শহীদ জিয়া স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন, মুক্তিযুদ্ধ করেছেন কিন্তু ক্ষমতার ভাগ চাননি -এমপি ফজলে হুদা
লিয়াকত আলী বাবলু, মহাদেবপুর :
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান জীবন বাজি রেখে স্বাধীনতা ঘোষণা দিয়েছেন । সম্মুখ সারিতে থেকে সেক্টর কমান্ডার হিসেবে মুক্তিযোদ্ধা করেছেন এবং বীর উত্তম খেতাব নিয়ে ব্যারাকে ফিরে গিয়ে চাকুরীতে যোগদান করেছেন কিন্তু ক্ষমতার ভাগ চাননি।
আর যিনি লাহোরের কোট পরে সুটকেস গুছিয়ে ঘরে বসে থেকেছেন । তারা স্বাধীনতার পর ক্ষমতার ভাগাভাগি নিয়ে দেশে হানাহানি খুনোখুনিও বিভক্ত এবং অশান্তি শুরু করেছিলেন। ভারতের বি টিম জাসদ তখন ক্যান্টনমেন্টের সামনে লিফলেট বিতরণ করে স্লোগান দিতেন সৈনিক ভাই ভাই, অফিসারদের রক্ত চাই ।সৈনিক সৈনিক ভাই ভাই জেওসির ওপর অফিসার নাই।
৭ নভেম্বর শনিবার বিকেলে জাতীয় বিপ্লব ও সংগতি দিবস উদযাপন উপলক্ষে মহাদেবপুর বাসস্ট্যান্ডে বিএনপি আয়োজিত এক বিশাল সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ৪৮ নওগাঁ ৩ মহাদেবপুর বদলগাছি আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য ফজলে হুদা উল্লেখিত কথাগুলি বলেন।
উপজেলা তাঁতি দলের সভাপতি সেকেন্দার আলীর সঞ্চালনায় এবং উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি জাহারুল ইসলাম এর সভাপতিত্বে এ সময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুস সাত্তার নান্নু, বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান সাজ্জাদ হোসেন সাজ্জাদ, এস এম হান্নান, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা সাবেক সভাপতি ও জাহাঙ্গীরপুর সরকারি বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজের সাবেক জ্যেষ্ঠ প্রভাষক মিরাজুল ইসলাম মিরাজ , যুবদলের সাবেক সভাপতি ও সদর ইউনিয়ন বিএনপি’র সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব আক্কাস আলী , শ্রমিক দলের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম ,যুবদলের আহ্বায়ক মুজাফফর রহমান , শ্রমিক দলের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, কৃষক দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হারুনুর রশিদ রাজু, স্বেচ্ছাসেবক দল এর নেতা এফআই সবুজ ,ছাত্রদলের সদস্য সচিব রিপন মাহমুদ, ভীমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা শ্রীরাম প্রসাদ ভদ্র প্রমূখ।
প্রধান অতিথি আরও বলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে সিপাহী জনতা বিপ্লবের মাধ্যমে বন্দী দশা থেকে মুক্ত করলে তিনি দেশের হাল ধরেন। দেশের মানুষ যখন ক্ষুধার জ্বালায় অতিষ্ঠ সেই সময় তিনি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি শিল্পকল কারখানা স্থাপন করেছিলেন।
বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে স্বাধীনভাবে রাজনীতি করার জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছিলেন এবং দেশে আবার শান্তি ফিরে এসেছিল। এরই নাম বিপ্লব ও সংহতি দিবস। এমপি ফজলে হুদা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন বিএনপির বিরুদ্ধে কেউ ষড়যন্ত্র করে টিকে থাকতে পারেনি।
তিনি আরো বলেন, আমি মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। আমি কোট টাই পড়েই মহাদেবপুরে ঢুকবো। কারণ শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানও কোট টাই পরতেন। যে কোট টাই এ হাত দিতে চায়, সে গুপ্ত সে সুপ্ত, সে দাঁড়ি পাল্লায় চড়ে বিএনপিকে বিক্রি করতে চায়। আমি রাজপথে থেকেছি। জেল খেটেছি। নেতাকর্মীদের দেখেছি। আমার নেতা জনাব তারেক রহমান আমার প্রতি আস্থা রেখেছেন । আমি চেষ্টা করছি আপনাদের জন্য কাজ করবার। আমারও ভুল ভ্রান্তি হতেই পারে। যে মানুষটা ২২ বছর ধরে ২০ লক্ষ টাকা বেতনের চাকরি ছেড়ে এসেছে। সে আপনাদের সেবা করতে চায়। যারা সেই মানুষটাকে সেলিম তরফদারের সাথে তুলনা করে , তারা সেলিম তরফদারের বি টিম হিসেবে মহাদেবপুরে কাজ করে। আপনার সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকবেন। এ সময় আপনাদের সবার সংহতি অতি প্রয়োজন এ জাতির জন্য।
উল্লেখ্য যে ,শনিবার দুপুরের পর থেকেই মহাদেবপুর উপজেলার ১০ ইউনিয়ন বিএনপি যুবদল ছাত্রদল মহিলা দল স্বেচ্ছাসেবক দল সহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা ধানের শীর্ষের সমর্থকদের নিয়ে মোটরসাইকেল বহর, ভুটভুটি নসিমন করিমন এ চড়ে মডেল মোড়ে জড়ো হতে থাকে । আসর নামাজের পর এমপি ফজলে হুদা নেতাকর্মীদের মাঝে পৌঁছে একটি বিশাল বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় নেতৃত্ব দিয়ে ঐতিহাসিক মাছের মোড় চত্বরে স্থাপিত মঞ্চে উপস্থিত হন এবং প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দান করেন।