, , ।
রকিবুল হাসান রকি, পুঠিয়া: প্রায় আড়াই কিলোমিটার দূরে স্কুল। রাস্তায় চলে না কোন গাড়ি। রাস্তায় ব্যাপক কাদা পানি। হাতে জুতা, পিঠে স্কুল ব্যাগ নিয়ে এভাবেই পড়াশোনা করেছেন তারা।
এবারের ৪৪ তম বিসিএস পরীক্ষায় পররাষ্ট্র ক্যাডারে দেশ সেরা শামীম শাহরিয়ার। আড়াই কিলোমিটার কাদার রাস্তা পেরিয়ে যেত স্কুলে। মাহাবুল হক বাবলু পড়াশোনা করে হয়েছেন জজ, তিনিও একই ভাবে যেতেন স্কুলে। সাব্বির হোসেন সুমন তিনি সরকারি উকিল (এপিপি) কাদা পানির রাস্তা তাকেও মাড়াতে হয়েছে। কিংবা হাফিজুর রহমান, সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, তারও আফসোস ওই রাস্তা নিয়ে।
এছাড়াও ওই এলাকায় বসবাস করেন ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার সহ বহু সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। তাছাড়াও ভোগান্তির শেষ নেই কৃষকদের। তারা ফসল বপন করতে যেমন কষ্ট, ফসল ঘরে তুলতেও তেমন কষ্ট। শুধু একটি রাস্তার জন্য। কাদা পানির কারণে রাস্তায় গাড়ি চলাচল না করায় তাদের ফসলও হাটে নিয়ে যেতে পারেন না। হঠাৎ অসুস্থ হওয়া রোগি বা গর্ভবতী মায়ের থাকে না দুঃখের শেষ। মোটরসাইকেল বা প্রাইভেট কার কেনার সামর্থ থাকলেও কেনেন না তারা। এমন দুর্ভোগপূর্ণ এলাকাটি হচ্ছে রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার নলপুকুরিয়া গ্রাম।
ওই এলাকায় প্রায় ৫-৭ হাজার মানুষের বসবাস। সেখানে নেই কোন প্রাথমিক বিদ্যালয় বা অন্য কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। তাই বাধ্য হয়ে চলতে হয় ওই রাস্তা দিয়েই। বৃষ্টি হলে ওই এলাকার মানুষের দুর্দশা বলার আর ভাষাই থাকে না। সরেজমিনে গিয়ে মিলেছে এর সত্যতাও।
রাস্তার ভোগান্তির বিষয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র ক্যাডার শামীম সারোয়ারের কৃষক পিতা হাতেম আলী তিনি বলেন, আমার ছেলে বর্ষার মৌসুমে এই কাদামাটি পেরিয়ে স্কুলে যেত। এমনকি এখনো ছোট ছোট বাচ্চারা স্কুলে যেতে দ্বিধাবোধ করে।
এছাড়াও বিভিন্ন রকমের ফসল মাঠ থেকে আনতেও অনেক সমস্যা হয় আবার কষ্ট করে বাসায় নিয়ে আসার পর বাজারে বিক্রি করতে নিয়ে যেতেও সমস্যা হয় গাড়ি পাওয়া যায় না। এছাড়াও গর্ভবতী মা বা কেউ অসুস্থ হলে তাকে কষ্ট করে মাথায় করে নিয়ে যেতে হয়। কোন গাড়ি ওই রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে পারে না। আমরা এ অঞ্চলের মানুষ খুব সমস্যায় রয়েছি যত দ্রুত পারা যায় রাস্তাটা ঠিক করে দেওয়ার জোর দাবি রইল।
নজরুল ইসলাম নামের এক শিক্ষক বলেন, ওই রাস্তার কারণে ওই এলাকার মানুষের জীবনমানের উন্নয়নে ব্যাপক ব্যাঘাত ঘটছে। ওই এলাকার বাচ্চারা স্কুলে আসতে তাদের খুব সমস্যা হয়। স্বাধীনতার পর অনেক এমপি মন্ত্রী গেছে তবু ওই রাস্তার কোন ব্যবস্থা হয়নি।
ওই এলাকার বাসিন্দা হাফিজুর রহমান, সহকারী শিক্ষা অফিসার তিনি বলেন, সকালে বৃষ্টি হলে দুইতিন দিন ছোট বাচ্চারা স্কুলে যেতে পারে না। তাতে পড়াশোনার যে মুল ধারা সেটা নষ্ট হয়ে যায়। আমার মেয়েও স্কুলে যায় প্রায় দিন জামাকাপড়ে কাদা মেখে বাসায় আসে। আমার মনে হয় পৃথিবীর কোথাও এতো নিম্ন মানের রাস্তা নাই। কেউ হঠাৎ স্ট্রোক করে বা গর্ভবতী মায়েদের নিয়ে অনেক বিপদে থাকতে হয়। ৭ম শ্রেণির শিক্ষার্থী ফারিহা রহমান বলেন, আমার স্বপ্ন আমি ডেপুটি কমিশনার (ডিসি) হবো। এই রাস্তায় কখনো সাইকেল বা মোটরসাইকেল চলে না। স্কুলে যেতে অনেক কষ্ট হয়।
উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী, পারভেজ নেওয়াজ খান বলেন, ওই রাস্তার ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে। জেলায় পাঠিয়ে দিয়েছি। আশা করছি খুব শীঘ্রই রাস্তার কাজ শুরু হবে।
এবিষয়ে পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ কে এম নুর হোসেন নির্ঝর বলেন, খুব দ্রুত কার্যকরী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
রাজশাহীর এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী, জহুরুল ইসলাম বলেন, উপজেলা প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলেছি। উক্ত রাস্তা নিয়ে আমরা কাজ শুরু করে দিয়েছি। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে টেন্ডার দিয়ে রাস্তায় কাজ শুরু করা হবে।