সর্বশেষ সংবাদ :

বৃষ্টি হলেই হাটু পানি হয় নওগাঁ শহরের দক্ষিণ সুলতানপুর স্কুলের মাঠ ও কক্ষে

স্টাফ রিপোর্টার, নওগাঁ: নওগাঁ শহরের দক্ষিণ সুলতানপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ একটু বৃষ্টি হলেই হাটু পানিতে ডুবে যায়। এছাড়াও নীচতলার সকল ক্লাশে ও অফিস কক্ষে পানি প্রবেশ করে মুল্যবান কাঠের ও স্টিলের আসবাবপত্র নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বর্ষাকালে বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা মাঠ পানিতে তলিয়ে থাকার কারনে খেলাধুলার কোন সুযোগ পায় না। পানির মধ্যেই কষ্ট করেই বিদ্যালয়ে আসতে হয় ও ক্লাশ রুমে যেতে হয়।
একটু অসাবধানতা হলেই পড়ে গিয়ে পানিতে ও কাদায় বই পুস্তক ভিজে নষ্ট হয়ে যায়। প্রতিদিনই ৪-৫ জন ছাত্রছাত্রী এর শিকার হয়। এ ব্যাপারে প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট বার বার দরখাস্ত ও তাগাদা দিয়েও কোন লাভ হয়নি বলে জানিয়েছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি।
সুত্রে জানা গেছে, দক্ষিণ সুলতানপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ১৯৪৫ সালে এলাকার হিতোষী মৃত করিম বক্স নিজে ৫৪ শতাংশ জমি দান করেন এবং এলাকার কয়েকজন বিদ্যানুরাগী ব্যক্তিবর্গের দ্বারা বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত করেন। তিনি ছিলেন নিঃসন্তান। বর্তমানে বিদ্যালয়ে ৮ জন শিক্ষক শিক্ষিকা পাঠ দান করেন। বিদ্যালয়ে মোট ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা ৩৫০ জন। বিদ্যালয়টি শহরের পৌর এলাকার মধ্যে হলেও ওই এলাকায় ধান চালের বয়লার ও অটোমেটিক চাল কল সবচেয়ে বেশী। ওই এলাকায় গরীব ও শ্রমজীবি শ্রেণির লোকের বাস বেশী। ফলে তাদের সন্তানরাই ওই বিদ্যালয়ে পড়াশুনা করে। আর যাদের একটু সামর্থ আছে তাদের সন্তানদের শহরের নামকরা সরকারী বিদ্যালয়ে অথবা ও নামকরা কিন্ডার গার্ডেনে পড়াশুনা করায়। শ্রমজীবি ও গরীব মানুষের সন্তানদের একমাত্র ভরসা ওই বিদ্যালয়ে পড়াশুনা করার।
বিদ্যালয়ে সামনে দিয়ে তথা পশ্চিম ধার দিয়ে পাকা রাস্তা। বিদ্যালয়ে ভবন দুটি মাঠের উত্তর ও পূর্ব দিকে আর অভিভাবক ছাউনী ও শিশুদের খেলার কিছু সামগ্রী মাঠের দক্ষিন প্রান্তে। রাস্তা থেকে বিদ্যালয় ও মাঠটি ৩-৪ ফুট নীচু হওয়ায় কারনে বৃষ্টি হলেই এক হাটু পানিতে তলিয়ে যায়।
বিদ্যালয়ের দক্ষিণ ও পূর্ব কোনা দিয়ে পানি নিস্কাশন হত। কিন্তু বিদ্যালয় পার্শ্ববর্তী লোকজনরা বসতবাড়ী উঁচু করার কারনে পানি আর নিস্কাশন হতে পারে না। ফলে মাঠটি পানিতে তলিয়ে থাকে। বর্ষাকালে ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা থেকে সম্পূর্ণ রুপে বঞ্চিত। ওই সময় তারা প্রতিদিনই কষ্ট করে বিদ্যালয়ে লেখাপড়া শিখার জন্য যায় ও শিক্ষকরা গিয়ে কষ্ট করে পাঠ দান করেন। অভিভাবকরা তাদের ছাউনী থেকে ক্লাশে তাদের সন্তানদের সাথে দেখা করতে পানি ও কাদা দিয়ে যাতায়াত করতে হয়।
এ ব্যাপারে ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এম মাসুদ রানা জানান, আমি এই বিদ্যালয়ে প্রায় ৬ বছর ধরে আসার পর থেকে এই অবস্থা দেখছি। বিদ্যালয়ের এই অবস্থা দেখে আমার উর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে এবং পৌরসভার মেয়র বা পৌর প্রশাসককেও বার বার পত্র ও তাগাদা দিয়েও কোন লাভ হয়নি বলেও জানান তিনি। বিদ্যালয়টি খ গ্রেড থেকে আমরা শিক্ষকরা অনেক কষ্ট করে ক গ্রেডে উন্নতি করেছি। শিক্ষার মানও আগের তুলনায় অনেক ভাল করেছি কিন্তু মাঠের কারনে খেলাধুলায় দিকে বেশী এগিয়ে যেতে পারছি না বলে জানান তিনি।
এ ব্যাপারে সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইবনুল আবেদীন এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমার জানা আছে। অতি অল্প সময়ের মধ্যে বরাদ্দ পেলেই আমি সমস্যা সমাধানের ব্যবস্থা গ্রহন করব বলে জানান তিনি।


প্রকাশিত: August 25, 2025 | সময়: 2:26 am | সুমন শেখ