, , ।
প্রেস বিজ্ঞপ্তি: আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)-এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, বিশিষ্ট মানবাধিকারকর্মী এবং শিশু অধিকার আন্দোলনের পথিকৃৎ খুরশীদ ইরফান আহমেদ মৃত্যুবরণ করেছেন। তাঁর মৃত্যুতে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) গভীর শোক প্রকাশ করছে।
খুরশীদ ইরফান আহমেদের প্রয়াণে আসক হারালো তার একজন দূরদর্শী প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, প্রজ্ঞাবান সহযাত্রী এবং দীর্ঘদিনের অকৃত্রিম শুভানুধ্যায়ীকে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের মানবাধিকার আন্দোলন হারালো এমন একজন নিবেদিতপ্রাণ সংগঠককে, যিনি ন্যায়বিচার, মানবিক মর্যাদা এবং সমাজের সবচেয়ে প্রান্তিক মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আজীবন নিষ্ঠা, সততা ও গভীর মানবিক অঙ্গীকার নিয়ে কাজ করে গেছেন। তাঁর প্রয়াণে আমরা গভীর শোকাভিভূত।
আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) এর প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই তিনি সংগঠনটির আদর্শিক ভিত্তি সুদৃঢ়করণ, প্রাতিষ্ঠানিক বিকাশ এবং মানবাধিকারভিত্তিক কার্যক্রমের সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী বাংলাদেশে নারী ও শিশুর অধিকার প্রতিষ্ঠা, তাঁদের জীবনমানের উন্নয়ন এবং একটি অধিক মানবিক, ন্যায়ভিত্তিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ে তোলার লক্ষ্যে তিনি যে অবদান রেখে গেছেন, তা দেশের মানবাধিকার আন্দোলনের ইতিহাসে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
বিশেষ করে, তাঁর উদ্যোগে আসক এর শিশু অধিকার ইউনিট প্রতিষ্ঠিত হয়, যা পরবর্তীকালে শিশু অধিকার সুরক্ষা, নির্যাতনের শিকার শিশুদের সহায়তা এবং শিশুবান্ধব নীতি ও আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। সমাজের সুবিধাবঞ্চিত, কর্মজীবী ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে থাকা শিশুদের অধিকার ও কল্যাণে তাঁর নিষ্ঠা, সংবেদনশীলতা ও দূরদর্শিতা আমাদের সকল সময় অনুপ্রাণিত করে।
এ ছাড়া নির্যাতন, সহিংসতা ও মানসিক আঘাতের শিকার ব্যক্তি ও পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে সাইকো-সোশ্যাল কাউন্সেলিং কার্যক্রমের বিকাশ ও প্রাতিষ্ঠানিকীকরণেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। মানবাধিকার সুরক্ষার ক্ষেত্রে আইনি সহায়তার পাশাপাশি মানসিক পুনর্বাসনের অপরিহার্যতা তিনি গভীরভাবে উপলব্ধি করেছিলেন এবং সেই উপলব্ধিকে কার্যকর কর্মসূচিতে রূপ দিতে আন্তরিক নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেছেন।
খুরশীদ ইরফান আহমেদের প্রজ্ঞা, মানবিকতা, সততা এবং মূল্যবোধনিষ্ঠ নেতৃত্ব আসক এর পথচলায় চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তাঁর অবদান ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। তাঁর প্রয়াণে যে শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে, তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।
আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) মরহুমের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্য, স্বজন, সহকর্মী এবং অসংখ্য শুভানুধ্যায়ীর প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছে। একই সঙ্গে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে তাঁর স্মৃতির প্রতি সম্মান জানাচ্ছে এবং তাঁর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করছে।