, , ।
ইবতিদা ফেরদৌস: রাজশাহীর নওদাপাড়া শহীদ জিয়া শিশু পার্কের পাশের এক সাদামাটা উঠোনে, রাতের মৃদু আলোয় কয়েকজন তরুণ বসে আছেন চকিতে। সামনে কলা পাতা বিছানো, তাতে হলুদ মাখা খিচুড়ি আর কুড়মুড়ে মাছ ভাজি। পাশে একটি ছোট টর্চলাইটের আলো তারই নিচে হাসি-আড্ডায় জমে উঠেছে ‘চড়ুইভাতি’।
এই আয়োজনের পেছনে আছে এক মিষ্টি গল্প। শহীদ জিয়া শিশু পার্কের পাশে ভাড়ালিপাড়ার মুন্না, মেহেদী, মাসুদ, রায়হান, হাবিব, আকাশ, জাহিদ ও আকাশ-২ এই তরুণদের দল কয়েক মাসে আগে বাড়ির পাশের ডোবায় ছোট ছোট মাছ ছেড়েছিলেন। দিন কয়েক পর সেই ডোবা থেকেই ধরেছিলেন মাছগুলো। আর সেই মাছ দিয়েই আয়োজন করেন বন্ধুদের পাড়াভিত্তিক ভোজেরকলা পাতায় চড়ুইভাতি।
এক সময় বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে কলা পাতায় খাবার পরিবেশন ছিল এক ঐতিহ্য। বিশেষত খিচুড়ি, মাছ ভাজি বা পান্তাভাতের মতো খাবার কলা পাতার ঘ্রাণে পেত এক ভিন্ন মাত্রা। কলা পাতা শুধু খাবারের পাত্র নয়, এটি ছিল পরিবেশবান্ধব, সহজলভ্য ও সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক। তবে আধুনিকতার ছোঁয়ায় এখন সেই ঐতিহ্য প্রায় বিলুপ্ত। প্লাস্টিকের প্লেট, ফাস্টফুড আর শহুরে ব্যস্ততার ভিড়ে কলা পাতার সেই সবুজ আবেদন হারাতে বসেছে।
তবু নওদাপাড়ার এই তরুণদের ছোট্ট উদ্যোগ দেখিয়ে দেয় ঐতিহ্য হারায় না, হারিয়ে যায় শুধু অভ্যাসে। একটু ইচ্ছা আর ভালোবাসা থাকলেই পুরোনো স্বাদ ফিরে আসতে পারে ঘরে ঘরে।
রাতের শেষ ভাগে যখন ভোজ শেষ হলো, কলা পাতার উপর ছড়িয়ে রইল মাছের কাঁটা আর খিচুড়ির ঘ্রাণ। বন্ধুরা হাসিমুখে বলল, এমন আয়োজন আবারও হবে পুরোনো দিনের মতো, কলা পাতার ঘ্রাণে।