সর্বশেষ সংবাদ :

বাগমারায় যুবদলের নেতাকে তিন ছাত্রদল নেতার মারপিট

স্টাফ রিপোর্টার, বাগমারা: বাগমারার গোয়ালকান্দি ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি ও উপজেলা কমিটির সদস্য আসাদুল ইসলামকে পিটিয়ে জখম করার অভিযোগে উঠেছে ছাত্রদলের তিন নেতার বিরুদ্ধে। চাঁদার দারী ও মাদক বিষয়ে প্রতিবাদ করায় আসাদুল ইসলামের উপর এই হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
হামলাকারীরা তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। আহত আসাদুল ইসলামকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আসাদুল ইসলাম ডিশ ব্যবসার (কেব্ল টিভি ও ইন্টারনেট) সঙ্গে জড়িত। হামলাকারী তিনজনের বাড়িও গোয়ালকান্দি ইউনিয়নে। তারা হলেন, নর্থ বেঙ্গল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের সভাপতি পারভেজ রানা, হামিরকুৎসা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি সুমন ও গোয়ালকান্দি ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি শাহীন আলম।
আহত আসাদুল ইসলাম অভিযোগ করেন, বৃহস্পতিবার রাতে তিনি গোয়ালকান্দি বাজারে নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বসে ছিলেন। রাত ১০ টার দিকে পারভেজ রানার নেতৃত্বে চার-পাঁচজন ছাত্রদল নেতা তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে এসে ৩ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে রাজি না হওয়ায় তারা লাঠি ও রড দিয়ে তাকে পিটিয়ে জখম করে। এ সময় তারা হামলা চালিয়ে তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভাঙচুর ও লুটপাট করে চলে যান।
এ সময় পাশে থাকা এক তরুণ তার (আসাদুলের) মুঠোফোন দিয়ে ফেসবুকে লাইভ করেন। তখন লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
আসাদুল ইসলাম শুক্রবার সকালে তার নিজ ফেসবুক আইডি থেকে পোস্ট করে বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে পারভেজ রানার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও মাদক সংশ্লিষ্টতার বিষয় নিয়ে প্রতিবাদ করে আসছিলেন। এর জেরে ও চাঁদা না দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে পারভেজ রানার নেতৃত্বে তার ওপর হামলা চালানো হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক মহব্বত হোসেন জানান, ফেসবুকে আমি বিষয়টি জেনেছি। পরে খোজ নিয়ে ঘটনা সম্পর্কে আরো জানতে পারি। আসলে সেখানে কী ঘটেছে বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি। এ বিষয়ে সিনিয়র নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনা করে তাদের পরামর্শ ক্রমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে মুুঠোফোনে যোগোযোগ করা হলে ঘটনাকে উদ্দেশ্য প্রনোদিত মিথ্যা ও ভিত্তিহীন দাবী করে বলেন, আমার কেহই আসদুলকে মারপিট করিনি। আসাদুল যে ডিস লাইনের মালিকানা দাবী করেছে সেটি তার জবর দখল করা। বিগত ৫ আগস্টের পর আসাদুল সেটি দখল করে নিয়েছি। ওই ডিস লাইনের কিছু মালিকানা রয়েছে ফাইমা নামে জনৈক মহিলার। ওই দিন ডিস লাইন নিয়ে একটি সমঝোতার বৈঠক চলছিল। ফাইমার অনুরোধে আমরা সেখানে গিয়েছিলাম। বৈঠকে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে আসাদুল ফাইমার গায়ে হাত দিয়ে তার শাড়ি ধরে টানাটানি শুরু করলে আমরা ফাইমাকে উদ্ধার করেছি মাত্র। মূল ঘটনার ভিডিও আমাদের কাছে রয়েছে। প্রকৃত পক্ষে আমাদুলের সাথে আমাদের কোন ব্যক্তিগত আক্রোশ নেই। সে বড়ভাই তাকে আমরা সেই মত শ্রদ্ধা সম্মান করে চলি।
বাগমারা থানার ওসি জিল্লুর রহমান জানান, এ বিষয়ে এখনো কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। অভিযোগ বা মামলা করলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


প্রকাশিত: July 18, 2026 | সময়: 4:14 am | সুমন শেখ