সংবাদ সম্মেলনে ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠনে অনিয়মের অভিযোগ স্কুলের ভোটে প্রার্থী বাবা ভর্তি বাতিল শিশুর

আক্কেলপুর প্রতিনিধি: জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার রাজকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি (এসএমসি) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ইমরান হোসেন ও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফাহিমা আক্তারের বিরুদ্ধে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, পক্ষপাতিত্ব এবং অভিভাবক সদস্য প্রার্থীর শিশু সন্তানের ভর্তি বাতিলের অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার দুপুরে রাজকান্দা নিজ গ্রামে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন বিদ্যালয়ের অভিভাবক সদস্য পদপ্রার্থী মো. জহুরুল ইসলাম। এ সময় তিন অভিভাবক সদস্য পদপ্রার্থীসহ শতাধিক অভিভাবক ও এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জহুরুল ইসলাম বলেন, তিনি বিদ্যালয়ের একজন বৈধ অভিভাবক, ভোটার এবং অভিভাবক সদস্য পদে প্রার্থী হিসেবে যথাসময়ে মনোনয়নপত্র জমা দেন। তফসিল অনুযায়ী গত ১১ জুন মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই হওয়ার কথা থাকলেও প্রার্থীদের বিদ্যালয়ে ডেকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করানোর পর মৌখিকভাবে জানানো হয়, ওই দিনের কার্যক্রম হবে না। তবে কেন তা স্থগিত করা হলো, সে বিষয়ে কোনো লিখিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, নির্বাচন প্রক্রিয়া থেকে তাকে বিরত রাখতে গত ১৩ জুলাই কোনো ধরনের পূর্ব নোটিশ বা কারণ দর্শানোর সুযোগ না দিয়েই তার শিশু শ্রেণিতে অধ্যয়নরত ছেলে ইশরাক বিন জহুরের ভর্তি বাতিল করেন প্রধান শিক্ষক ফাহিমা আক্তার। এতে তার সন্তানের পড়ালেখা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং শিশুটি মানসিকভাবে চাপে পড়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
জহুরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, প্রার্থীদের না জানিয়ে পুনঃতফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া নির্বাচন চলাকালে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি তাকে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার আবেদন করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে গত ২ জুলাই সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ইমরান হোসেন তদন্ত করলেও তাকে কোনো নোটিশ দেওয়া হয়নি এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগও দেওয়া হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।
প্রধান শিক্ষক ফাহিমা আক্তারের বিরুদ্ধে নির্বাচন পরিচালনায় নিরপেক্ষতা বজায় না রাখার অভিযোগ তুলে জহুরুল ইসলাম বলেন, একটি নির্দিষ্ট পক্ষকে সুবিধা দিতে নির্বাচন প্রক্রিয়া পরিচালনার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে তার আশঙ্কা। এ কারণেই তার ছেলের ভর্তি প্রধান শিক্ষক বাতিল করেছেন।
তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এবং জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি নিরপেক্ষ তদন্ত, বিতর্কিত কার্যক্রম স্থগিত এবং সকল বৈধ ভোটার ও প্রার্থীর অংশগ্রহণে স্বচ্ছ নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানান তিনি।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে প্রধান শিক্ষক ফাহিমা আক্তারের বাড়িতে গেলে তার স্বামী মীর মাহমুদুন নবী জানান, তার স্ত্রী অসুস্থ আছেন এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলবেন না।
সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ইমরান হোসেন বলেন, শিক্ষার্থীর ভর্তি বাতিলের বিষয়ে এখনো আমাদের কাছে কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। তবে ভর্তি বাতিলের বিষয়টি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের এখতিয়ারভুক্ত। ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠনের কার্যক্রম বর্তমানে উপজেলা শিক্ষা কমিটির সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে। কমিটির পরবর্তী সিদ্ধান্তের আলোকে এ বিষয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
তিনি আরও বলেন, কমিটির সভাপতি করার জন্য একটি অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় আমার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ করা হচ্ছে বলে মনে করছি। বিদ্যালয়ের নথিপত্র যাচাই করে দেখা গেছে, শিশুটির বয়স ভর্তির নির্ধারিত যোগ্যতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হলেও প্রভাব খাটিয়ে ভর্তি করানোর অভিযোগ রয়েছে। শিশুটি এ পর্যন্ত বিদ্যালয়ে মাত্র তিন দিন উপস্থিত হয়েছে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সিদ্দিকুর রহমান বলেন, কমিটি গঠন সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগ সম্পর্কে আমরা অবগত আছি। যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করা সম্ভব নয়।


প্রকাশিত: July 30, 2026 | সময়: 3:51 am | সুমন শেখ