সর্বশেষ সংবাদ :

আত্রাইয়ে বাদাম চাষে ঝুঁকেছে কৃষক, বাম্পার ফলনের আশা

ওমর ফারুক, আত্রাই: নওগাঁর আত্রাইয়ে বিগত দিনের চেয়ে অধিক পরিমান জমিতে বাদামের চাষ হয়েছে। এবারে কৃষকরা বাদামের বাম্পার ফলনের আশা করছেন। মোৗসুমের শুরু থেকে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বাদামের গাছগুলোও দর্শনীয় হয়ে উঠেছে।
কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, রবি ও খরিপ-১ দুই মৌসুমে বাদামের চাষ হয়। তবে রবি মৌসুমেই বাদামের চাষ লাভজনক। এবার রবি মৌসুমে উপজেলার ৮ ইউনিয়নে প্রায় দুইশত হেক্টর জমিতে বাদাম চাষ করা হয়েছে। এসব চাষকৃত বাদামের মধ্যে মাইচর ও বাসন্তি জাতের বাদাম এলাকায় ব্যাপকহারে চাহিদা সৃষ্টি করেছে। উপজেলার শলিয়া, মদনডাঙ্গা, গন্ডগোহালি, বৈঠাখালী ও উদয়পুরসহ বিভিন্ন বালি মাটি এলাকাতে এবার ব্যাপকহারে কৃষকরা বাদামচাষে ঝুঁকেছে।
আবহাওয়া অনুকূল ও সঠিক পরিচর্যার কারণে বাদামের গাছগুলো দর্শনীয় হয়ে উঠেছে। কোন দুর্যোগ না হলে বাম্পার ফলনের আশাবাদি তারা। ইতোপূর্বে আত্রাই নদীর দুই পাশদিয়ে গড়ে তোলা বেড়িবাঁধ বিভিন্ন সময় বিভিন্ন স্থানে ভেঙে অনেক আবাদী জমিতে বালু জমে যাওয়ায় কৃষকরা হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়ে। এসব জমি ফসলের অনুপযোগী হয়ে যায়।
ফলে জমিগুলো দীর্ঘদিন থেকে পরিত্ত্যক্ত থাকলেও ওইসব জমিতে এবার বাদামচাষ করে কৃষকরা দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। বর্তমানে বোরো চাষের চেয়ে বাদাম চাষে বেশি লাভবান হওয়ায় পরিত্ত্যক্ত ওই জমিগুলোর কদরও অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। জানা যায়, বাদামের ফলন ভাল হলে বিঘা প্রতি ৯ থেকে ১০ মণ হারে ফলন হয়ে থাকে। বাজার দর অনুযায়ী বোরো চাষ থেকেও বাদামের চাষ লাভজনক।
বৈঠাখালী গ্রামের জহুরুল ইসলাম ও আতিউল ইসলাম বলেন, এবারে আমরা ৭ বিঘা জমিতে বাচাদ চাষ করেছি। বাদাম চাষ তুলনা মূলক বোরো ধানের চেয়ে বেশি লাভবান। বোরোচাষে উৎপাদন খরচ অনেক বেশি অথচ দাম কম। আর বাদাম চাষে উৎপাদন খরচ একেবারেই কম অথচ দাম বেশি পাওয়া যায়।
কৃষি অফিসের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা বাদাম চাষের শুরু থেকেই আমাদেরকে বিভিন্নভাবে পরামর্শ দিয়েছেন। তার পরামর্শ অনুযায়ী পরিচর্যা করায় আমাদের বাদামগুলো রোগ বালাই মুক্ত রয়েছে।
উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা হাফিজুল ইসলাম ও হাসান মাহমুদ বলেন, আমরা দুইজন বিশা ইউনিয়নের দায়িত্বে রয়েছি। আমরা এলাকার কৃষকদের পতিত জমিতে বাদাম চাষে উদ্বুদ্ধ করেছি। উপজেলা কৃষি অফিসার প্রসেনজিৎ তালুকদার বলেন, বিভিন্ন মৌসুমী ফসল উৎপাদনে আমরা দীর্ঘদিন থেকে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করে আসছি। এ জন্য এবারে কৃষকরা এলাকায় পূর্বের চেয়ে অনেক বেশি জমিতে বাদাম চাষ করেছে।
এভাবে কৃষকরা বিভিন্ন মৌসুমী ফসল উৎপাদনে আগ্রহী হলে এলাকায় আর কোন জমি পরিত্ত্যক্ত থাকবে না। এতে করে এলাকার কৃষকরাও উপকৃত হবে এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন হবে।


প্রকাশিত: May 20, 2025 | সময়: 4:20 am | সুমন শেখ