, , ।
ঈশ্বরদী প্রতিনিধি: পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মানাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের আবাসিক এলাকা গ্রীনসিটিতে মদ্যপ অবস্থায় দুই রাশিয়ান নাগরিকের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনায় কুদরিন সার্গেই (৫৫) নামের একজনের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় গুরুতর আহত মেনচেভ (৫৩) নভপসা অন্যজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তিনি নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সোমবার ৩ আগষ্ট সকালে রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের আবাসিক এলাকা গ্রীনসিটির ৬ নম্বর ভবনের পঞ্চম তলার ৫১ নম্বর কক্ষে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, নিহত কুদরিন সার্গেই রাশিয়ার নাগরিক এবং রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রোসেম-এ কর্মরত ছিলেন। তার বাবার নাম নিকোলাই। তিনি গ্রীনসিটির ৬ নম্বর ভবনের পঞ্চম তলার ৫১ নম্বর কক্ষে বসবাস করতেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে দুই রুশ নাগরিক একসঙ্গে মদ্যপান করছিলেন। একপর্যায়ে কোনো বিষয়কে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নিলে উভয়েই গুরুতর আহত হয়ে অচেতন হয়ে পড়েন। সহকর্মীরা তাদের উদ্ধার করে প্রথমে গ্রিনসিটি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে আইসিইউ সুবিধা না থাকায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের পাবনার এসোর্ট স্পেশালাইজড হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
গ্রিনসিটি হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. সাইফুল ইসলাম জানান, দুই বিদেশিকে আশঙ্কাজনক ও অচেতন অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। আইসিইউ সুবিধা না থাকায় দ্রুত তাদের অন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কুদরিন সার্গেই মারা যান। অপর ব্যক্তি বর্তমানে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পুলিশ জানায়, মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত করতে মরদেহের সুরতহাল সম্পন্ন করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। এ ঘটনায় তদন্ত শুরু হয়েছে এবং প্রকৃত কারণ উদঘাটনে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আসাদুর রহমান জানান, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে অতিরিক্ত মদ্যপানের পর দুই রুশ নাগরিকের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে কুদরিন সার্গেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে গ্রীনসিটি থেকে পাবনা এসআরটি হাসপাতালে নেওয়ার পথে অ্যাম্বুলেন্সেই তার মৃত্যু হয়। তিনি আরও জানান, ওই ঘটনায় আহত অন্যজনকে পাবনার ওই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় আইসিইউতে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। নিহতের মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। এরপর রাশিয়ার দূতাবাসের মাধ্যমে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।