলবাসী। গত সোমবার এ উপজেলার খানপুর পদ্মা নদীর পাশে জমি এবং খড় দখলকে কেন্দ্র করে গুলি চালিয়েছে কাকন বাহিনী। এতে চারজন গুলি বিদ্ধ হলেও ঘটনার দিন নিহত হন আমান এবং নাজমুল। আপর দুজন আহতরা হলেন, মুনতাজ এবং রাকিব।
এদিকে বাঘা থানা পুলিশ জানায়, বারবার অভিযান চালিয়েও বাহিনীর প্রধান কাকনের হদিস পায়নি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তবে এটুকু জানা গেছে, কাকনের আদি বাড়ি কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের রায়চা গ্রামে। বাবার নাম মৃত জমির উদ্দিন। তিনি একজন স্বাস্থ্য সহকারী ছিলেন। কাকন ১৯৯৪ সালে সিভিল বিষয়ে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং সম্পন্ন করেন। এরপর একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেছেন। ২০০৭ সালে তিনি সৌদি আরবে চলে যান।
কয়েক বছর পর ফিরে এসে আওয়ামী লীগের নেতাদের আশ্রয় প্রশ্রয়ে এলাকার বালুমহাল গুলো নিয়ন্ত্রণে নিতে শুরু করেন। এই বালুমহাল নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়েই তিনি গড়ে তোলেন সন্ত্রাসী বাহিনীর রাজত্ব। এখন এই বাহিনীর সদস্য প্রায় ৪০ জন।
উল্লেখ্য এ বছর বন্যার পর খানপুর পদ্মার চরাঞ্চলের প্রায় পাঁচশত বিঘা জমির খড় দখল নিয়ে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার কাকন বাহিনীর সঙ্গে বাঘার মনতাজ মন্ডল গ্রুপের দ্বন্দ্ব চলছিল। সবশেষ গত সোমবার সকালে মনতাজ মন্ডল ও তার সহযোগীরা জমিতে খড় কাটতে গেলে দুপুরের দিকে কাকন বাহিনীর ১০-১৫ জনের একটি সশস্ত্র দল নদী পথে স্পিডবোটে চড়ে ঘটনাস্থলে আসে এবং এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। এতে চারজন গুলিবিদ্ধ হন।
গোলাগুলির শব্দ শুনে শুরুর দিকে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করার সাহস পাননি এবং গুলির তীব্রতার কারণে আহতদের উদ্ধারে ব্যর্থ হন লোকজন। পরে আরও বেশী সংখ্যক গ্রামবাসী ঘটনাস্থলে পৌঁছালে কাকন বাহিনীর লোকজন সটকে পড়েন। তখন আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে আমান মন্ডল মারা যান। পরে রামেক হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান নাজমুল হক।
শুক্রবার মানব বন্ধনে আমান মন্ডলের স্ত্রী আসমা বেগম এবং নাজমুলের স্ত্রী শারমিন মুর্ছা যেতে-যেতে বলেন, আমরা কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার কথিত কাকন বাহিনী সহ তাদের সহযোগী সকল খুনিদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার এবং বিচারের দাবি জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলায়মান শেখ জানান, কাকন বাহিনীর সদস্যরা মাঝে মধ্যেই এলাকায় গোলাগুলি করে আতঙ্ক সৃষ্টি করেন। গত ৫ জুন ঈশ্বরদী উপজেলার সাড়াঘাটে বালু মহলের নিয়ন্ত্রণ নিতে ফিল্মি স্টাইলে অস্ত্রের মহড়া ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটান কাকন বাহিনীর সদস্যরা।
সবশেষ তারা জমি ও খড় দখলকে কেন্দ্র করে বাঘা উপজেলার খানপুর গ্রামের চারজনকে গুলি করেন। এর মধ্যে দুজন মারা যান। এ বিষয়ে থানায় মামলা রজু করা হয়েছে। আমরা তাদের গ্রেপ্তার করার চেষ্টা চালাচ্ছি।