, , ।
নুরুজ্জামান,বাঘা :
রাজশাহীর বাঘায় পদ্মার চরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ফের গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এবারের ঘটনায় মিনারুল ইসলাম (৩৫) নামে এক যুবক গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। সোমবার সকাল সাড়ে ৭ টার দিকে উপজেলার গড়গড়ি ইউনিয়নের খানপুর-নীচপলাশী নদীর ঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
এর তিনমাস আগে স্বপন(৩৫)পিতা সিদ্দিক আলী নামে অপর এক যুবককে চকরাজাপুর এলাকায় এসে গুলি করে কাকন বাহিনী লোকজন। যার লাশ অদ্বাবধি খুঁজে পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় লোকজন জানান, এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত প্রায় দুইমাস আগে স্থানীয় সংসদ সদস্য আবু সাইদ চাঁদের প্রচেষ্টায় রাজশাহী জেলার ডি.আই.জি চরাঞ্চলে একটি পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করলেও সেটি এখন পর্যন্ত উদ্বোধন করা হয়নি। যদি হতো , তাহলে সোমবার নতুন করে এই ঘটনা ঘটতো না।
এবারের ঘটনায় গুলিবিদ্ধ মিনারুল ওই এলাকার জামাত মণ্ডলের ছেলে। তাকে উদ্ধার করে সকাল ৮টা ২৫ মিনিটের দিকে বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ট করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক।
বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. এলিনা পারভেজ বলেন, মিনারুলের পিঠে গুলিবিদ্ধ হওয়ার ক্ষত রয়েছে। তাঁর শরীরের ভেতরে গুলি থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ কারণে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, সকালে নদীপথে স্পিডবোর্ডে করে যাওয়ার সময় মণ্ডল বাহিনীর সদস্যদের ধাওয়া করে কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের কাঁকন বাহিনীর সদস্যরা। এ সময় স্পিডবোর্ড ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে তারা গুলি ছোড়ে বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে অপর পক্ষও পাল্টা গুলি ছোড়ে। একপর্যায়ে মিনারুল পিঠে গুলিবিদ্ধ হন। অন্যরা নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মরক্ষা করেন বলে স্থানীয়রা উল্লেখ করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, সকালে তিনি পরপর কয়েকটি গুলির শব্দ শুনেছেন। আরেক স্থানীয় বাসিন্দার দাবি, মাছ ধরে ফেরার সময় তিনি দুটি স্পিডবোর্ড থেকে গুলি ছুড়তে ছুড়তে কয়েকজনকে সামনে এগিয়ে যেতে দেখেছেন।
এদিকে মিনারুল মণ্ডল বাহিনীর সদস্য কি না, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ভিন্ন বক্তব্য রয়েছে। একটি সূত্রের দাবি, তিনি মণ্ডল বাহিনীর সঙ্গে ছিলেন। তবে অন্য একটি সূত্রের ভাষ্য, মিনারুল নদীতে মাছ ধরছিলেন এবং দুই পক্ষের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার মধ্যে পড়ে গুলিবিদ্ধ হন। এ ঘটনায় আরও একজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন, এমন খবর স্থানীয়ভাবে ছড়িয়ে তবে পুলিশ তা নিশ্চিত করেনি।
বাঘা থানা পুলিশ ইন্সেপেক্টর(তদন্ত)সুপ্রভাত মণ্ডল বলেন, কাঁকন বাহিনীর ছোড়া গুলিতে মিনারুল আহত হয়েছেন বলে প্রাথমিক ভাবে জানা গেছে। মণ্ডল বাহিনীর লোকজন স্পিডবোর্ড নিয়ে যাওয়ার সময় গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে স্থানীয় একাধিক সূত জানায়, বন্যার পর পদ্মায় জেগে ওঠা চরাঞ্চলের উর্বর জমি, খাসজমি ও বালুঘাটের দখলকে কেন্দ্র করে রাজশাহীর বাঘা, নাটোরের লালপুর, পাবনার ঈশ্বরদী ও কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের সীমান্তবর্তী এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। এর জেরে অতীতেও সংঘর্ষ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে বাঘা সীমান্ত এলাকায় একটি পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হলেও সেটি উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে ।
সার্বিক বিষয়ে বাঘা থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি)সিরাজুল হক জানান , এবারের ঘটনা নিয়ে আমরা তদন্ত শুরু করেছি । খুব শীর্ঘই চরাঞ্চলে পুলিশ ফাঁড়ি(ক্যাম্প) এর উদ্বোধন করা হবে ।
সানশাইন /শাহজাদা