সর্বশেষ সংবাদ :

বাগমারায় প্রতারণা মামলাসহ সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেপ্তার

স্টাফ রিপোর্টার, বাগমারা: রাজশাহী জেলার বাগমারা থানাধীন ভবানীগঞ্জ পৌরসভাস্থ গোডাউন মোড় এলাকায় ‘স্বচ্ছতা রাজশাহী লিঃ’ নামে পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সাধারণ জনগণের নিকট থেকে প্রতারণার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ গ্রহণের অভিযোগ পাওয়া যায়।
প্রতিষ্ঠানটির কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন প্রলোভন ও আর্থিক সুবিধার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বাগমারা থানা এলাকার বিভিন্ন ব্যক্তির নিকট থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ গ্রহণ করে। পরবর্তীতে গ্রাহকদের পাওনা টাকা পরিশোধ না করে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়ে সংশ্লিষ্টরা আত্মগোপনে চলে যায়। এতে ভুক্তভোগী গ্রাহকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়।
উক্ত ঘটনায় ভুক্তভোগী কেএম আব্দুর রহিম ও অহিদুল ইসলাম পৃথকভাবে বাগমারা থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় ‘স্বচ্ছতা রাজশাহী লিমিটেড’-এর পরিচালক ময়নুল ইসলাম (৩৬), পিতা আব্দুল ওয়াহেদ, মাতা মোমেনা, সাং ঝাড়গ্রাম, থানা- বাগমারা, জেলা-রাজশাহীসহ মোট ৪ জনকে আসামি করা হয়।
মামলার তদন্তের ধারাবাহিকতায় অফিসার ইনচার্জ, বাগমারা থানার সার্বিক দিকনির্দেশনা ও নেতৃত্বে বাগমারা থানা পুলিশের একটি চৌকস আভিযানিক দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানকালে ২০ আগস্ট ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ রাত ১টার দিকে গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে মামলার ১নং আসামি ময়নুল ইসলামকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। গ্রেফতারকৃত আসামিকে যথাযথ পুলিশি প্রহরায় বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
মামলার এজাহার ও প্রাথমিক তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ভুক্তভোগী কেএম আব্দুর রহিম উক্ত প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন সময়ে সর্বমোট ২৮ লক্ষ টাকা এবং তার ভাইরা ওয়াছেক আলী বিল্লাহ (৫০) সর্বমোট ৬৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা জমা প্রদান করেন। এছাড়াও প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে বাগমারা থানা এলাকার বিভিন্ন ব্যক্তির নিকট থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ গ্রহণের অভিযোগ রয়েছে।
অপরদিকে, বাগমারা থানা পুলিশের একই চৌকস আভিযানিক দল ঢাকা মহানগরীর কাফরুল থানা এলাকায় পৃথক অভিযান পরিচালনা করে প্রতারণার মামলায় বিজ্ঞ আদালত কর্তৃক সাজাপ্রাপ্ত ২টি গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামি শিমুল বিল্লাহকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। তাকেও বিধি মোতাবেক বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
এদিকে ‘স্বচ্ছতা রাজশাহী লিঃ’ এর প্রতারণার ঘটনায় অভিযুক্ত আসামি গ্রেফতারের সংবাদে ভুক্তভোগী গ্রাহক ও স্থানীয় সাধারণ জনগণ সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তারা বাগমারা থানা পুলিশের এ ধরনের কার্যকর ও সময়োপযোগী অভিযানকে সাধুবাদ জানিয়ে দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা এবং প্রতারিত গ্রাহকদের অর্থ উদ্ধারে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।
অপরদিকে বাগমারা থানা পুলিশ সাধারণ জনগণকে যেকোনো ধরনের অবৈধ আর্থিক প্রতিষ্ঠান, অনিবন্ধিত এনজিও, সমিতি বা সমবায় প্রতিষ্ঠানে অর্থ জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানাচ্ছে।
অর্থ বিনিয়োগ বা জমা দেওয়ার পূর্বে প্রতিষ্ঠানের বৈধ নিবন্ধন, অনুমোদন, কার্যক্রম ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান অস্বাভাবিক মুনাফা, দ্রুত অধিক অর্থ লাভ, দ্বিগুণ টাকা ফেরত অথবা অন্য কোনো লোভনীয় প্রস্তাব দিলে যাচাই-বাছাই ছাড়া অর্থ প্রদান না করার জন্য জনগণকে বিশেষভাবে সতর্ক করা হলো।
এছাড়া কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান প্রতারণামূলকভাবে অর্থ গ্রহণ করছে বলে সন্দেহ হলে অথবা কেউ প্রতারণার শিকার হলে তাৎক্ষণিকভাবে নিকটস্থ থানা-আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে। প্রতারণার ঘটনা গোপন না রেখে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করলে অপরাধীদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনা সহজ হবে।
বাগমারা থানা পুলিশ অপরাধ দমন, প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সাধারণ জনগণের জানমাল ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বদা তৎপর রয়েছে।


প্রকাশিত: August 21, 2026 | সময়: 4:37 am | সুমন শেখ