, , ।
আরিফুল ইসলাম তপু, বাগাতিপাড়া: নাটোরের বাগাতিপাড়ায় নবনির্মিত উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামী সংস্কৃতি কেন্দ্র উদ্বোধনের কয়েক মাসের মধ্যেই ভগ্নদশার শিকার হয়েছে। মসজিদটি চলতি বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি বিকেলে উদ্বোধন করেন ধর্ম বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন।
মঙ্গলবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা গেছে, মসজিদের ছয়টি এসির মধ্যে চারটি বন্ধ, সুইচবোর্ডে পানি ঢুকে উত্তর পাশের লাইন অকেজো, সিসি ক্যামেরা ও ফায়ার অ্যালার্ম নষ্ট, প্রধান ফটকের গেট বিকল, জানালা দিয়ে বৃষ্টির পানি ঢুকে পড়ছে, টয়লেটের পাইপ চুইয়ে পানি পড়াতে নিচতলার সিলিং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং খাবার পানির ব্যবস্থা নেই। এছাড়া, মসজিদের চার পাশের দেয়ালে ছোট-বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। ছাদের সিগনাল বাতি নেই।
স্থানীয় মুসল্লি অধ্যাপক আব্দুর রব বলেন, ‘নামাজের সময় এসি কাজ করে না, ছাদ থেকে পানি পড়ে। এমন অবস্থা খুবই দুর্ভাগ্যজনক।’ রেসমা খাতুন আরেকজন বলেন, ‘নিরাপত্তার জন্য স্থাপিত ক্যামেরা ও গেটও অকেজো। গত সোমবার সন্ধ্যায় মসজিদের ওয়াশরুমের কিছু সামগ্রী চুরির ঘটনাও ঘটেছে।
এদিকে ইসলামী ফাউন্ডেশনের উপজেলা ফিল্ড সুপারভাইজার মাকছুদুর রহমান জানিয়েছেন, ‘ত্রুটিগুলো উল্লেখ করে যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন দেওয়া হয়েছে, তবে এখনো কোনো সুরাহা হয়নি।’
এ বিষয়ে মসজিদটির সভাপতি ইউএনও মারুফ আফজাল রাজন বলেন, ‘ত্রুটি যাচাই করা হচ্ছে। গণপূর্ত মন্ত্রনালয়ের মাধ্যমে এসব সমস্যা গুলো দ্রুত সমাধান করা হবে বলেও আশা করেন তিনি।’
অন্যদিকে মসজিদটির নির্মাণকাজ করা মিম ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটির সত্ত্বাধিকারী তারেক হোসেন জানান, কাজটি তার প্রতিষ্ঠানটি পেলেও প্রকৃত কাজ মাঠে সম্পন্ন করেছেন সাবেক ফ্যাসিস্ট এমপি শহিদুল ইসলাম বকুল সহ ঘনিষ্ঠজনরা। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, কাজের বিলও তাদের অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি মসজিদটির কাজে বিভিন্ন সাপ্লায়ার প্রায় ৩১ লাখ ৮১ হাজার টাকা বকেয়া দাবি করেছেন।
স্থানীয়রা বলছেন, অবকাঠামোগত ফাটল ও পানি প্রবেশ- এই ঝুঁকি আগে সমাধান করতে হবে। এরপর বৈদ্যুতিক ও নিরাপত্তা সরঞ্জাম দ্রুত সচল করতে হবে। তাদের দাবি, গ্যারান্টিুওয়ারেন্টি অনুযায়ী দায়-দায়িত্ব নির্ধারণ করে দ্রুত টেকনিক্যাল অডিট ও সংস্কার করতে হবে। উদ্বোধনের কয়েক মাসের মধ্যেই এভাবে ভঙ্গুরতা ও অনিয়ম প্রকল্পের স্বচ্ছতা ও টেকসই নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছে।