, , ।
স্পোর্টস ডেস্ক: ফুটবলের চারণভূমি হিসেবে পরিচিত ব্রাজিলে খেলাটির প্রতি দেশের মানুষের আগ্রহ গত তিন বছরে লক্ষণীয়ভাবে হ্রাস পেয়েছে, যদিও এখনও জনসংখ্যার সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ ফুটবল অনুসরণ করে থাকে।
শনিবার প্রকাশিত ব্রাজিলিয়ান গবেষণা সংস্থা ‘দাতাফোলহা’-এর এক জরিপ থেকে উঠে এসেছে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য। জরিপ অনুযায়ী, ১৬ বছর বা তার বেশি বয়সী ব্রাজিলের জনসংখ্যার ৬৪ শতাংশ মানুষ ফুটবলের প্রতি প্রচুর (২৮ শতাংশ) বা কিছুটা (৩৫ শতাংশ) আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে, দেশটির ৩৬ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন তারা ফুটবলের খোঁজখবর রাখেন না।
এর আগে ২০২৩ সালে পরিচালিত জরিপের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, তিন বছরের ব্যবধানে ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহ কমেছে ৮ শতাংশ। ওই সময়ে জরিপে অংশগ্রহণকারী ৭২ শতাংশ মানুষ জানিয়েছিলেন তারা ফুটবল অনুসরণ করেন, আর ২৮ শতাংশ মানুষ খেলায় তাদের কোনো আগ্রহ নেই বলে জানান।
সামাজিক ও জনসংখ্যার বিভিন্ন মানদণ্ডে ফুটবল অনুসরণের ক্ষেত্রেও চোখে পড়ার মতো পার্থক্য উঠে এসেছে। লিঙ্গভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, পুরুষদের ৭৭ শতাংশ ফুটবল অনুসরণ করলেও নারীদের ক্ষেত্রে এই হার মাত্র ৫২ শতাংশ। আবার শিক্ষার মাত্রাও ফুটবলের প্রতি মানুষের আগ্রহে প্রভাব ফেলছে।
প্রাথমিক শিক্ষায় শিক্ষিতদের মাত্র ৪৯ শতাংশ ফুটবলের খোঁজখবর রাখলেও, মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই হার ৬৭ শতাংশ এবং উচ্চশিক্ষা প্রাপ্তদের মধ্যে তা ৭৫ শতাংশে গিয়ে পৌঁছায়। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার ঠিক কয়েক সপ্তাহ পরই এই জরিপটি পরিচালনা করা হয়। এবারের বিশ্বকাপে নরওয়ের কাছে হেরে শেষ ষোলো থেকেই বিদায় নেয় ব্রাজিল জাতীয় দল, যা তাদের কাঙ্ক্ষিত প্রত্যাশার চেয়ে অনেক কম ছিল।
গত ২২ ও ২৩ জুলাই ব্রাজিলের পাঁচটি অঞ্চলের ১৩৯টি পৌরসভার ২ হাজার ৪ জন মানুষের ওপর এই জরিপ পরিচালনা করে দাতাফোলহা, যার সম্ভাব্য ভুলের মাত্রা মার্জিন অব এরর হিসেবে প্লাস বা মাইনাস দুই শতাংশ ধরা হয়েছে। যদিও এই তথ্যকে দেশটির বর্তমান ক্রীড়া পরিস্থিতির একটি বাস্তব চিত্র হিসেবে দেখা হচ্ছে, তবে সামনেই আরেকটি বড় আসরের মুখোমুখি ব্রাজিল।
২০২৭ সালে দেশটি প্রথমবারের মতো নারী ফুটবল বিশ্বকাপ আয়োজন করতে যাচ্ছে, যা পুনরায় দেশের মাটিতে ফুটবলীয় উন্মাদনা ও আন্তর্জাতিক মনোযোগ ফেরাবে বলে আশা করা হচ্ছে।