, , ।
স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী বিভাগীয় কমিটিসহ নওগাঁর মহাদেবপুর ও সাপাহার, জয়পুরহাট ও গোমস্তাপুর উপজেলায় প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় কিন্ডারগার্টেন তথা বে-সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের দাবীতে মানববন্ধন ও স্মারক লিপি প্রদান করা হয়েছে।
রাজশাহী বিভাগীয় কমিটি: বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন সোসাইটি বিভাগীয় কমিটির উদ্যোগে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার এর মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টা বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। বৃহস্পতিবার দুপুর পৌনে ১টার দিকে পঞ্চম শ্রেণির প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় কিন্ডারগার্টেন ও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের সুযোগ ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃক প্রকাশিত পত্র বাতিলের দাবিতে প্রধান উপদেষ্টা বরাবরে এই স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
এসময়ে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন সোসাইটি রাজশাহী বিভাগের সভাপতি গোলাম সারওয়ার স্বপন, বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন সোসাইটি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা সভাপতি ও রাজশাহী বিভাগয়ি সহ-সভাপতি আফসার আলী, রাজশাহী মহানগরের ক্রীড়া সচিব সাইদুর রহমান ও অর্থ সচিব আলমঘীর দেওয়ানসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
স্মারকলিপিতে তারা উল্লেখ করেন বাংলাদেশে ব্যক্তি উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত প্রায় ৪৫ হাজার কিন্ডারগার্টেন রয়েছে। এছাড়াও সেনাবাহিনী, পুলিশ প্রশাসন, বিজিবি, জেলা প্রশাসন পরিচালিত, চেম্বার অব কমার্স ও লায়ন্স ক্লাব পরিচালিত অসংখ্য বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ হতে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে ছাত্র-জনতার প্রাণের বিনিময়ে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে আপনি দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দেশের একটি ভঙ্গুর অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার ও দেশের সার্বিক পরিস্থিতি উন্নয়নে ভূমিকা রাখার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তারা।
তারা আরো উল্লেখ করেন প্রাথমিক শিক্ষায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশাপাশি নিজস্ব অর্থায়নে পরিচালিত কিন্ডারগার্টেন ও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো শিক্ষাক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী ও সময়োপযোগী ভূমিকা পালন করে চলছে এবং কিছুটা হলেও বেকার সমস্যা দূরীকরণে ভূমিকা রাখছে। কিন্তু হঠাৎ করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে ১৫ জুলাই ২০২৫ ইং তারিখে নিবাহী কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক প্রকাশিত পত্রের মাধ্যমে কিন্ডারগার্টেন ও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীকে বৃত্তি পরীক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করে শুধুমাত্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৫ অনুষ্ঠিত হবে মর্মে উল্লেখ করা হয়।
পত্রটি বৈষম্যমূলক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। ২০০৯ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা ও ২০২২ সালে অনুষ্ঠিত বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে কিন্ডারগার্টেন ও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ব্যাপক কৃতিত্ব অর্জন করেছে। বৃত্তি শুধু একটি আর্থিক অনুদানই নয় এটি একটি শিশুর আত্মবিশ্বাস, মেধার স্বীকৃতি এবং শিক্ষাগত অগ্রগতির অনুপ্রেরণা। যখন একটি শিশু দেখবে তার বন্ধুরা প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছে, কিন্তু সে অংশগ্রহণ করতে পারছে না শুধুমাত্র তার বিদ্যালয়ের স্বীকৃতির ধরন ভিন্ন বলে তখন তার মনে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং শিশুদের মধ্যেই একটি বৈষম্যমূলক মনোভাব তৈরি হবে। কিন্ডারগার্টেন ও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা যদি প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে না পারে তবে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকগণ মানষিক চাপ ও যন্ত্রণার সম্মুখীন হবে, যার দায়-দায়িত্ব সরকারের উপরেই বর্তাবে বলে উল্লেখ করেন।
বৈষম্যবিরোধী সরকারের আমলে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা আবার বৈষম্যের শিকার হবে এটি অপ্রত্যাশিত। ৫ আগষ্ট ২০২৪ এ ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পরেও প্রশাসনের কিছু কিছু স্তরে ঘাপটি মেরে থাকা বিগত সরকারের দোসররা সরকারকে বিপাকে ফেলার জন্য চক্রান্তে লিপ্ত আছে। ফলে কিন্ডারগার্টেন ও বহু বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা সরকারি প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে না। তারা এই পত্রটিকে প্রত্যাখান করে প্রত্যাহারের দাবি জানানা। এনিয়ে আগামীতে যেন সরকারি প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য কিন্ডারগার্টেন ও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকসহ বিশাল জনগোষ্ঠীকে যাতে আন্দোলনে নামতে না হয় সেই বিষয়ে সুদৃষ্টি কামনা করেন তারা।
অন্যান্য স্থানের মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সারাদেশের প্রায় ৬০ হাজার কিন্ডারগার্টেন স্কুলে ৬ লক্ষাধিক শিক্ষক প্রাথমিক শিক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও চলতি বছরের ১৭ জুলাই প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (সাধারণ প্রশাসন) মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে বলা হয়েছে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পিটিআই সংলগ্ন পরীক্ষণ বিদ্যালয়, সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শুধু বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে। কিন্তু বিগত ২০০৯ সাল থেকে অনুষ্ঠিত প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় স্ব স্ব প্রতিষ্ঠান থেকে অংশগ্রহণের মাধ্যমে কিন্ডারগার্টেন এর শিক্ষার্থীরা বৃত্তি পরীক্ষায় অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে। তারা আরো বলেন, জুলাই বিপ্লবে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে দেশ যখন সামনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে ঠিক তখনই কিন্ডারগার্টেন তথা দেশের প্রায় ৮০ লক্ষ শিক্ষার্থীসহ ৬ লক্ষ শিক্ষক ও অভিভাবকদের সাথে বৈষম্যমূলক আচরণ করা হচ্ছে। এতে সারাদেশের কিন্ডারগার্টেন স্কুলগুলোর কয়েক লক্ষ মেধাবী শিক্ষার্থী তাদের মেধা যাচায়ের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবে বলে আশংকা করেন তারা। অবিলম্বে উক্ত প্রজ্ঞাপন সংশোধন করে কিন্ডারগার্টেন তথা বে-সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়ার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক ও অভিভাবকরা।
মহাদেবপুর: উপজেলা কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশনের উদ্যোগে বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা পরিষদের সামনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবকরা অংশগ্রহণ করেন। পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা বরাবর স্মারক লিপি প্রদান করা হয়। মানববন্ধনে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, দেওয়ান তৌফিকুল ইসলাম, আলহাজ্ব রফিকুল ইসলাম রফিক, সাদেকুল ইসলাম সুইট, মো. সাইদুর রহমান, মো. আইনুল হোসেন, জাহিদ হাসান, আজাদুল ইসলাম আজাদ, ইউনুসার রহমান, মোশারফ হোসেন প্রমূখ।
সাপাহার: সাপাহার উপজেলা পরিষদের সামনে সাপাহার উপজেলা কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে ঘণ্টাকাল ব্যাপী এই মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
অ্যাসোসিয়েশনের সহ সভাপতি তিলনা আল ফালাহ একাডেমির পরিচালক শামসুল হক বক্তব্য রাখেন। এসময় সাপাহার উপজেলার সকল কিন্ডারগার্টেন স্কুলের পরিচালক ও শিক্ষক শিক্ষিকাগণ উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে বলেন, দাবি পূরণ না হলে আগামী দিনে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। মানববন্ধন শেষে প্রধান উপদেষ্টা বরাবর একটি স্মারকলিপি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম আহমেদ বরাবর হস্তান্তর করা হয়।
জয়পুরহাট: প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় কিন্ডারগার্টেন ও বেসরকারি বিদ্যালয় অন্তর্ভুক্ত করার দাবিতে জয়পুরহাটে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে শহরের জিরো পয়েন্টে ঘন্টাব্যাপী এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলার প্রায় দুইশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারী, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
এসময় জেলা বেসরকারি কিন্ডার গার্টেন এসোসিয়েশনের সভাপতি সুফিয়া সুলতানার সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন আল-হেরা একাডেমীর পরিচালক সুলতান মো. শামসুজ্জামান, আইডিয়াল কিন্ডাগার্টেন পরিচালক শামিম হোসেন ও বেস্ট ওয়ে কিন্ডানগার্টেনের পরিচালক রমজান আলী প্রমুখ। পরে ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসকের কাছে দাবি দাওয়া নিয়ে স্মারকলিপি দেওয়া হয়।
গোমস্তাপুর: গোমস্তাপুর উপজেলা কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশন এর উদ্যোগে উপজেলা পরিষদ চত্বরে মানববন্ধন করেছে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধন চলাকালে বক্তব্য রাখেন, এসোসিয়েশন এর সভাপতি জিন্নাউল আওয়াল, সাধারণ সম্পাদক সারওয়ার হাবিব, ভিষন স্কুল পরিচালক তরিকুল ইসলাম বকুল, গাজী শিশু শিক্ষা নিকেতন এর অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন রনি, তোজাম্মেল স্কুলের পরিচালক সালেহ আহমেদ বাচ্চু, মহলড্রীম স্কুলের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রব, গ্রীণ ভিউ স্কুলের প্রধান শিক্ষক শায়েলা পারভীন ও এসোসিয়েশন এর কোষাধ্যক্ষ মইদুল ইসলাম। মানববন্ধন শেষে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার নিকট স্মারকলিপি প্রদান করা হয় উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাকির মুন্সীর মাধ্যমে।