সর্বশেষ সংবাদ :

বদলগাছীতে তিন মাদ্রাসার ১২ পরীক্ষার্থী, পাস করেনি কেউ

বদলগাছী প্রতিনিধি: নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার তিনটি দাখিল মাদ্রাসা থেকে চলতি বছরের দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন ১২ জন শিক্ষার্থী। ফল প্রকাশের পর দেখা গেছে, তাঁদের কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেননি। অর্থাৎ প্রতিষ্ঠান তিনটির পাসের হার দাঁড়িয়েছে শূন্য শতাংশে।
১০ আগস্ট ফল প্রকাশের পর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। প্রতিষ্ঠান তিনটি হলোÍগোঁবরচাপাহাট আখতার হামিদ দাখিল মাদ্রাসা, জোলাপাড়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা ও খাদাইল দাখিল মাদ্রাসা। উপজেলা শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠান তিনটিই নন-এমপিওভুক্ত।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর বদলগাছী উপজেলায় মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষায় মোট ৫৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। এর মধ্যে মাধ্যমিক বিদ্যালয় ৩২টি, দাখিল মাদ্রাসা ১৭টি এবং ভোকেশনাল প্রতিষ্ঠান ৫টি।
গোঁবরচাপাহাট আখতার হামিদ দাখিল মাদ্রাসা থেকে একজন শিক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ফেল করেছেন। জোলাপাড়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে অংশ নেন তিনজন তাঁদের তিনজনই ফেল করেছেন। আর খাদাইল দাখিল মাদ্রাসা থেকে আটজন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সবাই ফেল করেছেন। ফলে প্রতিষ্ঠান তিনটির কোনো শিক্ষার্থীই এবার দাখিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেননি।
গোঁবরচাপাহাট এলাকার বাসিন্দা শহিদুল ও রাহেল বলেন, কয়েক বছর ধরে গোঁবরচাপাহাট আখতার হামিদ দাখিল মাদ্রাসায় শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের নিয়মিত দেখা যায় না। মাদ্রাসার বিভিন্ন কক্ষ পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। কোথাও কোথাও আগাছাও জন্মেছে। তাঁদের ভাষ্য, শিক্ষকদের বেতন-ভাতা না হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির এমন অবস্থা হয়েছে।
জোলাপাড়া এলাকার বাসিন্দা জহুরুল ইসলাম বলেন, জোলাপাড়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসায়ও শিক্ষার্থী বা শিক্ষকদের নিয়মিত দেখা যায় না। দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ রয়েছে বলে দাবি তাঁর।
গোঁবরচাপাহাট আখতার হামিদ দাখিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার মো. কামরুজ্জামান বলেন, প্রতিষ্ঠানটি টিকিয়ে রাখতে একজন শিক্ষার্থীকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করিয়েছিলাম। আজ ফল প্রকাশের পর শুনলাম, সে ফেল করেছে।
জোলাপাড়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার আব্দুল আজিজ বলেন, ‘আমার মাদ্রাসা থেকে তিনজন দাখিল পরীক্ষা দিয়েছে। তিনজনই ফেল করেছে। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক।’
খাদাইল দাখিল মাদ্রাসার সুপার মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘এই প্রথমবার আমার মাদ্রাসার সবাই ফেল করেছে। এর আগে এমন হয়নি।’ এবার তাঁর প্রতিষ্ঠান থেকে আটজন শিক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল বলেও জানান তিনি।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শফিউল আলম তিন মাদ্রাসার ফলাফলের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে খোঁজ নিয়ে দেখা হবে। নন-এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠান হওয়ায় সেখানে নিয়মিত পাঠদান হয় কি না, সে বিষয়ে তাঁর কাছে বিস্তারিত তথ্য নেই।
পরীক্ষায় অংশগ্রহণের বিষয়ে তিনি বলেন, বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী শিক্ষার্থীরা নিবন্ধন করে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারে। এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসের হস্তক্ষেপের সুযোগ সীমিত।
এদিকে, তিনটি মাদ্রাসার কোনো শিক্ষার্থীই দাখিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হওয়ায় প্রতিষ্ঠানগুলোর পাঠদান, শিক্ষার্থী উপস্থিতি ও শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।


প্রকাশিত: August 12, 2026 | সময়: 3:01 am | সুমন শেখ

আরও খবর