, , ।
স্পোর্টস ডেস্ক: শেষ ওভারে ভিক্টোরিয়া ক্রিকেট একাডেমির প্রয়োজন ছিল মাত্র ১ রান। অন্যদিকে বাংলাদেশ এইচপি ইউনিটের দরকার ছিল ২ উইকেট। প্রথম বলেই রান আউট হয়ে গেলেন টড মার্ফি। পরের দুই বলে কোনো রান না হওয়ায় জেগে উঠেছিল সুপার ওভারের সম্ভাবনাও।
তবে ভিন্ন পরিকল্পনা ছিল লিয়াম ব্ল্যাকফোর্ডের। চতুর্থ বলটি কাট করে পয়েন্ট অঞ্চল দিয়ে সীমানাছাড়া করেন বাঁহাতি এই ব্যাটার। তাতেই দুই বল হাতে রেখেই ম্যাচ জিতে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে ভিক্টোরিয়া ক্রিকেট একাডেমি। আর সেমিফাইনাল থেকেই বিদায় নেয় বাংলাদেশ এইচপি।
অথচ লিগ পর্বে ছয় ম্যাচের পাঁচটিতে জিতে ফেভারিট হিসেবেই সেমিফাইনালে নেমেছিল বাংলাদেশ। টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটাও ছিল আশাব্যঞ্জক। তবে পাওয়ার প্লে শেষ হওয়ার পরই শুরু হয় ব্যাটিং ধস। হাবিবুর রহমান সোহান দ্রুত ফিরলেও ইতিবাচক শুরু করেন জিসান আলম। আরিফুল ইসলামের সঙ্গে গড়েন সম্ভাবনাময় জুটি। তাদের ব্যাটে পাওয়ার প্লের ছয় ওভারে ৫৬ রান তুলে ফেলে বাংলাদেশ।
তবে সপ্তম ওভারের প্রথম বলেই ভাঙে সেই জুটি। ৩ চার ও ১ ছক্কায় ২০ বলে ৩০ রান করে সাজঘরে ফেরেন জিসান। এর আগে আরিফুলও ৩ চার ও ১ ছক্কায় ১০ বলে ১৯ রান করে আউট হন। এরপর আর কোনো ব্যাটারই ইনিংসের হাল ধরতে পারেননি। ছন্দে থাকা সাব্বির রহমান ৮ বলে করেন মাত্র ৫ রান। শেষ দিকে আব্দুল গাফফার সাকলাইন ১০ ও আবু হায়দার রনি ১২ রান করলে কোনোমতে একশ পেরোয় বাংলাদেশের সংগ্রহ। শেষ পর্যন্ত ১০১ রানেই গুটিয়ে যায় এইচপি।
ভিক্টোরিয়ার হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন উইল সাদারল্যান্ড। তিনি শিকার করেন ৪ উইকেট। ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমেও স্বস্তিতে ছিল না ভিক্টোরিয়া। বাংলাদেশের বোলাররা নিয়মিত চাপ তৈরি করায় ম্যাচে বেশ কিছুটা সময় লড়াই ছিল। তবে লক্ষ্য মাত্র ১০২ হওয়ায় চাপ খুব বেশি বাড়েনি ভিক্টোরিয়ার ওপর।
একপর্যায়ে ৪ উইকেটে ৭৫ রান তুলে সহজ জয়ের পথেই ছিল তারা। সেখান থেকে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করে বাংলাদেশ। পরের ২৪ রানের মধ্যেই আরও ৪ ব্যাটারকে সাজঘরে ফেরান বোলাররা। শেষ ওভারের প্রথম বলেই আরেকটি উইকেট পড়লে ম্যাচে তৈরি হয় সুপার ওভারের সম্ভাবনা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই সম্ভাবনাও বাস্তবে রূপ নেয়নি। চতুর্থ বলে ব্ল্যাকফোর্ডের বাউন্ডারিতে স্বপ্নভঙ্গ হয় বাংলাদেশের।
বাংলাদেশের হয়ে দুর্দান্ত বোলিং করেছেন মোহাম্মদ রুবেল। ৪ ওভারে মাত্র ১৫ রান দিয়ে নিয়েছেন ৩ উইকেট। এই ম্যাচসহ ৭ ম্যাচে তার শিকার ২৩ উইকেট। সাত ম্যাচের ছয়টিতেই অন্তত ৩ উইকেট নিয়েছেন ৩০ বছর বয়সী এই রহস্য স্পিনার। এ ছাড়া শামীম হোসেন ১৮ রানে নেন ২ উইকেট। বাঁহাতি পেসার আবু হায়দার রনি ৪ ওভারে ২ মেডেনসহ মাত্র ১৬ রান দিয়ে নেন ১ উইকেট।
তবে বোলারদের দারুণ লড়াই শেষ পর্যন্ত ব্যাটারদের ব্যর্থতার ক্ষত ঢাকতে পারেনি। শেষ ওভারের নাটকীয়তায় হেরে সেমিফাইনাল থেকেই বিদায় নিতে হলো বাংলাদেশ এইচপিকে।