, , ।
সানশাইন ডেস্ক: ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি অগ্রগতি এবং বিরাজমান পরিস্থিতিতে দিক নির্দেশনা দিতে এবার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন।
মঙ্গলবার নির্বাচন ভবনে ইসি সচিব আখতার আহমেদ এই বৈঠকের খবর দিয়ে বলেছেন, আগামী ২০ অক্টোবর আইনশৃঙ্খলার সঙ্গে যেসব সংস্থা জড়িত রয়েছে তাদেরকে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। নির্বাচন নিয়ে ইতোমধ্যে অংশীজনের সঙ্গে ধারাবাহিক সংলাপে শিক্ষাবিদ, নির্বাচন বিশেষজ্ঞ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, নারী নেত্রী ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক সেরেছে ইসি।
এসব বৈঠকে বিরাজমান আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, ভোটের পরিবেশ ও ইসির শক্ত ভূমিকা নেওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে। ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, “আমরা বিভিন্ন অংশীজনদের সঙ্গে বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা করেছি। আলোচনা পদ্ধতি চলমান রয়েছে। আমরা আগামী ২০ অক্টোবর আইনশৃঙ্খলার সঙ্গে যে সকল সংস্থা জড়িত রয়েছে তাদেরকে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তাদের সঙ্গে আমরা আলোচনা করবো।”
ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি চলছে পুরোদমে। ইতোমধ্যে কেনাকাটার কাজ শেষ করেছে কমিশন। জাতীয় নির্বাচনের এমন প্রস্তুতির মধ্যে গণভোটের আলোচনা ঐকমত্য কমিশনে হলেও তা নিয়ে ইসির কাছে সরকারের তরফে কোনো তথ্য নেই। সচিব আখতার আহমেদ বলেন, “ফেব্রুয়ারি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আমাদের নির্বাচনি যে সমস্ত মালামাল রয়েছে সেগুলো আমাদের সংগ্রহে চলে এসেছে।”
আগামী নির্বাচন পিআর পদ্ধতিতে ও গণভোট নিয়ে দলগুলোর প্রস্তাবের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে ইসি সচিব বলেন, “(পিআর) এই ব্যাপারে আমার বাড়তি কোন মন্তব্য করার সুযোগ নাই। চূড়ান্তভাবে ইসি যখন এই ব্যপারে সিদ্ধান্ত নিবে তখন জানাবো। “আর গণভোটের ব্যাপারেও একই কথা। যতক্ষণ না পর্যন্ত ইসিকে বলা হচ্ছে ততক্ষন পর্যন্ত আমাদের কোন কিছু (করার) নাই।”
এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ইসি তো আসলে নির্বাচনটা ব্যবস্থাপনা করে সিদ্ধান্তটা তো প্রাসঙ্গিকভাবে অন্য জায়গা থেকে আসে। গণভোট জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে আলাদা আর একসাথে, এটা তো প্রাসঙ্গিক না। “বিষয় হচ্ছে সরকার যে সিদ্ধান্ত দেবে ইলেকশন কমিশন এক্সিকিউট করবে। গণভোটের ব্যাপারে সরকার সিদ্ধান্ত দেওয়ার আগে নিশ্চয় ইলেকশন কমিশনের সাথে আলোচনা করবে। আমার বিশ্বাস এটা তো তখন সেইভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। যেটা এখনো পর্যন্ত কোনো ক্রিস্টালাইজড কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি, সেটা নিয়ে অনুমানের ভেতরে, উপরে কথা বলাটা আমি মনে করি সমিচীন না।”
গণভোট নিয়ে আগাম মন্তব্য করতে চান না তিনি। ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, “একটা জিনিস বলি গণভোট হবে কি, হবে না, কখন হবে বা আদৌ হবে কি না, এ ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনে এখনো পর্যন্ত কোনো বিষয় উপস্থাপিত হয়নি। যেটা উপস্থাপিত হয়নি সে বিষয়ে কথা বলার সুযোগই আমার নেই।”
প্রবাসী ভোটারদের নিবন্ধনের কাজ এগিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন ইসি সচিব। এখন পর্যন্ত ১১ দেশে এনআইডি সেবা চালু হলেও ভোটের আগে আরও ৮টি দেশে চালুর প্রস্তুতি চলছে। প্রবাসী ভোটারদের জন্য নিবন্ধন অ্যাপও উদ্বোধনের প্রক্রিয়া চলছে। তিনি বলেন, “প্রবাসী ভোটারদের কাজের অগ্রগতি চলছে। এখন পর্যন্ত আমরা ১১টা দেশে নিবন্ধন কার্যক্রম চালাচ্ছি। আমাদের অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট যেটা আছে সে অ্যাপ ডেভেলপমেন্টের কাজটা আমরা আশা করছি এ মাসের শেষ সপ্তাহে অথবা নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে চালু করতে পারবো।”
ইসি সচিব বলেছেন, নিবন্ধন কার্যক্রমের পরে ভোটার তালিকা নিবন্ধন চলছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক এবং ওয়াশিংটনে এ কার্যক্রম চলছে। মিয়ামি ও লস এঞ্জেলে এটা চালু হয়ে যাবে। “এরপরে আরও কয়েকটা দেশে আমরা চালু করব। তবে এ নির্বাচনের মধ্যে কতটুকু তাদেরকে অন্তর্ভুক্ত করা যাবে এটা একটু প্রশ্নসাধ্য। তবে আমরা চেষ্টা করছি। ৪টা দেশে আমরা কারিগরি দল পাঠাবো। “এ দলগুলো হলো, ওমান, দক্ষিণ আফ্রিকা, মালদ্বীপ ও জর্ডান। আমরা এর অতিরিক্ত আরও ৪ টা দেশের (বাহরাইন, সিঙ্গাপুর, ফ্রান্স ও স্পেন) সম্মতি পেয়েছি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের।
জাতীয় নির্বাচনের আগে নিবন্ধন দিতে এবার ৭৩টি পর্যবেক্ষক সংস্থাকে বাছাই করেছে ইসি। এরমধ্যে এসব সংস্থা নিয়ে কারো আপত্তি রয়েছে কি না তা নিয়ে বিজ্ঞপ্তিও দিয়েছে। কিছু সংস্থার অস্তিত্ব নিয়ে গণমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার পর এ সংখ্যা কমার আভাস দিয়েছে ইসি সচিব আখতার আহমেদ।
তিনি বলেন, “আমরা বেশকিছু প্রস্তুতি পর্ব সম্পূর্ণ করেছি। আরো কিছু প্রস্তুতি পর্ব চলমান আছে৷ প্রস্তুতি একটা চলমান পক্রিয়া এবং নির্বাচন হবে। নির্বাচনে পর স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়া হবে। কাজেই এটা চলমান পক্রিয়া। এ পক্রিয়ার ধারাবাহিকতায় স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের বিষয় আমরা যে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছিলাম। সেটা বেশ অর্থবহ তথ্য আমরা পেয়েছি। এর ফলে আমরা প্রকৃত পর্যবেক্ষকদের চিহ্নিত করতে পারবো। যাদের দিয়ে আমরা ভালো পর্যবেক্ষণ পাবো। ”