সর্বশেষ সংবাদ :

রাজশাহী-১ আসনে মাঠে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী কে এম জুয়েল

স্টাফ রিপোর্টার: আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনে আগাম নির্বাচনি তৎপরতা শুরু করেছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা। যদিও নির্বাচন কমিশন থেকে এখনো নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা হয়নি, তবে ডিসেম্বরকে টার্গেট করে দলগুলো প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে।
এই আসনে সবচেয়ে বেশি তৎপর দেখা যাচ্ছে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের। তবে তাঁদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ বিরোধ ও গ্রুপিং রাজনৈতিক অঙ্গনে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। আর এ সুযোগ নিচ্ছে জামায়াতে ইসলামী। বিএনপির দ্বন্দ্বের আড়ালে মাঠ গোছাচ্ছে জামায়াত। ফলে আগামী নির্বাচনে বিএনপির জন্য বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়াবে জামায়াতের প্রার্থী বলে মনে করছেন নির্বাচন বিশ্লেষকরা।
তবে রাষ্ট্র মেরামতে বিএনপির ৩১ দফা কর্মসূচি জনগণের মাঝে পৌঁছে দিতে রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাবেক বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার কে এম জুয়েল গণসংযোগ করে যাচ্ছেন। রাজশাহীর গোদাগাড়ী ও তানোর উপজেলায় বিভিন্ন গ্রামে প্রতিদিনই স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে তিনি এ গণসংযোগে অংশ নেন। তিনি এবারে রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী।
জনগণের কাছাকাছি থেকে আওয়ামী শাসনামলে লড়াই সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন ইঞ্জিনিয়ার কে এম জুয়েল। তিনি ২০০১ সালের নির্বাচনে ব্যারিস্টার আমিনুল হকের পাশাপাশি মনোনয়ন উত্তোলন করেছিলেন। পরে ব্যারিস্টার আমিনুল হকের অনুরোধে ও সম্মান দেখিয়ে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেন। এছাড়াও তিনি ২০০৮ সালেও সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র উত্তোলন করেছিলেন। সেই নির্বাচনে ব্যারিস্টার আমিনুল হকের সাথে তাকেও মিথ্যা মামলায় জড়ালে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য করা হয়।
এদিকে গণসংযোগ চলাকালে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, পথচারী ও এলাকাবাসীর হাতে বিএনপির রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা কর্মসূচির প্রচারপত্র তুলে দেন তিনি।
এ সময় কে এম জুয়েল বলেন, “গত ১৫ বছরে রাষ্ট্রের সবকিছু ধ্বংস করে দিয়েছে আওয়ামী লীগ সরকার। এখন রাষ্ট্রটিকে নতুন করে সাজাতে হলে আগে সেটি মেরামত করতে হবে। এজন্যই বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ৩১ দফা প্রণয়ন করেছেন। এই ৩১ দফাই রাষ্ট্র মেরামতের রূপরেখা। এর বিকল্প নেই।”
তিনি আরও বলেন, “৩১ দফা বাস্তবায়ন করতে হলে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। তাই ধানের শীষে ভোট দিয়ে জনগণ যেন তাদের রাষ্ট্রীয় অধিকার ফিরে পায়- সেই আহ্বান জানানো হচ্ছে।” গণসংযোগ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আশির দশকের ছাত্রনেতা কে এম জুয়েল আরও বলেন, “আমি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। মহানগর বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলাম। পাশাপাশি রাজশাহী-১ আসনে দীর্ঘ সময় ধরে জনগণের সঙ্গে মিশে কাজ করেছি।”
তিনি আরও বলেন, “গত ১৫ বছরে আমার ওপর একাধিক রাজনৈতিক মামলা হয়েছে। আমাকে নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। এমনকি কারাভোগও করেছি। এসব ত্যাগের মধ্য দিয়েই দলের পাশে থেকেছি। সে কারণে আমি এই আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশা করছি।”
তিনি জানান, “এর আগেও আমি দুইবার দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলাম। এবারও আশা করছি দল আমার ত্যাগ ও নিবেদন মূল্যায়ন করে আমাকে মনোনয়ন দেবে।” গণসংযোগে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা এলাকাবাসীর সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় ও বিএনপির ৩১ দফার লিফলেট বিতরণ করেন।


প্রকাশিত: July 13, 2025 | সময়: 4:20 am | সুমন শেখ