, , ।
স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীর পবা উপজেলার হরিয়ান বাজারে হুমকিতে বন্ধ থাকা সার ডিলারের দোকান খুলে দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার বিএনপির নেতাকর্মীদের সহযোগিতায় এবং পুলিশের উপস্থিতিতে দোকান খোলেন ডিলার সাইদুর রহমান।
এ ব্যাপারে সংসদ সদস্য শফিকুল হক মিলন- ডিলার ও পবা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলী হোসেনের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলেন। এর আগে গত সোমবার বিএনপি ও যুবদলের দুই নেতা কারাগারে যাওয়ার পর তাঁদের অনুসারীদের হুমকিতে দোকান বন্ধ রেখেছিলেন বলে অভিযোগ করেন ডিলার সাইদুর রহমান। দোকান খোলার পর সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন, সাইদুর রহমান ও আলী হোসেনের মধ্যে কথা হয়। এ সময় স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মী ও পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। পরে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সার বিক্রি শুরু করেন ডিলার।
ডিলার সাইদুর রহমান হরিয়ান বাজারের সাইদুর এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী। তিনি বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) এবং বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি)—এর একজন অনুমোদিত সার ডিলার। পাশাপাশি প্রায় ছয় বছর ধরে হরিয়ান বাজার কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।
গত ৫ এপ্রিল কৃষকদের কাছে সরবরাহের জন্য নেওয়া ৩০ বস্তা ইউরিয়া সার আটকে দেন হরিয়ান ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. রজব আলী ও যুবদল নেতা মো. আব্দুস সালাম। সেসময় তাদের বিরুদ্ধে তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবি ও মারধরের অভিযোগে একটি মামলা হয়। সেই মামলায় এই দুই নেতাকে কারাগারে পাঠানোর পর এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তাঁদের অনুসারীরা দোকান বন্ধ রাখার হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন সাইদুর রহমান।
সাইদুর রহমান বলেন, দোকান বন্ধ রাখার হুমকির বিষয়টি তিনি সংসদ সদস্য শফিকুল হক মিলন, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) জানান। পরে মঙ্গলবার সকালে পবা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলী হোসেন তাঁকে ফোন করে দোকান খুলতে বলেন। এরপর তিনি বাজারে এসে বিএনপির নেতাকর্মীদের সহযোগিতায় দোকান খোলেন।
বিএনপির পবা উপজেলার আহ্বায়ক আলী হোসেন বলেন, সারের বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। এ নিয়ে আইনি জটিলতা তৈরি হওয়ায় আগের দিন নেতাদের মধ্যে আলোচনা হয়। তাদের কেউ কেউ ক্ষোভও প্রকাশ করেন। পরে সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলনের নির্দেশে দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে পরামর্শ করে সার ডিলারকে দোকান খোলার বিষয়ে সহযোগিতা করা হয়। তিনি আরও বলেন, সার বিক্রির ক্ষেত্রে সরকারি নিয়ম অনুসরণ করতে হবে। কৃষকেরা যাতে ভোগান্তিতে না পড়েন, সে বিষয়েও ডিলারকে সতর্ক থাকতে হবে।
এর আগে মঙ্গলবার সকালে হরিয়ান বাজারে সাইদুর রহমানের দোকান বন্ধ দেখা যায়। প্রতিদিন তিনি সকাল ৮টার দিকে দোকান খুলেন। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, রজব আলীর অনুসারীরা ঝামেলা করতে পারেন, এ ছাড়া দোকান বন্ধের হুমকিও এসেছে। এমন আশঙ্কায় দোকান বন্ধ রেখেছিলেন ডিলার। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সকাল থেকেই দোকানের পাশে পুলিশ অবস্থান নেয়। পরে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ডিলারের দোকান খোলা হয়।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৫ এপ্রিল সকাল ১১টার দিকে সাইদুর রহমানের দোকান থেকে তিনটি ভ্যানে করে ৩০ বস্তা ইউরিয়া সার কৃষকদের কাছে নেওয়া হচ্ছিল। কাটাখালী থানার আশরাফের মোড়ে পৌঁছালে রজব আলী, আব্দুস সালামসহ কয়েকজন ভ্যানগুলো আটকে দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। খবর পেয়ে সাইদুর রহমান সেখানে গেলে তাঁর কাছে তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে মারধর করা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় ৬ এপ্রিল তিনি মামলা করেন।
বাদীর আইনজীবী হামিদুল হক বলেন, গত ২৪ আগস্ট হাইকোর্টে আগাম জামিনের আবেদন করলে আদালত আসামিদের ছয় সপ্তাহের মধ্যে রাজশাহীর মহানগর দায়রা জজ আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন। মঙ্গলবার তাঁরা আত্মসমর্পণ করলে আদালত তাঁদের জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
কাটাখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুজ্জামান বলেন, ডিলারের করা মামলায় দুইজনকে আদালত করাগারে পাঠিয়েছেন। সার ডিলারের দোকানের সামনে ঝামেলা হতে পারে, এমন আশঙ্কা থেকে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। এ ঘটনায় কোনো অভিযোগ ছিল না। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।