, , ।
স্পোর্টস ডেস্ক: বিশ্বকাপ ফাইনাল মানেই বিশ্বের সেরা দুই দলের লড়াই। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনাল শুধু আর্জেন্টিনা ও স্পেনের শ্রেষ্ঠত্ব নির্ধারণ করবে না, গড়বে বিশ্বকাপ ইতিহাসেরও এক অনন্য রেকর্ড। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে মাঠে নামা দুই দলের জার্সির আড়ালে থাকবে একই ক্লাবের অসাধারণ এক উপস্থিতি- স্প্যানিশ ক্লাব অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ।
রোববারের ফাইনালে আর্জেন্টিনা ও স্পেনের হয়ে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের মোট ১০ জন খেলোয়াড় মাঠে নামবেন। বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে এক ক্লাব থেকে এত বেশি ফুটবলারের প্রতিনিধিত্ব এর আগে কখনও দেখা যায়নি। ফলে ১৯৩৪ সালের পর টিকে থাকা প্রায় ৯২ বছরের পুরোনো রেকর্ড ভেঙে যাচ্ছে এবার।
স্পেন দলে রয়েছেন অ্যাটলেটিকোর চার ফুটবলার- আলেক্স বায়েনা, আলেহান্দ্রো গ্রিমালদো, মার্কোস ইয়োরেন্তে ও মার্ক পাবিল। অন্যদিকে আর্জেন্টিনা দলে রয়েছেন থিয়াগো আলমাদা, জিউলিয়ানো সিমিওনে, হুলিয়ান আলভারেজ, হুয়ান মুসো, নাহুয়েল মোলিনা ও নিকো গনসালেস- মোট ছয়জন।
বিশেষ বিষয় হলো, এটি টানা তৃতীয় বিশ্বকাপ ফাইনাল, যেখানে সবচেয়ে বেশি খেলোয়াড় এসেছে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ থেকে। ২০১৮ সালের ফাইনালে ক্লাবটির প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন ফ্রান্সের আন্তোনিও গ্রিজম্যান, লুকাস হার্নান্দেজ, থমাস লেমার এবং ক্রোয়েশিয়ার শিমে ভারসালকো। এরপর ২০২২ সালের ফাইনালেও ছিলেন গ্রিজম্যান, আর্জেন্টিনার আনহেল কোরেয়া, রদ্রিগো ডি পল ও নাহুয়েল মোলিনা।
এবারের বিশ্বকাপে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ ও আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের সম্পর্ক যেন আরও গভীর। দলের ফরোয়ার্ড জিউলিয়ানো সিমিওনে হলেন অ্যাটলেটিকো কোচ দিয়েগো সিমেওনের ছেলে। ছেলের খেলা দেখতে বিশ্বকাপজুড়ে একাধিকবার ভিআইপি গ্যালারিতে উপস্থিত ছিলেন আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি সিমিওনে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালেও শুরুর একাদশে ছিলেন জিউলিয়ানো।
অন্যদিকে অ্যাটলেটিকোর আরেক বড় তারকা হুলিয়ান আলভারেজ পুরো বিশ্বকাপজুড়েই ছিলেন দলবদলের আলোচনার কেন্দ্রে। রিয়াল মাদ্রিদ, বার্সেলোনা ও পিএসজির মতো ইউরোপের শীর্ষ ক্লাবগুলো তাকে দলে ভিড়াতে আগ্রহ দেখিয়েছে। গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, তার জন্য প্রায় ১ বিলিয়ন ইউরোর সমমূল্যের প্রস্তাবও এসেছে।
বিশ্বকাপ ফাইনালে এক ক্লাবের সর্বাধিক প্রতিনিধিত্বের আগের রেকর্ডটি ছিল ১৯৩৪ সালের। সে সময় রানার্সআপ চেকোস্লোভাকিয়ার দলে একই ক্লাবের ১১ জন খেলোয়াড় ছিলেন, যাদের মধ্যে আটজনই ফাইনালে শুরুর একাদশে খেলেছিলেন।
তবে সেই সময়ের ফুটবল ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। অধিকাংশ জাতীয় দলই নিজ দেশের লিগে খেলা ফুটবলারদের নিয়ে গঠিত হতো। ১৯৩৪ সালের চ্যাম্পিয়ন ইতালির স্কোয়াডেও জুভেন্টাসের নয়জন খেলোয়াড় ছিলেন। পুরো টুর্নামেন্টে বিদেশি ক্লাবে খেলতেন মাত্র দুইজন ফুটবলার।
সময়ের পরিবর্তনে ক্লাব ও জাতীয় দলের সম্পর্কও বদলেছে। তাই আধুনিক ফুটবলের এই যুগে একই ক্লাবের ১০ ফুটবলারের বিশ্বকাপ ফাইনালে প্রতিনিধিত্ব করাটা নিঃসন্দেহে এক ঐতিহাসিক কীর্তি, যার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ।
লেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। পাশাপাশি উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে যাওয়া ট্রলার ও নৌকা সমূহকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।