, , ।
স্পোর্টস ডেস্ক: মাত্র ১৫ বছর বয়সেই ক্রিকেট বিশ্বে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছেন ভারতের তরুণ ব্যাটার বৈভব সূর্যবংশী। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক, একই বছর সিনিয়র ঘরোয়া ক্রিকেটে সাদা বলের অভিষেক এবং ২০২৬ সালে ইংল্যান্ড সফরে ভারতের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের পর থেকেই একের পর এক রেকর্ড গড়ে চলেছেন এই বিস্ময় বালক।
আইপিএল ২০২৫-এ মাত্র চতুর্থ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেই রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে গুজরাট টাইটান্সের বিপক্ষে ১৭ বলে ফিফটি করেন সূর্যবংশী। এরপর মাত্র ৩৫ বলে শতক হাঁকিয়ে আইপিএলের ইতিহাসে দ্বিতীয় দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়েন।
২০২৫-২৬ বিজয় হাজারে ট্রফির প্রথম ম্যাচে অরুণাচল প্রদেশের বিপক্ষে ৮৪ বলে ১৯০ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন তিনি। মাত্র ১৪ বছর ২৭২ দিন বয়সে লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটের সর্বকনিষ্ঠ সেঞ্চুরিয়ান হন। ৩৬ বলে শতক এবং ৫৯ বলে দেড়শ রান করে পুরুষদের লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে দ্রুততম ১৫০ রানের রেকর্ডও নিজের করে নেন।
মাত্র ২৯ ইনিংস ও ৫১৪ বল খেলেই টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ১০০ ছক্কা পূর্ণ করেন সূর্যবংশী। বল ও ইনিংস-দুই দিক থেকেই এটিই বিশ্বের দ্রুততম কীর্তি। ২০২৬ সালের জুনে ভারত ‘এ’ দলের হয়ে শ্রীলঙ্কা ‘এ’-এর বিপক্ষে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে মাত্র ১১ বলে ফিফটি করেন তিনি। ২৯ বলে ৯৪ রানের সেই ইনিংসের মাধ্যমে ২১ বছর পুরোনো বিশ্বরেকর্ড ভেঙে দেন।
আইপিএল ২০২৬-এ সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিপক্ষে ৩৭ বলে ১০৩ রানের ইনিংস খেলতে গিয়ে ক্যারিয়ারের ১০০০ টি-টোয়েন্টি রান পূর্ণ করেন মাত্র ৪৭৩ বলে। আগের রেকর্ড ছিল মিচেল ওয়েনের ৫৩৩ বলে। একই সঙ্গে ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই ১০০০ টি-টোয়েন্টি রান করা প্রথম ক্রিকেটারও হন তিনি।
আইপিএলের দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে গুজরাট টাইটান্সের বিপক্ষে ৪৭ বলে ৯৬ রান করে মাত্র ৪৪০ বলে ১০০০ আইপিএল রান পূর্ণ করেন সূর্যবংশী। আগের রেকর্ডটি ছিল আন্দ্রে রাসেলের (৫৪৫ বল) দখলে।
আইপিএল ২০২৬-এ ৩২৭ বল মোকাবিলায় ৭৭৬ রান করেন সূর্যবংশী। পুরো আসরে তার ব্যাট থেকে আসে ৭২টি ছক্কা, যা টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের কোনো একক টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ। এর আগে ২০১২ সালের আইপিএলে ৫৯ ছক্কা মেরেছিলেন ক্রিস গেইল। দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে সূর্যবংশী জেতেন অরেঞ্জ ক্যাপও।
ইংল্যান্ড সফরে কঠিন সূচনার পর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১৮ বলে ফিফটি করে মাত্র ১৫ বছর ১১৮ দিন বয়সে পুরুষদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সর্বকনিষ্ঠ হাফসেঞ্চুরিয়ান হন সূর্যবংশী। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে ৪৯ বলে ৮১ রানের ইনিংস খেলে ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতেন। ১৫ বছর ১২১ দিন বয়সে তিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দ্বিতীয় সর্বকনিষ্ঠ ম্যাচসেরা ক্রিকেটার হন।
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ১৯৬.১০ স্ট্রাইক রেটে ১৫১ রান করে সিরিজসেরা নির্বাচিত হন সূর্যবংশী। মাত্র ১৫ বছর ১২১ দিন বয়সে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ প্লেয়ার অব দ্য সিরিজ হওয়ার রেকর্ডও নিজের করে নেন তিনি।
মাত্র কয়েক বছরের ক্যারিয়ারেই বৈভব সূর্যবংশী এমন সব রেকর্ড গড়েছেন, যা বিশ্ব ক্রিকেটে তাকে ভবিষ্যতের অন্যতম বড় তারকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তার ব্যাটিং সামর্থ্য, আক্রমণাত্মক মানসিকতা এবং ধারাবাহিক পারফরম্যান্স ইতোমধ্যেই তাকে ক্রিকেট বিশ্বের অন্যতম আলোচিত তরুণ প্রতিভায় পরিণত করেছে।