সর্বশেষ সংবাদ :

নামজারী খাজনা রসিদ খতিয়ান সবই ভূয়া, তবুও সম্পাদন হলো দলিল

স্টাফ রিপোর্টার, জয়পুরহাট: জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে বোনকে পৈত্রিক স¤পত্তি থেকে বঞ্চিত করতে টাকার বিনিময়ে দুই ভাই দলিল লেখকের মাধ্যমে সাব-রেজিস্ট্রারের সাথে যোগসাজশ করে ভুয়া খাজনা রসিদ, নামজারি ও খতিয়ান প্রস্তুত করে জমি দলিল করে নেওয়ার অভিযোগ ওঠেছে।
এই ঘটনায় ওই দলিলে ব্যবহৃত ভুয়া বন্টন ও খারিজের বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) দায়িত্বে থাকা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী বোন। সেই অভিযোগের সত্যতাও পেয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার।
জানা গেছে, গত ৭ জুলাই নম্বর ২১৬৪-২৫ নম্বর দলিল আক্কেলপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখক হুমায়ূন কবির ওরফে রানা লিখেন এবং সাব রেজিস্ট্রার এসএম কামরুল ইসলাম স¤পাদন করেন। দাতা তাহমিনা বিবি তার দুই ছেলে গ্রহিতা আব্দুল মুমিন মন্ডল ও আব্দুল আলিম মন্ডলকে দেন। বোনকে বাদ দিয়ে মায়ের কাছ থেকে দুই ভাইয়ের জমি দলিল করে নেওয়ার বিষয়টি বোন জানতে পেরে খোঁজ নেওয়া শুরু করে। পরে ভুয়া বন্টন ও খারিজের মাধ্যমে দলিলটি করা হয়েছে এমন অভিযোগ এনে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট লিখিত অভিযোগ করেন বোন নাছিমা বেগম।
এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে ওই দলিলের তথ্য চেয়ে গত ২২ জুলাই সাব-রেজিস্ট্রারকে চিঠি দেয় ইউএনও। সাব-রেজিস্ট্রারের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই দলিল সংক্রান্ত জালিয়াতির সত্যতা পেয়েছে উপজেলা নির্বাহী অফিসার। ভূক্তভোগী বোন নাছিমা বেগম বলেন, আমাকে স¤পতি থেকে বঞ্চিত করতে আমার ভাইয়েরা ভুয়া নামজারী (ডিসিআর), খতিয়ান, খাজনা রশিদ দলিল লেখকের মাধ্যমে প্রস্তুত করে সাব-রেজিস্ট্রারের সাথে যোগসাজোশ করে দলিল করে নিয়েছে। এ ঘটনায় ইউএনওর কাছে লিখিত অভিযোগ করেছি।
জমি গ্রহিতা এক ভাই আব্দুল মুমিন মন্ডল বলেন, আমি দলিল লেখক রানার কাছে গিয়ে তাঁকে শুধু জমির দলিলগুলো দেখিয়েছি। তিনি আমার কাছে দলিল স¤পাদনের জন্য সমিতির খরচ সহ ২০ হাজার টাকা নিয়েছেন। দলিল স¤পাদন করতে আর যে কাগজপত্র গুলো লাগে, সেগুলো দলিল লেখক নিজেই সংগ্রহ করে দলিলও লিখেছেন। এরপর সাব-রেজিস্ট্রারকে দিয়ে দলিল স¤পাদন করেছেন।
এ ব্যাপারে আরও জানতে আক্কেলপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিস চত্বরে গিয়ে দলিল লেখক হুমায়ন করীর রানাকে পাওয়া যায়নি। তার ফোনেও কোন সাড়া পাওয়া যায়নি। তবে জানা গেছে, দলিল লেখক হুমায়ন করীর রানা আক্কেলপুর দলিল লেখক সমিতির সাধারণ স¤পাদক। সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দলিল স¤পাদন করতে গেলে সরকারি খরচ বাদে সমিতিতে দলিল প্রতি চার হাজার টাকা গ্রহীতাকে দিতে হয়। জমির মূল্য পাঁচ লাখের অধিক হলে ¯¬াব ভিত্তিক ৫ থেকে ৮ হাজার টাকা দিতে হয় সমিতিকে। এই টাকা থেকে দলিল প্রতি ১৫শ টাকা যায় সাব-রেজিস্ট্রারের পকেটে।
দলিল লেখক সমিতির সভাপতি আমিনুল ইসলাম পল্টু বলেন, আগে সমিতি থাকলেও তার কার্যকারিতা ছিলনা। গত তিন থেকে চার মাস আগে সমিতি চালু করা হয়েছে। দলিল লেখকদের সুরক্ষা ও সমিতি পরিচালনা করার জন্য দলিলপ্রতি কিছু টাকা আদায় করা হয়। তবে ৪ থেকে ৮ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ সঠিক নয়।
অভিযোগের বিষয়ে সাব রেজিস্ট্রার এসএম কামরুল ইসলাম ফোনে বলেন, আমার বিষয়ে আনীত সকল অভিযোগ ভিত্তিহীন। জেলা রেজিস্ট্রার আব্দুল বারী বলেন, ভুয়া কাগজে দলিলের বিষয়ে মৌখিক ভাবে অবগত হয়েছি, তবে কোন লিখিত অভিযোগ পাইনি। আর সমিতি থেকে টাকা নেওয়ার বিষয়ে কখনো কোন দলিল লেখক আমাকে অবগত করেনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আক্কেলপুর উপজেলা নির্বার্হী অফিসার মনজুরুল আলম বলেন, অভিযোগের প্রক্ষিতে দলিল নম্বর উল্লেখ্য করে কী মূলে দলিল স¤পাদন হয়েছে সাব রেজিস্ট্রারের কাছে এ বিষয়ে তথ্য চাওয়া হয়। সাব রেজিস্ট্রার তথ্য সরবাহ করেছেন। নামজারী, খাজনা রসিদ, খতিয়ান সবই ভূয়া পাওয়া গেছে।
এ বিষয়ে আইনগত কোন পদক্ষপ নেওয়া হবে কী না জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রাপ্ত তথ্য পর্যালোচনা করে প্রতারকদের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি সমিতির বিষয়ে বলেন, দলিল লেখকরা সমিতির মাধ্যমে অতিরিক্ত টাকা নেন বিষয়টা আমি জেনেছি। এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত আমাকে কেউ অভিযোগ দেয়নি। এ ব্যাপারেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


প্রকাশিত: August 4, 2025 | সময়: 3:15 am | সুমন শেখ